১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে

2131
পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ,(মাটি খুড়া-খুড়ির কাজ চলছে) ফাইল ফটো
পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ,(মাটি খুড়া-খুড়ির কাজ চলছে) ফাইল ফটো

জেলা প্রতিনিধি,পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নে নির্মিত হতে যাচ্ছে ১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান করতে যাচ্ছে।এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হলে দক্ষিণ অঞ্চলের. তথা বরিশাল অঞ্চলের কুয়াকাটা সমুদ্র  সৈকত ও বাংলাদেশের ৩য় সমুদ্র বন্দর পায়রা বন্দর এর  বিদ্যুতের চাহিদা পূরন সম্ভব হবে।পায়রা তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের মধুপাড়া, নিশানবাড়িয়া ও চরনিশান বাড়িয়া তিনটি মৌজার ১০০২ একর জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে সরকার।নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি এবং চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএমসি) বাংলাদেশ এবং চীনের যৌথ উদ্যোগে কলাপাড়ায় বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মিত হবে।১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে গত বছরের ২১ মার্চ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।গত বছরের ২১ অক্টোবর একনেক বৈঠকে এ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।গত ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পটির কাজ শুরু করার কথা কার্যপত্রে উলেখ করা হয়।দুই বিলিয়ন ডলারের বিদ্যুত প্রকল্পটিতে বাংলদেশ এবং চীন যৌথভাবে বিনিয়োগ করবে।উল্লেখ্য, আলট্র সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহারের মাধ্যমে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রায় এক হাজার একর ভূমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়ন করা বাবদ “ল্যান্ড অ্যাকুইজেশন, ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্রটেকশন ফর পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট থার্মাল পাওয়ার প্যান্ট’ শীর্ষক এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮২ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রঃ সংক্ষেপে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা পাওয়ার স্টেশন মানে কারখানার ব্যবহারের সুবিধা সম্পন্ন বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদনের একটি উপায়। পাওয়ার স্টেশন জেনারেটিং স্টেশন, পাওয়ার প্ল্যান্ট বা পাওয়ার হাউজ নামেও পরিচিত।পাওয়ার স্টেশনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে জেনারেটর নামের একধরনের ঘূর্ণায়মান যন্ত্র যা পরিবাহক ও চৌম্বক ক্ষেত্রের মাঝে পারস্পরিক গতি সৃষ্টির মাধ্যমে যান্ত্রিকশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। কী ধরনের জেনারেটর ব্যবহৃত হবে তা শক্তির উৎসের ওপর নির্ভর করে।এটা নির্ভর করে কি ধরনের জ্বালানীর সহজলভ্যতা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশলের উপরে তাপীয় পাওয়ার স্টেশনে যান্ত্রিক শক্তি উৎপাদিত হয় তাপ ইঞ্জিনের মাধ্যমে যা জ্বালানী জ্বালিয়ে তাপশক্তি সরবরাহ করে।বেশির ভাগ তাপীয় পাওয়ার স্টেশন বাস্প উৎপাদন করে যা বাস্পীয় পাওয়ার স্টেশন নামেও পরিচিত।তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী তাপশক্তির পুরোটা যান্ত্রিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে না।তাই পরিবেশে কিছু তাপের পরিগমন ঘটে।যদি ক্ষতিটা উপকারী তাপে পরিণত হয় তখন পাওয়ার প্ল্যান্টে সহকারী পাওয়ার স্টেশন থাকে যাকে কম্বাইন্ড হিট এ্যান্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট বলা হয়।বাস্পের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মাধ্যমে স্টিম টারবাইনের কার্যক্ষমতা সীমাবদ্ধএবং শুধু মাত্র সরাসরি জ্বালানী ব্যবহারের মাঝে সীমাবদ্ধ না।একই বাস্পীয় অবস্থার জন্য, কয়লা , নিউক্লিয়ার ও গ্যাস পাওয়ার প্ল্যান্টের তাত্ত্বিকভাবে একই কার্যক্ষমতা।তাপীয় পাওয়ার স্টেশনে জ্বালানী ব্যবহারের দিক থেকে ও প্রাইম মুভারের ব্যবহারের দিক থেকে নানা ভাগে ভাগ করা যায়।নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট ব্যবহার করে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের তাপ যা স্টিম টারবাইন জেনারেটরকে চালায়।আমেরিকাতে শতকরা ২০ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট ব্যবহার করে।ফসিলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা পাওয়ার প্ল্যান্টে, স্টিম টারবাইন জেনারেটর ব্যবহৃত হয়।কম্বাশন টারবাইন ব্যবহার করে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারকারী প্ল্যান্টগুলো।কয়লা ব্যবহারকারী পাওয়ার স্টেশনে কয়লা পুড়িয়ে বাস্প তৈরি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।তবে এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলো বিপুল পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের হয় পরিবেশে যা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।আমেরিকাতে শতকরা ৫০ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট ব্যবহার করে ।ভূ-তাপীয় পাওয়ার প্ল্যান্ট উত্তপ্ত ভূ-গর্ভস্থ পাথরের মাধ্যমে বাস্প উৎপাদন করে।পুনরায় ব্যবহার যোগ্য পাওয়ার প্ল্যান্টে আখের আবর্জনা , পয়নিস্কাসন প্রণালীর কঠিন আবর্জনা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।সূর্য তাপীয় পাওয়ার প্ল্যান্টে সূর্যের আলো ব্যবহার করা হয় পানি গরম করতে যা জেনারেটরকে চালু করে।সমন্বিত স্টীল মিলে ব্ল্যাস্ট ফার্নেস থেকে নির্গত গ্যাসের দাম কম যদিও তা নিম্ন শক্তির ঘনত্ব বিশিষ্ট জ্বালানী।কারখানা থেকে উৎপন্ন বাড়তি তাপ মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হয় যা স্টিম বয়লার ও টারবাইনে ব্যবহার করা হয়।

 কয়লা পুড়িয়ে বাস্প তৈরি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন (ফাইল ফটো)
কয়লা পুড়িয়ে বাস্প তৈরি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন (ফাইল ফটো)