সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জাতীয়তাবাদী শক্তির জয় হবে:খালেদা জিয়া

501
Bar Association Leaders
খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ঢাকা বারের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ

ঢাকা,সোমবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭: ঢাকা আইনজীবী সমিতি’র নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুভেচ্ছা বিনিমিয় করতে আসেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতি’র নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিমিয়কালে বেগম খালেদা জিয়া বলেন,আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ তাদের আজ্ঞাবহ অযোগ্য, বিতর্কিত ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করেছে। তিনি বলেন,আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে কীভাবে বিজয়ী হবে,সে পরিকল্পনা তারা করে রেখেছে। সে জন্য তারা তাদের আজ্ঞাবহ একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বসিয়েছে। এই সিইসি জনতার মঞ্চের লোক তাই কোনোভাবে তিনি যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তি নন। তাহলে বুঝতে পারছেন,যে আওয়ামী লীগের মতলবটা কোনমতেই ভালো নয়। আমরা বিশ্বাস করি, যদি ফেয়ার নির্বাচন হয়, ভবিষ্যতে জনগণ আবারো আমাদের ক্ষমতায় আনবে। সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণ বিএনপিকেই ক্ষমতায় বসাবে,আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ফল তার প্রমাণ। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জাতীয়তাবাদী শক্তির জয় হবে। বিএনপি জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায় কোন চোরা পথে ক্ষমতায় যেতে চায় না। তিনি ঢাকা বারের মতো, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনেও বিএনপি সমর্থিত প্যানেলকে বিজয়ী করতে আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ২২ ও২৩ শে ফেব্রুয়ারি দুই দিন ধরে ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০১৭-১৮ কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০১৭-১৮ কার্যনির্বাহী পরিষদের এবারের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল ২৭টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে বিজয়ী হয়েছে।বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেল ৯টি সম্পাদকীয় ও ১২টি সদস্য পদ পেয়েছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের আইনজীবীরা ট্রেজারারসহ ৬টি পদে জয়ী হয়েছেন।আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল ৩টি সম্পাদকীয় ও ৩টি সদস্য পদ পেয়েছেন।
বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলে ৯টি সম্পাদকীয় পদে বিজয়ীরা হলেন- সভাপতি খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম খান বাচ্চু, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি  মো. রুহুল আমিন, সহসভাপতি কাজী মো. আব্দুল বারিক, জ্যেষ্ঠ সহসাধারণ সম্পাদক মো. সারয়ার কায়সার (রাহাত), সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, লাইব্রেরি সম্পাদক আবুল কালাম আযাদ, দফতর সম্পাদক মো. আফানুর রহমান (রুবেল) ও ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম)।বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের বিজয়ী ১২ জন সদস্য হলেন- আরিফ হোসাইন তালুকদার, মো. আনোয়ার পারভেজ কাঞ্চন, মো. শহিদুল্লাহ, মো. শওকত উল্লাহ, মোহাম্মাদ আবুল কাশেম, মোস্তফা সারওয়ার মুরাদ, মোস্তরী আক্তার নুপুর, মিনারা বেগম, পান্না চৌধুরী, সৈয়দ মোহাম্মাদ আমিনুল হোসাইন পান্নু ও তামান্না খানম এরিন।
আগামী মাস থেকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম ২২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন,এসময় গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ‘অনৈতিক ও গণবিরোধী।গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের অনেকে বেতন-টেতন পায়, টাকা-পয়সা আয় করার অনেক সোর্স আছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, গ্যাসের দাম কম ছিল, সেজন্য বাড়ানো হয়েছে। দেখেন, এদের আমলেই বোধহয় পাঁচ দফা গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। আবার বলছে, বিদ্যুতের দাম বাড়াবে। তাহলে মানুষ তো গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল দিতে দিতে শেষ হয়ে যাবে। গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে, অথচ গ্যাসের কোনো উন্নতি হচ্ছে না। গ্যাসের চাপ এত কম, কোথাও কোথাও রান্নার গ্যাসই থাকেনা,রান্না করাই মুশকিল হয়ে যায়।
বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশকে দলের কর্মী বানিয়ে দলীয়ভাবে ব্যবহার করছে। এমনসব অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়, কীভাবে দলের হয়ে তারা কাজ করবে। আপনারা সকলেই দেখেছেন, গাইবান্ধার সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশ কীভাবে আগুন ধরিয়ে গরীব মানুষের বাড়ি-ঘর পুঁড়িয়েছে। তাহলে বুঝা যাচ্ছে, কারা গাড়ি-ঘোড়ায় আগুন দেয়? আর কাদের নামে-বেনামে মামলা হয়। আমরা যখন আন্দোলন করেছি, তখনও পুলিশ দিয়ে তারা বিভিন্ন স্থানে ও গাড়িতে আগুন লাগিয়ে কিংবা বোমা মেরেছে মানুষ হত্যা করেছে আর দোষ দিয়েছে বিএনপিকে তথা বিরোধীদলকে।বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের উপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দিয়েছে। কিন্তু ওইসব কাজ করেছে পুলিশ।’
গাইবান্ধায় সরকার দলীয়ি এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল কাদের খানের সম্পৃক্ততার প্রমাণের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সরকারের শরিকরাই এসব করেছে। তাদের শরিকদের মধ্যে এমনও আছে, যাদের ইতিহাস আছে অতীতে অনেক মানুষ খুন করার, হত্যা করার। জনগণ তাদের বিশ্বাস করে না, তারা কখনো নিজের এলাকা থেকে নির্বাচিত হতে পারে নাই। এবার আওয়ামী লীগ নৌকা নিয়ে জোর-জুলুম করে, পুলিশের সাহায্য নিয়ে, নির্বাচনে জিতেছে।

khaleda zia
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া

জনসম্পৃক্ত এসব বিষয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সোচ্চার হওয়ার আহবান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘মানুষের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। আমাদের কর্মসূচি দিতে হবে। কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন, আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, ঢাকা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম খান বাচ্চু প্রমুখ।