সাবেক মন্ত্রী ও মুন্নু গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হারুণার রশিদ খান মুন্নু এন্তেকাল করেছেন

64
Monno
বিশিষ্ট শিল্পপতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুণার রশিদ খান মুন্নু এস্তেকাল করেছেন।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
ঢাকা মঙ্গলবার ১ আগস্ট ২০১৭: বিশিষ্ট শিল্পপতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুণার রশিদ খান মুন্নু আর নেই।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৬ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে তার নিজ বাসভবন মানিকগঞ্জের গিলন্ড মুন্নু সিটিতে আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টায় তিনি এন্তেকাল করেছেন। তিনি স্ত্রী হুরুন নাহার, দুই কন্যা-আফরোজা খান রিতা ও ফিরোজা মাহমুদ পারভীনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। তার শারীরীক অবস্থার অবনিতি ঘটলে গত ২২ জুলাই তাকে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা। কিছুটা উন্নতি হওয়ায় সেখান থেকে গতকাল সোমবার বিকালে মানিকগঞ্জের মুন্নু সিটির বাসভবনে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়।
জ্যেষ্ঠ কন্যা আফরোজা খান রিতা মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বর্তমানে লন্ডন অবস্থান করছেন, সেখান থেকে আগামীকাল সকালে তাঁর ঢাকার ফেরার কথা রয়েছে। তার পরই হারুনার রশিদ খান মুন্নুর দাফন সম্পন্ন হবে।কনিষ্ঠ কন্যা ফিরোজা মাহমুদ পারভীন সাবেক বিএনপি সরকারের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও বিশিষ্ট সিরামিক ইন্জিনিয়ার জনাব মাহমুদুর রহমানের স্ত্রী।
হারুনার রশিদ মুন্নুর মরদেহ আজ ঢাকায় নিয়ে আনা হবে। সেখানে বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। আগামীকাল বুধবার তাঁর ৬টি জানাজা হবে বলে জানা গেছে। আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে । এরপর বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে মানিকগঞ্জে এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় তার নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান ধামরাইয়ের মুন্নু সিরামিকসে তৃতীয় জানাজা হবে। সেখানে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ মাঠে দুপুর দেড়টায় চতুর্থ জানাজা হবে। তারপর এ রাজনীতিবিদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর জন্মস্থান গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার পাটগ্রামে। সেখানে দুপুর আড়াইটায় পাটগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পঞ্চম জানাজা হবে। ষষ্ঠ ও শেষ জানাজা হবে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মাঠে বিকেল ৪টায়। তারপর গিলন্ড মুন্নু সিটিতে মসজিদের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
Harun Rashid Khan
বিশিষ্ট শিল্পপতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুণার রশিদ খান মুন্নু।
১৯৩৩ সালের ১৭ আগস্ট মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার পাটগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে মানিকগঞ্জ মডেল হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, জগন্নাথ কলেজ থেকে আইককম ও বিকম এবং প্রাইস ওয়াটার হাউস পিট অ্যান্ড কোম্পানী থেকে চার্টার্ড একাউন্ট (সিএ) কোর্স সম্পন্ন করেন।
মুন্নু আর্ট প্রেসের মাধ্যমে তার যে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল, তার পূর্ণতা পায় মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। তিনি মুন্নু সিরামিক, মুন্নু জুটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, মুন্নু ফ্যাব্রিকস ও মুন্নু অ্যাটায়ার লিমিটিডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে রেখেছেন অনন্য অবদান। মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, মুন্নু নার্সিং ইনস্টিটিউট, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তার উদাহরণ।
Harun Rashid Khan
বিশিষ্ট শিল্পপতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুণার রশিদ খান মুন্নু এস্তেকাল করেছেন।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি পরবর্তীতে রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
হারুণার রশিদ খান মুন্নু পরবর্তীতে রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে এবং ২০০১ সালে মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়ে তিন বার জাতীয় সংসদস সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে দুটি আসনে জয়লাভ করায় তিনি দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হন।
এই বিশিষ্ট এ শিল্পপতির মৃত্যুতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।