১লা বৈশাখের সাথে ধর্মের কোন বিরোধ নেই : প্রধানমন্ত্রী

189
Sheikh Hasina.
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ড্যান্সিং ফাউন্টেন ও এ্যাম্পিথিয়েটার উদ্বোধন করেন।
ঢাকা,বৃহস্পতিবার ১৩ এপ্রিল ২০১৭ : আজ  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রদত্ত এক বাণীতে  বলেন,বাঙালি জাতি বর্ষবরণ উৎসবকে ধারণ করেছে তাদের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবে। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা প্রগতি এবং অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছি। বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী ও প্রবাসী বাঙালিসহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, অতীতের ভুলত্রুটি এবং গ্লানি ভুলে জীবনের সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় আমরা আশায় বুক বাধি নতুন বছরের প্রথম দিনে। দেনা-পাওনা চুকিয়ে নতুন করে শুরু হয় জীবনের জয়গান। পয়লা বৈশাখ তাই যুগ যুগ ধরে বাঙালির মননে মানসে শুধু বিনোদনের উৎস নয়, বৈষয়িক বিষয়েরও আধার। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষের উন্মেষ মূলত গ্রামীণ জীবন ঘিরে। হালখাতা উৎসব এবং গ্রামীণ মেলা ছিল একসময়ের মূল আকর্ষণ। হালখাতা এবং মেলাকে কেন্দ্র করে জারি, সারি, পালাগানের আসর বসত এবং গ্রামীণ পণ্যের বেচাকেনা হতো।প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ বৈশাখি উৎসব কালক্রমে প্রবেশ করেছে নগর জীবনে। দেশের প্রতিটি শহরেই পয়লা বৈশাখের বর্ষবরণ ঘিরে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। রাজধানী ঢাকায় আটের দশকে সংযোজন হয়েছে বাড়তি আয়োজন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’, যা গত বছরের ৩০ নভেম্বর জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। তিনি বলেন, বাঙালির এই শাশ্বত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে বর্তমান সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বাংলা নববর্ষ উৎসব ভাতা প্রবর্তন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ আমাদের সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি-মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে এই প্রার্থনা করছি।’
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ড্যান্সিং ফাউন্টেন ও এ্যাম্পিথিয়েটার উদ্বোধন করেন। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে হাতিরঝিলে গ্রান্ড মিউজিক্যাল ড্যান্সিং ফাউন্টেন এ্যান্ড এম্পিথিয়েটার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১লা বৈশাখ উদযাপনের সাথে ধর্মের কোন বিরোধ নেই। ধর্মের সঙ্গে এই ১লা বৈশাখ উৎসবের বিরোধ খোঁজার চেষ্টা করাও উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলা নববর্ষ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। পয়লা বৈশাখ সম্পূর্ণভাবে বাঙালি সংস্কৃতি যা বাঙালি সম্প্রদায় আদিকাল থেকে উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১লা বৈশাখ উদযাপনকে সম্পূর্ণ বাঙালি সংস্কৃতি হিসেবে অভিহিত করে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ পালনের আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন,মোগল আমলে সম্রাট আকবর পয়লা বৈশাখ উদযাপন শুরু করেন। পয়লা বৈশাখ যাতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে জন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে। পয়লা বৈশাখ হচ্ছে একমাত্র উৎসব যা সব ধমের মানুষ একত্রে উদযাপন করে। সে সময় থেকে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হচ্ছে এবং বর্তমানে তা সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বাঙালির অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে বাংলা নববর্ষ সম্পর্কিত। এই দিনে ব্যবসায়ীরা হালখাতা খোলার মাধ্যমে নতুন করে ব্যবসা শুরু করে এবং এ উপলক্ষে দিনটিকে উৎসবে পরিণত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউনেস্কোর কাছে মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে, মঙ্গল শোভাযাত্রা ধর্মীয় কোনো বিষয় নয়। মাটি দিয়ে হাতি, ঘোড়া, থালা-বাসন এবং কাগজ দিয়ে ফুল তৈরি করা বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই এ্যাম্পিথিয়েটার ও ড্যান্সিং ফাউন্টেশনের দর্শক ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে ২ হাজার। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক ও ঢাকা ওয়াসার পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহাম্মদ শফিউল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রকল্প পরিচালক মেজর জেনারেল আবু সাঈয়ী মোহাম্মদ মাসুদ প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন।গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী ও এলজিআরডি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।