হরিপুরে হাড় কাঁপানো শীত

274

http://www.onlinesangbad.com/wp-content/uploads/2015/12/shit-1418355631.jpg

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) থেকেঃ হরিপুরে হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। উত্তর পশ্চিমের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দিনেরবেলা হিমেল হাওয়া সূর্য অস্তমিত হওয়ার পূর্বেই চারদিক যেন ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে ফেলেছে। চলতি মৌসুমে গরম কাপড়ের দোকান গুলোতে অন্য বছরের তুলনায় একটু দামও বেশি। পুরাতন গরম কাপড়ের দোকান গুলোতে কাপড় কিনার প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়। সবচেয়ে বেদনাদায়ক যে বিষয়টি পরিলক্ষিত হয় মানুষ শীত বস্ত্র ব্যবহার করলেও শিশু বাচ্চাদের বেশিক্ষণ গরম কাপড় শরীরে রাখতে চাই না। প্রসাব পায়খানা করে দেয়। কাপড় একাধিক বার বদল করলেও শীত মৌসুমে শীত জনিত রোগে শিশুদের ডায়রিয়া, সর্দি, শ্বাস কষ্ট, আমাশা ও বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। কোন কোন দিন পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখাও যায় না। রোদের অভাবে ময়লা কাপড় ধোয়ার পরেও একদিনে শুকায় না। সব চাইতে অবর্ণনীয় দুঃখকষ্ট গরু ছাগলের। তাদের শীত নিবারণের কোন ব্যবস্থাপত্র নাই। কেউ কেউ আবারচটের বস্তার ঝুল তৈরি করে তাদের চাদরে মত করে ঢাকনা দেয়। প্রচণ্ড শীতেরকারণে এ বছর আগাম শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে। বোরো ধানের বীজ তলা গুলোতে কোল্ড ইনজুরি দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসের সহিত যোগাযোগ করলে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ৭৭৩১ হেক্টর, বীজ ফেলেছে ৩৭৫ হেক্টর জমিতে। কৃষি অফিসার মোঃ নইমুল হুদা সরকার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গণ বীজ তলাতে পলিথিনের ঢাকনা ব্যবহার করতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। গ্রামাঞ্চলের লোকজন শীত নিবারণ করার জন্য সূর্য অস্তমিত হওয়ার সাথে সাথে ও কাক ডাকা ভোরে মুয়াজ্জিন আজান দেওয়ার সাথে সাথে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা যায়। হাসপাতাল গুলোতে শীতের রোগী বাড়ছে। এ ব্যাপারে হরিপুর হাসপাতালের ডাক্তার মোঃ মহসীন আলীর সহিত যোগাযোগ করলে জানান যে, শ্বাসপ্রশ্বাস কষ্ট জনিত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অপরদিকে হরিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃমোতাহার হোসেনের সহিত যোগাযোগ করলে জানান যে, ৮০০ পিস কম্বল শীত বস্ত্র এসেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল ইসলাম জানান যে, যে পরিমাণ শীতবস্ত্র পেয়েছি তা আমরা বিতরণ করে দিব।