সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সমালোচনার ঝড় !

106
Supreme Court
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
ঢাকা,বুধবার,২৩ আগস্ট ২০১৭:গতকাল মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগে ব্যাংক সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা বলেছেন, সমাজে যেসব ঘটনা ঘটে তা আমাদের বিবেককে স্পর্শ করে।গত ১ আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীরা আপিল বিভাগ ও বিচারপতিদের সমালোচনা করে বিভিন্ন বক্তব্য রাখছেন।রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বাংলাদেশের রাজনীতি, সংসদ, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে মত দিয়েছেন তার আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।এরই জবাবে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ করে বলেন,বিচার বিভাগ তথা ‘আমরা যথেষ্ট ধৈর্য্যের পরিচয় দিচ্ছি।উল্লেখ্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল ৩ জুলাই খারিজ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়।‘বিচারকদের পদের মেয়াদ’-সংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনী বিল অনুসারে, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ২ দফায় বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতাসংক্রান্ত বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘প্রমাণিত ও অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত কোনো বিচারককে অপসারিত করা যাবে না।’৩ দফায় বলা হয়েছে, এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন প্রস্তাব-সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোনো বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করবে। একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত ৪ জানুয়ারি আপিল করে। আপিলের ওপর গত ৮ মে শুনানি শুরু হয়, যা ১১তম দিনে গত ১ জুন শেষ হয়। ওই দিন আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। গত ৩ জুলাই রায়ের সংক্ষিপ্তসার ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।গত ১ আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনার ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় গত ১ অগাস্ট প্রকাশের পর থেকেই প্রধান বিচারপতির সমালোচনায় মুখর সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা।
Surendra Kumar Sinha
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা।
গত ১২ আগস্ট রাত ৮টার দিকে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে গিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার বাসভবনে নৈশভোজে অংশ নেন ওবায়দুল কাদের। নৈশভোজ ছাড়াও তাদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা একান্তে বৈঠক হয়।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী।বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।জানা যায় উল্লেখিত বৈঠকে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আলোচনা হয়।
Sheikh-Hasina
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায়,ষোড়শ সংশোধনীর বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার করা মন্তব্যের সমালোচনা করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা সহ্য করা হবে না। উল্লেখ্য অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরিবিধি নিয়ে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমরা বিচার বিভাগ ধৈর্য ধরছি। যথেষ্ট ধৈর্য ধরছি। আজকে একজন কলামিস্টের লেখা পড়েছি… সেখানে ধৈর্যর কথাই বলা হল। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে ইয়ে অযোগ্য করল। সেখানে কিছুই আলোচনা-সমালোচনা হয়নি। আমাদের আরও পরিপক্কতা দরকার।তার এই বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,সব সহ্য করা যায়, কিন্তু পাকিস্তানের সাথে তুলনা করলে আমরা কিছুতেই সহ্য করব না। পাকিস্তান রায় দিল দেখে কেউ ধমক দেব তা হবে না। আমি জনগণের কাছে বিচার চাই। কেন পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করা হলো? আমাকে এসব হুমকি দিয়ে কোনো কাজ হবে না।”শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া, জিয়া ও এরশাদকে দেখেছি। তাই আমি জনগণের কাছে বিচার চাই, যে পাকিস্তানকে আমরা ১৯৭১ সালে পরাজিত করেছি এবং যেটি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র, সেটির সঙ্গে কেন তুলনা করা হলো?’বিচারকদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আপনাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, জাতীয় সংসদের সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। জনগণই এই প্রজাতন্ত্রের মালিক।”তিনি বলেন,যাদেরকে আমরাই নিয়োগ দিয়েছি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন: তার নাকি সংবিধানের কিছু কিছু অনুচ্ছেদ পছন্দ না। তার মনে রাখতে হবে, এই সংবিধান বঙ্গবন্ধুর দিয়ে যাওয়া। তার যেগুলো পছন্দ সেগুলো জিয়ার শাসন আমলে প্রচলিত ছিল। তাকে মনে রাখতে হবে, আমার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গিয়েছিলেন বলেই আজ আপনি ওই চেয়ারে বসতে পেরেছেন।শেখ হাসিনা প্রশ্ন রাখে বলেন, “পার্লামেন্টকে হেয় করা, পার্লামেন্ট নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করা হলো এটার অর্থটা কী? আমাদের প্রধান বিচারপতির রায়ে পার্লামেন্ট সম্পর্কে বক্তব্য, সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে বক্তব্য, এমনকি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাও নিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা- এটা কোন ধরনের কথা?” অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে টানাপড়েন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি… সে ক্ষমতাও কেড়ে নিতে চাচ্ছেন? যে ক্ষমতা সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে, সে ক্ষমতা কেড়ে নেন কীভাবে? সেটা দেয়া হচ্ছে না বলেই যত রাগ, আর গোস্বা, আর অ্যাটর্নি জেনারেলকে যা তা মন্তব্য করা হচ্ছে। কেন? পার্লামেন্টের মেম্বারদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা, এটা তো উচ্চ আদালতের দায়িত্ব নয়।
Fakhrul Islam Alamgir
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা শুকানপুকুরী কালীগঞ্জ এলাকায় বন্যা কবলিত অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,”আওয়ামী লীগ বরাবরই হুমকি, ধমকি ও ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে চলছে কাজ করে চলেছে। এখন বিচার বিভাগকেও তারা ছাড় দিচ্ছে না। আওয়ামী লীগের উপনেতা, পাতি নেতারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে। এখন সর্বোচ্চ নেতাও একই ভাষায় কথা বলছে। আওয়ামী লীগ এমন ভাব দেখাচ্ছে যেন- এদেশের মালিক, জোতদার, জমিদার, রাজা-প্রজা সবই তারা। আর আমরা সকলই তাদের হুকুমের গোলাম। আওয়ামী লীগ হুকুম করবে, আমাদেরকে তাদের ইচ্ছে মত চলতে হবে।মির্জা ফখরুল বলেন,আপিল বিভাগ যে সকল সত্য কথাগুলো বলেছে আওয়ামী লীগের মধ্যে আগুন জ্বলে উঠেছে। কেন বিচার বিভাগের মুখ থেকে এসব কথা বের হলো? এজন্য তারা এখন বিচার বিভাগেও আক্রমণ করছে।এই সরকার জনগনের ওপর জেল জুলুম, অত্যাচার চালাচ্ছে, অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।
National Awami Party
জাতীয় প্রেস ক্লাবে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ-ভাসানী) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ-ভাসানী) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, “সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সরকার ও আওয়ামী লীগ এখন দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে সমাজের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। এ জন্য সরকারের মাঝে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তারা এখন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বিষেদগার করছে।”তিনি বলেন,আওয়ামী লীগ ধরো-মারো হুমকি দিয়ে প্রধান বিচারপতিকে অপসারণ করতে চাইছে। সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছে। এই অবৈধ ক্ষমতার মায়া তারা ত্যাগ করতে পারছে না। এ জন্যই তাদের এত ভয় পাওয়া, আর হুমকি-ধমকি দেওয়া।”সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সরকার বলছে আজকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করবেন না। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট একটা উদাহরণ দেওয়াতে অসন্তুষ্ট হয়ে গেলেন। পৃথিবীর কোনো দেশ যদি ভালো দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে, সেটা তো সকলেরই অনুকরণীয় হওয়া উচিত। কিন্তু ভালো দৃষ্টান্ত সরকার নেবে না। কারণ তারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না।”সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “খায়রুল হক কত নিচুমানের হতে পারে অর্থের লোভের জন্য। এই খায়রুল হকই গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। আমরা আইন প্রক্রিয়ায় জনগণের মাধ্যমে তাঁকে শাস্তি দিতে চাই। মইনউদ্দিন, ফখরুদ্দীন আর আজকের এই সরকার একই নৌকার মাঝি। এই সংসদকে কার্যকর করতে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”যারা গুম-খুন-গণহত্যা, ধর্ষণ ও ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি করে, তারাই এই সরকারের কাছে সম্মান পায়। ব

Obaidul Quader
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ছাত্রলীগের উদ্যোগে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপির বলার মতো কিছু না থাকায় আদালতকে তারা ইস্যু করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, বিএনপি জানে জনগণ তাদের ভোট দেবে না। সে কারণে তারা বিভিন্ন ইস্যু খুঁজছে। জনগণের সাথে যে ইস্যুর সম্পর্ক নেই বিএনপি সেটা নিয়ে মাথা ঘামায়, যদি এর থেকে কোনো ফায়দা নেয়া যায়। তাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় ইস্যু হচ্ছে আদালতের ইস্যু। আদালতের ইস্যু নিয়ে তারা রঙিন স্বপ্ন দেখছে। তাদের এ রঙিন স্বপ্ন সফল হবেনা,চুপসে যাবে।আজ তিনি বলেন, বিএনপি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আরেকটি ১/১১ করতে চাইছে। কিন্তু এ স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে দেয়া হবে না।বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা হয়তো ভেবেছে এই সরকারের আর  রক্ষা নেই। এখন ক্ষমতার ময়ূর সিংহাসন তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু তাদের দিবা-স্বপ্নের ফাঁপা বেলুন অচিরেই চুপসে যাবে।
Amir Hossain Amu
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা এখনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ১৯৭১ সালে যেমন বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি, তেমনি এখনও তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায় না। তাদের কারসাজিতেই বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। তারা চায় বাংলাদেশ পাকিস্তানের মত একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হোক।তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পর সংবিধান থেকে চার মূলনীতিকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল। পাশাপাশি জাতীয় চার নেতা হত্যা, গোলাম আজমকে রাজনীতির সুযোগদান, বেতারের নাম বদলিয়ে রেডিও বাংলাদেশ করা ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী কর্মকান্ড প্রমাণ করে এর পেছনে বাংলাদেশকে নব্য পাকিস্তান বানানোর একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল।
Khandaker Mosharraf Hossain
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘রাজনীতিবিদরা মুখ খুললে সম্পর্কের অবনতি ঘটবে। আমাদের দিয়ে বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করাবেন না। উচ্চ আদালতকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করাবেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা উচ্চ আদালতকে অনেক সমীহের চোখে দেখি।বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে বলেই আজকে সংসদ, সংবিধান ও বিচার ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণই প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক। জনগণকে বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করালে তার ফল দেশের জন্য কল্যাণকর হবে না। তিনি বলেন, দয়া করে আমাদের ধৈর্য্যরে পরীক্ষা নিবেন না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের রাজনীতিবিদরা অসীম ধৈর্য্যরে পরিচয় দিয়ে আসছেন।মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উচ্চ আদালতকে অনেক সমীহের চোখে দেখি। আগস্টের ১ তারিখ যখন জাতি শোকে মুহ্যমান সেই সময় ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে কি প্রতিক্রিয়া হবে এটা অনেকে বুঝতে পারেন নি।’সাংসদদের অপরিপক্ক বলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এর ভেতরে কোন অশুভ সন্ধি আছে। ৩৫০ জন সংসদ সদস্যকে অপরিপক্ক বলা জাতিকে অপরিপক্ক বলার সামিল।’
Awami Lawyers Council
বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ
গতকার মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন চত্বরে এক মানববন্ধন থেকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগ দাবি জানায়।  প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগ দাবি প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাণা দাশগুপ্ত বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সরকারি দল যেভাবে প্রধান বিচারপতি ও উচ্চ আদালত নিয়ে শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দিচ্ছে তাতে বিচার বিভাগের ভাবমার্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। একই সাথে এ ব্যাপারে জনগণের মধ্যেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
Hasan Mahmud
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ
গতকাল চট্টগ্রামে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে।চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রলীগ ও বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ আয়োজিত এক মানববন্ধনে হাছান মাহমুদ বলেন, এ রায়ে বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ কারণে প্রধান বিচারপতি সংবিধান লংঘন করেছেন। সুতরাং তিনি পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছে। তাই তার পদত্যাগের আহবান জানাচ্ছি। হাছান মাহমুদ করেন, “অতীতে বাংলাদেশে প্রধান বিচারপতির দরজায় লাথি মারা হয়েছে। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক তা চাই না। আরেকজন প্রধান বিচারপতি এজলাসে বসতে পারেননি। বিদায় নিতে হয়েছে। আমরা চাই না দেশে সেই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক। আপনি দয়া করে পদত্যাগ করুন। দেশের জনগণ অনেক ধৈর্য ধরেছে। দেশের জনগণ অনির্দিষ্টকালের জন্য ধৈর্য ধরবে না।
Mosherefa Mishu
গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু
গতকাল তোপখানা রোডে কমরেড নির্মল সেন মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা নেতৃবৃন্দ বলেছেন ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সরকার সীমালংঘন করে যাচ্ছে।গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাম মোর্চা নেতৃবৃন্দ বলেন,সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা, তাদের সমর্থিত আইনজীবীরা, মন্ত্রী-এমপিরা,এই রায়, রায়ের পর্যবেক্ষণ, উচ্চ আদালত, এমনকি প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করে যে সব বক্তব্য দিচ্ছেন যা উচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণার সামিল।বাম মোর্চার নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকার ও সরকারি দল, মন্ত্রীবর্গ, তাদের বিভিন্ন স্তরের লোকজনের এমন অপতৎপরতা সৃষ্টি করছে,যা সত্যিই আদালত অবমাননার নজীরবিহীন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। আইনসিদ্ধ পথে না হেটে যুদ্ধংদেহি মনোভাব নিয়ে উচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে তারা যেভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন সেটা  বিচারব্যবস্থার মূলে কুঠারাঘাতের সামিল।বাম মোর্চা নেতৃবৃন্দ সরকার ও সরকারি দলকে বিচার বিভাগকে ধ্বংস করার আত্মঘাতী খেলা অবিলম্বে বন্ধের আহবান জানান।সংবাদ সম্মেলনে মোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতাশুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহবায়ক হামিদুল হক প্রমুখ।
Democratic Left Morcha
গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা নেতৃবৃন্দের সংবাদ সন্মেলন।
 বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে বলেই আজকে সংসদ, সংবিধান ও বিচার ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণই প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক। জনগণকে বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করালে তার ফল দেশের জন্য কল্যাণকর হবে না। তিনি বলেন, দয়া করে আমাদের ধৈর্য্যরে পরীক্ষা নিবেন না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের রাজনীতিবিদরা অসীম ধৈর্য্যরে পরিচয় দিয়ে আসছেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা উচ্চ আদালতকে অনেক সমীহের চোখে দেখি। আগস্টের ১ তারিখ যখন জাতি শোকে মুহ্যমান সেই সময় ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে কি প্রতিক্রিয়া হবে এটা অনেকে বুঝতে পারেন নি।’সাংসদদের অপরিপক্ক বলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এর ভেতরে কোন অশুভ সন্ধি আছে। ৩৫০ জন সংসদ সদস্যকে অপরিপক্ক বলা জাতিকে অপরিপক্ক বলার সামিল।’