হাসপাতালে মাহমুদুর রহমানের খোঁজ নিলেন:বেগম জিয়া

401
editor rahman
দীর্ঘ কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি লাভ করেন মাহমুদুর রহমান

দীর্ঘ কারাভোগের পর গত বুধবার ২৩ নভেম্বর ২০১৬, দুপুরে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেন মাহমুদুর রহমান। কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অাছেন আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক চিকিৎসাধীন মাহমুদুর রহমান। গতকাল ৩০ নভেম্বর, বুধবার রাতে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহমুদুর রহমানকে দেখতে যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রাত সোয়া ৯টার দিকে বেগম খালেদা জিয়া ইউনাইটেড হাসপাতালে উপস্থিত হন। তিনি সে সময় মাহমুদুর রহমানের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।হাসপাতালে মাহমুদুর রহমানের  সাথে তার মা মাহমুদা বেগম ও সহধর্মিণী ফিরোজা মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। বেগম জিয়া তার মা মাহমুদা বেগম ও সহধর্মিণী ফিরোজা মাহমুদের সাথেও কথা বলেন ও বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আফরোজা খানম রীতা, শামা ওবায়েদ, শাম্মী আখতার, আলী নেওয়াজ খৈয়াম, আমার দেশ- এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রায় সাড়ে তিন বছর কারাভোগের পর গত ২৩ নভেম্বর বুধবার তিনি  জামিনে মুক্তি পান। জামিনে মুক্তি পেতে কতই না কাট খড় পোড়াতে হয়েছে । হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ গত ৭ সেপ্টেম্বর এই মামলায় মাহমুদুর রহমানকে জামিন দেয়। এতে স্থগিতাদেশ চেয়ে চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। জয়কে অপহরণচেষ্টা ও হত্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ। মাহমুদুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন (লিভ টু আপিল) খারিজ করে দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত।প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ শুনানি শেষে তার জামিন বহালের আদেশ দেয়। আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে মাহমুদুর রহমানের কারামুক্তিতে কোনো আইনগত বাধা কোন বাঁধা থাকলো না বলে জানায় তাঁর আইনজীবী।

editor rahman
সদ্য জামিনে কারা মুক্ত মাহমুদুর রহমান

উল্লেখ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পুলিশ গত বছরের আগস্টে পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে, যা পরে মামলায় রূপান্তরিত হয়। মাহমুদুর রহমানকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পরে রিমান্ডেও নেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে মাহমুদুর রহমান কারাগারে ছিলেন। গত ৩১ অক্টোবর একটি মামলায় মাহমুদুর রহমানের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এরপর মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী বলেছিলেন, তাঁর মক্কেল সব মামলায় জামিনে আছেন। তাই তাঁর কারামুক্তিতে কোনো আইনগত বাধা নেই। এর ধারাবাহিকতায় মুক্তি পান মাহমুদুর রহমান। ২০১৩ সালের ১১ই এপ্রিল মিস্টার রহমানকে ঢাকার কারওয়ান বাজারে দৈনিক আমার দেশ কার্যালয় থেকে আটক করেছিলো আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারপতির কথোপকথন পত্রিকায় ফাঁস করার অভিযোগ ওঠার পর মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দু’টি মামলা হয় বলে পুলিশ আটকের পর জানিয়েছিলো । তবে এর আগে ২০১০ সালের জুন মাসেও আদালত অবমাননা আটক হয়েছিলেন মাহমুদুর রহমান। আদালত অবমাননার একটি মামলায় ২০১০ সালের ১৯শে অগাস্ট মাহমুদুর রহমানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বিএনপি জামায়াত জোট সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মাহমুদুর রহমানকে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০০৫ সালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। ২০০৮ সালে তিনি বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলীর মালিকানাধীন আমার দেশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেন। সে সময় থেকেই তিনি পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।