রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন।

70
Examination Exclusion Program
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. নাসিমা জামানের অপসারণ দাবিতে ১১ জন শিক্ষক ক্লাস-পরীক্ষা বজর্ন কর্মসূচি পালন করছেন।
সালমান শাকিল রাবি প্রতিনিধি,রবিবার,০৬ আগস্ট ২০১৭:রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. নাসিমা জামানের অপসারণ দাবিতে বিভাগের ১১ জন শিক্ষক ক্লাস-পরীক্ষা বজর্ন করে অবস্থান কর্মসূচিতে নেমেছেন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রবিববার সকাল ৯টা থেকে বিভাগের সভাপতির কক্ষের সামনের বারান্দায় অবস্থান নেনে তারা।
তবে শিক্ষকদের কর্মসূচি শুরুর আগে বিভাগীয় সভাপতি নিজ দফতরে প্রবেশ করেন। ফলে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তিনি। তবে সভাপতি ব্যতিত বিভাগের ১২ জন নিয়মিত শিক্ষকের মধ্যে একমাত্র সভাপতির অনুসারী সহকারী অধ্যাপক রুখসানা পারভীনকে বিভাগের দেখা যায় নি।আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রফেসর এসএম এক্রাম উল্যাহ জানান, ‘বিভাগের সভাপতি নাসিমা জামানের প্রত্যক্ষ মদদে সহকারী অধ্যাপক রুখসানা পারভীন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শ্রেণীকক্ষে যে ধারাবাহিক কটুক্তি করে আসছিলেন, তার প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করে আন্দোলন করায় তাদের বিরুদ্ধে সভাপতি ও ওই শিক্ষিকা উদ্ভট সব অভিযোগ তুলছেন। যাতে শিক্ষকদের সঙ্গে সঙ্গে বিভাগের ভাবমর্যাদাও ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। এতে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানে বিভাগের সভাপতিকে অপসারণের বিকল্প নেই।’জানতে চাইলে রাবি ভিসি প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সোবহান বলেন, ‘শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কাঁদা ছোড়াছুড়িতে বিষয়টি ঘোলাটে হয়ে গেছে। সংকট সমধানে আমরা চেষ্টা করছি। দ্রুত বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রফেসর ড. মো. আমিনুর রহমান, প্রফেসর এসএম এক্রাম উল্যাহ, প্রফেসর ড. এসএম রাজী, প্রফেসর ড. কফিল উদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর ড. মো. রুহুল আমিন, সহযোগী অধ্যাপক ড. ফরহাত তাসনীম, মো. তারেক নূর, সহকারী অধ্যাপক মোসা. কামরুন নাহার, ড. একেএম মাহমুদুল হক, ড. মো. সুলতান মাহমুদ, এসএম মোখলেসুর রহমান।
প্রসঙ্গত, গত জুলাই এর ৩০ তারিখে বিভাগের ১১ জন শিক্ষক মোছা রুখসানা পারভীনের বিরুদ্ধে শ্রেণী কক্ষে একাধিক শিক্ষক সম্পর্কে অপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে তলাবি সভার আহ্বান করে। কিন্তু সভাপতি প্রফেসর নাসিমা জামান প্রশাসনের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের দোহায় দিয়ে সভা বাতিল করে। ঠিক পরদিন ৩১ জুলাাই রুখসানা পারভীন বিভাগের কতিপয় অন্যায়কারী শিক্ষক কর্তৃক মানসিক নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে ভিসি বরাবর একটি অভিযোগ দেন। সেখানে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। এরপর ১১জন শিক্ষক ২ আগস্ট তারিখে ৭টি কারণ উল্লেখপূর্বক সভাপতির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে চিঠিদেন। এর ঠিক পরদিন সভাপতি ও মোছা রুখসানা পারভীনেরসাংবাদিকদের ডেকে রুখসানার সুপারভাইজার শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। এরপর গত শুক্রবার ১১জন শিক্ষক সংবাদ সম্মেলন করে যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার ও সভাপতিকে অপসারণের দাবী করেন।
উল্লেখ্য রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. নাসিমা জামানের বিভিন্ন অনিয়মে ও স্বেচ্ছাচারিতার, অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করে উল্লেখিত বিভাগের ১১ শিক্ষক। একই সাথে ঐ শিক্ষকরা  সভাপতি পদত্যাগ না করলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাসপরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়। গতকাল শনিবার রাতে বিভাগের শিক্ষক সুলতান মাহমুদ রানা এ তথ্য জানান। বিভাগ সভাপতি নাসিমা জামানের প্রতি অভিযোগ করে শিক্ষকরা বলেন,‘তিনি একাডেমিক কমিটির সভার সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে নিজের মত করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতেন। একাডেমিক কমিটির সভার সিদ্ধান্ত নিজের মত করে লিখে নেয়, যা চরম আকারের অন্যায়। এছাড়া এসব সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অনুষ্ঠিকভাবে কোন চিঠিও দিতেন না। তিনি নৈতিক আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য রুখসানাকে হাত করেন এবং ফুয়েল হিসেবে ব্যবহার করেন। সে লক্ষ্যে মূলত রুখসানা
সভাপতি নাসিমা জামানের উপস্থিতিতে ড. রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। যা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভাগের শিক্ষার্থীর কাছে প্রত্যাশিত নয়।মাহমুদ রানা বলেন, বিভাগের ১১ জন শিক্ষকের আলোচনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র বিভাগের সভাপতি নাসিমা জামানের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তারা একাডেমিক কোন ক্লাস,পরীক্ষা,সভায় অংশগ্রহন করবেনা।