রাশিয়া,ইরান ও তুরস্ক সহযোগিতা করায় সিরিয়ার জন্য ইতিবাচক ফল হয়েছে : পুতিন

85
Putin
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
মস্কো,১৫ নভেম্বর,২০১৭: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরান ও তুরস্কের সঙ্গে তার দেশ একত্রে সহযোগিতা করায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিরিয়ার সামরিক সংকটের সমাধান সম্ভব হয়েছে। রাশিয়ার সোচি শহরে গত সোমবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হলে পুতিন এ মন্তব্য করেন।পুতিন বলেন, “আমি দৃঢ়তার সাথে  বলতে পারি  তিন দেশ রাশিয়া, ইরান ও তুরস্কের মধ্যেকার সহযোগিতা সিরিয়া সংকট সমাধানে দ্রুত ও  বাস্তব ফল এনে দিয়েছে।” তেহরান ও আঙ্কারার সঙ্গে মস্কো এই সহযোগিতা চালিয়ে যাবে বলে পুতিন দৃঢ়তার সাথে  প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।বৈঠকে দুই নেতা দীর্ঘমেয়াদে সিরিয়ায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং একটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে একমত হন।রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, “সিরিয়ায় সহিংসতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমেছে। এখন জাতিসংঘের তত্ত্ববধানে সিরিয়ার বিভিন্ন দল ও পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”মি. পুতিনের সঙ্গে িএকত্রে বৈঠকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সহিসতা কমিয়ে আনতে আস্তানায় অনুষ্ঠিত শান্তি বৈঠকগুলো ভূমিকা রেখেছে। এখন সিরিয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মনযোগী হতে হবে। কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় এ পর্যন্ত সিরিয়া বিষয়ক সাত দফা বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সিরিয়ার সরকার এবং সশস্ত্র বিদ্রোহী গ্রুপগুলো অংশ নিয়েছে। আর এসব বৈঠকের ফলাফল বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দিয়েছে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক।আস্তানা বৈঠকের উল্লেখযোগ্য ফলাফল ছিল সিরিয়ার ইদলিব, উত্তর হোমস এবং পূর্ব ও দক্ষিণ ঘৌতা এলাকাকে নিয়ে একটি নিরাপদ অঞ্চল ঘোষণা করা। ওই ঘোষণার পর সিরিয়ায় বিদেশি মদদে চাপিয়ে দেয়া সহিংসতা অনেকাংশে কমে যায়।
Erdogan Erdogan
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
এদিকে এক রাশিয়ার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন  তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।রাশিয়ার তাস সংবাদ সংস্থাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে  তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান, রাশিয়ার সঙ্গে তার দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান। চলতি  রাশিয়া সফরের আগে এ আহ্বান জানান। এ সফরকালে সেইন্ট পিটার্সবার্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মি. এরদোগান।বর্তমান সফরকে একটি ঐতিহাসিক সফর এবং নতুন সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেন এরদোগান। পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রুশ-তুর্কি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় শুরু হবে বলেও তিনি  আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এরদোগান বলেন, দুই দেশের একযোগে অনেক কিছু করার আছে।এ সাক্ষাৎকারে সিরিয়া  সংকট সমাধানে রাশিয়ার অপরিহার্য ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়ার অংশগ্রহণ ছাড়া সিরিয়া সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। কেবলমাত্র রাশিয়ার সহযোগিতা নিয়েই সিরিয়া সংকটের সমাধান করা সম্ভব বলে জানান তিনি।২০১৫ সালে সিরিয়ার সীমান্তে রুশ জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে  মস্কো ও আঙ্কারার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। তারই ইতি টানার লক্ষ্যে এরদোগান রাশিয়া সফরে করছেন বলে  ধারণা করা হচ্ছে।
S-400-missile
এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার চুক্তি করায় ক্ষুব্ধ হয়েছে আমেরিকা।তিনি বলেন, আমেরিকার জন্য তুরস্কের অপেক্ষা করতে হবে কি? বরং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নেবে আঙ্কারা। এর আগে তুরস্ককে ড্রোন সরবরাহ করতে আমেরিকার অস্বীকৃতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। পরে তুরস্ক নিজেই ড্রোন নির্মাণ শুরু করায় আমেরিকার নাখোশ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
S-400-missile.
রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।
এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার জন্য প্রথম কিস্তির অর্থ রাশিয়াকে দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এদিকে, এটি কেনার বিষয়ে আঙ্কারার কাছে পেন্টাগন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলেও রুশ সংবাদ সংস্থা স্পুতনিককে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।এ উদ্বেগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পেন্টাগন বলেছে, ন্যাটো সদস্য হিসেবে মিত্রদেশগুলোতে ব্যবহার যোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুরস্কের ব্যবহার করা উচিত। রাশিয়ার তৈরি পরবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ দিয়ে বহু দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যাবে। ড্রোন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত নানা ধরণের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের উপযোগী করে একে তৈরি করা হয়েছে।
Sabah-al-Ahmad-Oerdogan
প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান ও কুয়েতের আমির সাবাহ আল-আহমাদ।

এদিকে,সবক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে গতকাল (মঙ্গলবার) কুয়েত সিটিতে, কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল-আহমাদ আস-সাবাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। কাতারের ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন চার আরব দেশের সর্বাত্মক অবরোধ ও নানামুখী দ্বন্দ্বের মধ্যে গতকাল (মঙ্গলবার) কুয়েত সিটিতে দু নেতা এ বৈঠক করেন।কুয়েতের সরকারি বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছে, কুয়েত সফররত এরদোগান এবং দেশটির আমির শেখ সাবাহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। সবক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করার উপায় নিয়েও আলোচনার  পাশাপাশি দু নেতা সরাসরি বিনিয়োগের বিষয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন। কুয়েত সফর শেষে আজ (বুধবার) এরদোগানের কাতার সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।এরদোগানের কুয়েত সফরের সময় তুর্কি সেনাপ্রধান কুয়েতের সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। দু দেশের সামরিক সম্পর্ক আরো গভীর করা এবং সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে তারা দু জন আলোচনা করেন।  সৌদি-কাতার দ্বন্দ্বে কুয়েত ও তুরস্ক মধ্যস্থতা করছে তবে সংকট শুরুর কিছুদিনের মধ্যে পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় তুরস্ক সরাসরি কাতারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গত ৫ জুন সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর একযোগে কাতারের ওপর সর্বাত্মক অবরোধ আরাপ করে।