লোকসঙ্গীত ব্যান্ড ’দোহারের’কালিকাপ্রসাদ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

418
kalikaprasada
বাংলা লোকসঙ্গীত ব্যান্ড ‘দোহার’-এর প্রধান গায়ক কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য

কলকাতা প্রতিনিধি,মঙ্গলবার,৭ মার্চ ২০১৭  :বাংলা লোকসঙ্গীত ব্যান্ড ‘দোহার’-এর প্রধান গায়ক কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। কলকাতা থেকে বীরভূমের সিউড়ি শহরের দিকে যাবার পথে হুগলির জেলার গুড়াপ নামক স্থানে তাঁদের বহনকারী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।পুলিশ সূত্রে জানা যায় গুড়াপের কাছে গাড়িটির টায়ার ফেটে যায় এতে তাঁদের বহনকারী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি কার্লভার্টের সাথে ধাক্কা লাগে। এরপর গাড়িটি  নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে নর্দমার খাদের মধ্যে পড়ে । গাড়িতে কালিকাপ্রসাদসহ গাড়িতে মোট পাঁচ জন সদস্য ছিলেন । হাসপাতালে পৌঁছার আগেই শিল্পী কালিকাপ্রসাদের মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা জানান। গুরুতর আহতদের সবাইকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের অবস্থা সংকটজনক। হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা যায় আহতদের মধ্যে, নীলাদ্রি রায়, অর্ণব রায়, সন্দীপন পাল, সুদীপ্তা চক্রবর্তী এবং গাড়ির চালক রাজীব দাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত জায়গাটিতে উদ্ধারকাজ চালানো বেশ কষ্টকর ছিল।যার কারনে তাদের উদ্ধার তৎপরতা চালাতে দেরি হয়ে যায়। ফাঁকা এলাকা হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রথমে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে পারেননি।

Folk band Dohar
বাংলা লোকসঙ্গীত ব্যান্ড ’দোহার এর সঙ্গীত পরিবেশনা

বাঙালির কাছে ‘দোহার’ এখন পরিচিত নাম,একটি গর্ব৷ শুধু পরিচিত বলা ভুল, নতুন প্রজন্মের কাছে লোকগান ও দোহার যেন একাকার হয়ে আছে৷ মি. ভট্টাচার্য আসামের শিলচরের অধিবাসী। বড় হওয়া, সঙ্গীত শিক্ষা – সবই সেখানে। কলকতায় ১৯৯৯ সালে আরও কয়েকজন বন্ধু গায়ক-যন্ত্রীর সঙ্গে তিনি তৈরি করেছিলেন ‘দোহার’ ব্যান্ড।পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপূর্বাঞ্চল এবং বাংলাদেশের নানা ধরণের লোকসঙ্গীত সংগ্রহ করে সারা পৃথিবীর বাঙালীদের কাছে পরিবেশন করত ‘দোহার’। শির্পী কালিকাপ্রসাদ সঙ্গীত পরিবেশন ছাড়াও লোকসঙ্গীত নিয়ে গবেষণাও করতেন । তিনি সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ভুবন মাঝি চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন ।

Folk band Dohar.
সঙ্গীত পরিবেশনরত বাংলা লোকসঙ্গীত ব্যান্ড ’দোহার এর শিল্পীরা

বাংলা ব্যান্ড যখন বাংলা গানের ইতিহাসে নতুন পরিবর্তন আনছে, তখন লোকগানকে নতুন আঙ্গিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে দোহার৷ যার প্রাণপুরুষ ছিলেন কালিকাপ্রসাদ৷ পরিবেশনা, আঙ্গিক নিয়ে সর্বদাই মেতে থাকতেন পরীক্ষা-নিরীক্ষায়৷ শুধু নাগরিক মঞ্চে তুলে ধরাই নয়, রিয়ালিটি শোয়ের মতো জায়গাতেও তিনি জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন লোকগানকে৷ যে নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও সর্বোপরি প্যাশন ছিল তাঁর কাজে, তাই তাঁকে সুরের জগতে অতিপ্রিয় ‘কালিকাদা’ করে তুলেছিল৷ কিন্তু সাত সুরের সে খেয়া পারাপার যে এভাবে থেমে যাবে কে জানত! থেকে গেল স্ত্রী-কন্যা, থেকে গেল বন্ধুদের চোখের জল৷ সংস্কৃতির জগৎ হারাল নিষ্ঠাবান গবেষককে৷ সংগীত হারাল তার আর এক সাধককে৷ শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রীও৷ তবু শেষযাত্রায় আর কেউ দোহার থাকে না, জীবনের গানও বোধহয় শেষমেশ স্বীকার করে নেয় এই নির্মম সত্যিকে৷ জীবনের সমস্ত সফলতা ফেলে তাই চলে যায় মানুষ, যেমন চলে গেলেন কালিকাপ্রসাদ৷ শুধু রেখে গেছেন তাঁর স্ত্রী,এক শিশুকন্যা ও অসংখ্য গুণমুগ্ধ মানুষ।