রাবি শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মিছিল-সমাবেশ

258
রাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল ও মানববন্ধন
রাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল ও মানববন্ধন

রাবি থেকে সালমান শাকিলঃ দুবৃর্ত্তদের হাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকী (৫৮) নিহত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ইংরেজী বিভাগের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে পূর্বের স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এসময় বিভাগের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করে। এদিকে প্রফেসর সিদ্দিকীর নির্মম হত্যাকা-ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন ও প্রো-ভিসি প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকা-ে জড়িতদের চিহ্নিত করে যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও আহ্বান জানান। ভিসি ও প্রো-ভিসি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কর্মকান্ডে প্রফেসর সিদ্দিকীর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তাঁরা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনাও জ্ঞাপন করেন। প্রফেসর এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী ১৯৫৫ সালের জানুয়ারিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৩ সালে ইংরেজী বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন ও ২০০৬ সালে প্রফেসর পদে উন্নীত হন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক কন্যা ও এক পুত্র রেখে গেছেন। উল্লেখ্য, শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে শালবাগান বটতলা মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন রেজাউল। এ সময় মোটরসাইকেলযোগে হেলমেট পরা দুই যুবক পেছন থেকে তার গলাতে কোপ দেয়। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও মৌন মিছিল
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও মৌন মিছিল

এক শিক্ষার্থী আটক:শনিবার রাতে নগরীতে অভিযান চালিয়ে এক সন্দেহভাজন যুবককে আটক করা হয়েছে বলে জানান রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তমিজউদ্দিন সরদার। আটক যুবককে মহানগর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আটক যুবকের নাম পরিচয় জানাননি মহানগর ডিবি পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে নাম জানা না গেলেও বিভিন্ন সূত্রে মাধ্যমে জানা গেছে সন্দেহভাজন আটক ব্যাক্তি বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান। এদিকে তার হত্যার প্রতিবাদে রাবি শিক্ষক সমিতির ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে। রোববার ও সোমাবার দুই দিনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। এর আগে শনিবার রাতে শিক্ষক সমিতির জরুরী মিটিংয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষক নেতারা। বিভাগের কর্মসূচি: সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কালো ব্যাচ ধারণ করে ক্যাম্পাসে শোক মিছিল বের করেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ইংরেজি বিভাগের সামনে থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সিনেট ভবনের সামনে এসে শিক্ষক সমিতির কর্মসূচির সাথে সংহতি প্রকাশ করে। পরে বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্যারিস রোডে অবস্থান করতে থাকে। এসময় তারা বিচারের দাবিতে বিভিন্ন প্লাকার্ড লেখে এবং নিহত শিক্ষককে নিয়ে স্মৃতিচরণ করতে থাকে। প্রায় আধা ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ প্যারিস রোডে অবস্থান করে শিক্ষার্থীরা।আজও রাবির ইংরেজী বিভাগের শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার  সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে মৌন মিছিল ও মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। মৌন মিছিলটি সিনেট ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে সিনেট ভবনের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।সমিতির সভাপতি প্রফেসর শহীদুল্লাহের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহ্ আজম শন্তুনুর সঞ্চালনা বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এম সাইদুর রহমান, উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি আনন্দ কুমার সাহা, ড. এ.এফ.এম মাসউদ আখতার। সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মিজানউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার কারণে বার বার হত্যাকা- সংঘটিত হচ্ছে। পিছনে ফিরে তাকালে আমরা একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি পাই। বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের চিঠির মাধ্যমে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিতকতায় শিক্ষক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পরে উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করাহয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। উপচার্য আরো উল্লেখ করেন, ‘একের পর এক শিক্ষক হত্যার মাধ্যমে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরী করা হচ্ছে, আমরা বাঁচতে চাই না। এই অশুভ কালের শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর শহীদুল্লাহ বলেন, ‘এক এক করে শিক্ষকের প্রাণ যাবে, আর আমরা তা দেখেই যাবো তা হতে পারে না। অনতিবিলম্বে রেজাউল করিমসহ সকল শিক্ষকের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান তিনি। শিক্ষক নেতা বলেন, ‘বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কর্মসূচির সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে। শুধু সংহতি নয়, কর্মসূচি প্রদান করুন। একইভাবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনকে কর্মসূচি গ্রহনের আহ্বান জানান।আজ বেলা ১টার দিকে বিভাগের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন সভাপতি ড. এ.এফ.এম মাসউদ আখতার। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামী ২৬ তারিখ পর্যন্ত বিভাগের সকল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, সপ্তাহব্যাপী সকাল ১০টায় সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন। এছাড়া সোমবার বেলা ১১টায় নিহত শিক্ষকের স্মরণে শোক সভার আয়োজন করা হয়েছ।

 শিক্ষকদের  শোক ও প্রতিবাদ সভা
শিক্ষকদের শোক ও প্রতিবাদ সভা