রোহিঙ্গাদেরপ্রতি অত্যাচার ও পুশিং বন্ধে মায়ানমারকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান।

46
Rohingyas-torture
মায়ানমার সরকারের অত্যাচার ও নির্যাতনের কারনে অসহায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় আশ্রায় নিয়েছে।
ঢাকা,বুধবার ৩০ আগস্ট, ২০১৭:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশে জোর করে ঠেলে দেয়া (পুশিং) বন্ধ করতে মায়ানমারের প্রতি চাপ প্রয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস’র সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান।বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘মানবিক বিবেচনায় আমরা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছি এবং এটি আমাদের জন্য একটি বিরাট সমস্যা। এজন্য মায়ানমারের প্রতি প্রবল চাপ বাড়ানোর জন্য আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। প্রেস সচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে কোন রাজনৈতিক সংলাপ হয়েছে কিনা।জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মায়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ রয়েছে।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এলিস ওয়েলস সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে একত্রে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের ভুয়সী প্রশংসা করেন।এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা আমাদের ভূমি ব্যবহার করে অন্যান্য দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেব না।’প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মৃত্যুদ-ে দ-িত বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রত্যাবাসনে তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।বিভিন্ন খাতে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের চমৎকার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। বেসরকারি খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সকল খাত বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দিয়েছে।দেশের গণমাধ্যম পুরোপুরি স্বাধীনতা ভোগ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যম খোলাখুলিভাবে সরকারের সমালোচনা করছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে কোন হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে বর্তমানে ৭৫০টি দৈনিক পত্রিকা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বেসরকারি খাতে ৪৪টি টিভি চ্যানেলের অনুমতি দিয়েছি। এর মধ্যে ২৪টির কার্যক্রম চলছে।’
নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।তিনি বলেন, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, শিক্ষা, সশস্ত্র বাহিনী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মতো সকল ক্ষেত্রে দেশের নারী সমাজ উচ্চ পদে রয়েছে।বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালের মাত্র ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে দু’দেশের বাণিজ্য এখন বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক তাৎপর্যপূর্ণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে বাংলাদেশের আরএমজি পণ্যের বৃহত্তম বাজার।
মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিশেষ করে ৭.২৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং ঢাকাস্থ মার্কিন চার্জ দ্য এ্যাফেয়ার্স উপস্থিত ছিলেন।সূত্রঃবাসস।
Rohingyas torture violence
মিয়ানমার সরকারের সেনাবাহিনীর অত্যাচার,নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য।
এদিকে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। মায়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির জন্য জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজন। এজন্য জাতিংসঘের ত্রাণকর্মীদের রাখাইন রাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।একই সঙ্গে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি।মঙ্গলবার জেনেভায় প্রকাশিক এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান ইউএনএইচসিআর এর মুখপাত্র আদ্রিয়ান এডওয়ার্ডস।বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে ত্রানকর্মীদের প্রবেশ কড়াকাড়িভাবে বন্ধ রেখেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এ মুুহূর্তে সেখানকানে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। এজন্য জাতিসংঘের ত্রাণকর্মীদের সেখানে প্রবেশ ও নিরাপদে মানবিক সহায়তা কার্যত্রক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে ইউএনএইচসিআর।বিবৃতিতে বলা হয়, রাখান রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন বাংলাদেশ সীমান্তে জড়ো হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেক মারাত্মকভাবে জখম হওয়া লোকজনও আছেন। এরই মধ্যে গত কয়েকদিনে ৫ হাজার ২০০ জন রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। এদের মধ্যে আহত অনেকের জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। ইউএনএইচসিআরও তাদের সহায়তা দিচ্ছে।এতে বলা হয়, এ অবস্থায় আরও যারা জখম হয়ে সীমান্তে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন তাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিতে বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করেছে ইউএনএইচসিআর। এরআগেও বাংলাদেশ বিপুল সংখ্যাক নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে বাংলাদেশ সরকার আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের জীবনধারনের জন্য মানবিক সহয়াতা দিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য ইউএনএইচসিআর কৃতজ্ঞ।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইউএইচসিআর মনে করে রোহিঙ্গা শরনার্থী সংকট নিয়ে বাংলাদেশের যে উদ্বেগ তা নিরসনে এ মুহূর্তে আন্তজাতিক সম্প্রদায়ের বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা আরও বাড়ানো উচিত। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির অধিকার নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়েই এ সংটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলেও ইউএনএইচসিআর মনে করে।