৫৭ ধারায় গ্রেফতারকৃত সাংবাদিক লতিফকে জামিন দিয়েছে আদালত

87
journalist Latif
খুলনা জেলার স্থানীয় দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়ল

ঢাকা ২ আগস্ট বুধবার, ২০১৭: খুলনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় করা মামলায় গ্রেফতারকৃত সাংবাদিক আবদুল লতিফকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালত-২। বাংলাদেশের খুলনা জেলার স্থানীয় দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় করা মমলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ।তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় লতিফের বিরুদ্ধে গত সোমবার সন্ধ্যায় মামলা দায়ের করেন যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক স্পন্দন পত্রিকার ডুমুরিয়া প্রতিনিধি সুব্রত ফৌজদার। মামলা হওয়ার পর মধ্য রাতেই লতিফকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আজ(বুধবার) খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক নুসরাত জাবিন এর আদালত গ্রেফতারকৃত সাংবাদিক আবদুল লতিফকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশ দেন।১০ হাজার টাকার বন্ডের মাধ্যমে দেয়া এ জামিনে পুলিশের চার্জশিট প্রদানের আগ পর্যন্ত মুক্ত থাকবেন সাংবাদিক আবদুল লতিফ। সাংবাদিক আবদুল লতিফ খুলনার স্থানীয় দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর বিতরণ করা ছাগল মারা যাওয়া সংক্রান্ত সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করার কারণে প্রতিমন্ত্রীর সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই লতিফের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করা হয়।

journalist Latif.
পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কাটিং যা ফেসবুকে শেয়ার করা হয়।

উল্লেখ্য,গত ২৯ জুলাই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র তাঁর নিজ এলাকা ডুমুরিয়ায় দুস্থদের  মাঝে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করেন। জুলফিকার আলী নামের এক দরিদ্র ব্যক্তিকে দেয়া একটি ছাগল সে রাতেই মারা যায়। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। আর প্রকাশিত সে খবরটি ফেসবুকে শেয়ার করে। বিতরণ করা ছাগল মারা গেছে এই মর্মে খবর, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করায় ওই প্রতিমন্ত্রীর নাকি মানহানি হয়েছে,তাই তার পক্ষ থেকে জনৈক সুব্রত ফৌজদার নামের একজন সাংবাদিক তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায়  মামলাটি দায়ের করে। এদিকে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ  সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় তার মানহানি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন,”আমি তো সবগুলি ছাগল দেই নাই। আমি যেটা দিয়েছি সেটা মারা যায নাই । মারা গেছে অন্য একটা ছাগল। আমার কাজ ঠিক থাকলে এতে কিছু আসে যায় না।’এরকম একটা মামলায় একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার করাটা কতটুকু যৌক্তিক হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মি. চন্দ বলেন, “যৌক্তিকতার’’ বিষয় সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আমার দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বলেছি এতে আমার কোন প্রকার মানহানি হয়নি। যারা মামলা করেছে তারা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে করেছে – সেটা তো তাদের ব্যাপার। আমি তো কিছু বলতে পারবো না। “

a qader
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

এ ঘটনায়,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ হচ্ছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ৫৭ ধারা বন্ধের চেয়ে এর অপপ্রয়োগ বন্ধ করা জরুরি।আজ(বুধবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মেট্রোরেলের ট্র্যাক ও এলিভেটেড স্টেশন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারার মামলার ঘটনা দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তুচ্ছ কিছু ঘটলো আর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হলো এটি ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ। এ ধারা বাতিলের চেয়ে এর অপপ্রয়োগ বন্ধ করা দরকার।’
আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার সমালোচনা করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, এটি একটি কালো আইন যে আইনে পুলিশ যে কাউকে যখন তখন গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠাতে পারে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন একই খবর পত্রিকায় ছাপা হলে তা সিআরপিসি আইনের ধারায় বিচার হবে আথচ এটাই কেউ ফেসবুকে বা আনলাইনে দিলে তাকে জামিন অযোগ্য ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হবে।