ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা

144
ঢাকা,শনিবার,১২ আগস্ট ২০১৭:’ষোড়শ সংশোধনী’ বাতিলের রায় নিয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা: 
Supreme Court
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
 বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণার পরে আওয়ামী লীগ তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছে। তারা এমন সব মন্তব্য করছে যেগুলো শুধু অশালীনই নয়, আদালত অবমাননারও শামিল।আওয়ামী লীগ একটা দানবীয় সরকারের পরিণত হয়েছে,দানবের মতো সবকিছুকে ধ্বংস করে দিচ্ছে,গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে,গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে, মানুষের মূল্যবোধকে ধ্বংস করেছে।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে ইঙ্গিত করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন ‘আমরা আবার দুঃসময়ে পতিত হয়েছি। আমরা চক্রান্তের মুখে পড়েছি। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও শেখ হাসিনার অর্জনকে পণ্ড করার জন্য একটি দল বিষধর সাপের মতো সুযোগ পেলেই ছোবল মারে।
বাংলাদেশ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ের প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন,প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটাক্ষ করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। এজন্য প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্যে ধিক্কার জানাই। জনগণের মনে আঘাত দিয়ে উপযাচক হয়ে কোনো রায় দেবেন না। যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় এই রায়ের মধ্যে আছে, আপনারা তা পুনর্বিবেচনা করেন যাতে বিচারব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।কারন বিচারব্যবস্থা হলো জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল।”জনগণের মনে দুঃখ দিয়ে কোনো বিচারকার্য সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়ায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অপসারণ দাবি করেছেন।তিনি বলেছেন,‘তাঁর যদি নৈতিকতা থাকে,তাঁর যদি সামান্যতম জ্ঞান থাকে, সামান্যতম বুঝ থাকে,তাহলে তিনি স্বেচ্ছায় চলে যাবেন। না হলে আইনজীবীরা তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবেন। মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সঙ্গে আঁতাত করে বেশি দিন এই মসনদে থাকতে পারবেন না।’
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে ‘পূর্ব পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দেয়ায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়,সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন,বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হক ‘গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছেন।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন,বাংলাদেশ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ‘বিদ্বেষপূর্ণ ও আবেগতাড়িত’।তিনি বলেন,‘এ রায় গ্রহণযোগ্য নয়, কিন্তু আমরা এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। শ্রদ্ধেয় আপিল বিভাগ যে যুক্তিতে তা বাতিল করেছেন তা যুক্তিযুক্ত না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিচার বিভাগ ও সংসদ কোনও পাওয়ার কনটেস্টে নামেনি।’মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি তার রায়ে অনেক অপ্রাসঙ্গিক কথা বলেছেন। যা ফ্যাক্ট ইন ইস্যুর সঙ্গে একদমই সম্পর্কিত নয়। তিনি জাতীয় সংসদ সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন এবং এই প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। তাই মনে করি, এসব রাজনৈতিক প্রশ্ন আদালত কর্তৃক বিচার্য হতে পারে না। আমরা তার এই বক্তব্যে দুঃখিত।
বাংলাদেশ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আইন কমিশনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) বলেছেন, ‘রায় ঘোষণার পর রায়ের গঠনমূলক সমালোচনা যে-কেউ করতে পারেন। তা না হলে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে, সরকার বা বিরোধী দল- কারও ট্র্যাপে আমরা পড়ব না।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বিএনপিকে উদ্দেশ্যকরে বলেন,ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে এত লাফালাফি না করে বর্রং পঞ্চম সংশোধনীর রায় পড়ে দেখে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করেন। কারন ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে আদালত জিয়াউর রহমানের সময়ে করা সামরিক আইনের সমালোচনা বরেছেন। তাই ‘পঞ্চম সংশোধনীর রায়ের ৩৫৪ প্যারা অনুযায়ী বিএনপি তো অবৈধ হয়ে যেতে পারে।