মেয়রের চেয়ার ফিরে ফেল এম এ মান্নান

110
manan
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এম এ মান্নান
ঢাকা,হহ জুলাই ২০১৭:গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এম এ মান্নানের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।সরকারের বরখাস্তের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে মান্নানের রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের বেঞ্চ আজ রবিবার এই আদেশ দেয়।একইসঙ্গে বরখাস্তের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করা হয়েছে। মান্নানকে দায়িত্ব পালনে যেন কোনো বাধা না দেওয়া হয় সে আদেশ দিয়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে আসাদুর রহমান কিরণের নিয়োগও বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে মেয়রের দায়িত্ব পালনে নির্বাচিত মেয়র এম এ মান্নানের আর কোন বাঁধা রইল না।
উল্লেখ্য হাইকোর্ট গত বছর ১০ মার্চ এক রায়ে  আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করতে জাতীয় সংসদ ও সরকারকে নির্দেশ দেন। আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়, আইন সংশোধনে হাইকোর্টের ওই নির্দেশনা আদালতের প্রত্যাশামূলক। আশা করি সরকার ও জাতীয় সংসদ আইন সংশোধনের বিষয়টি সুবিবেচনায় নেবে নির্বাচিত মেয়র বা কোনো কাউন্সিলরকে “সাময়িক বরখাস্ত” করার  আইন অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা বাতিলের জন্য এরইমধ্যে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন রাজশাহীর মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
আদালতের নির্দেশে গতকাল সোমবার দুপুরে এম এ মান্নান কাউন্সিলর ও দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে নগর ভবনে গিয়ে নিজ দপ্তরের চেয়ারে বসেন। মেয়র তার নিজ দফতরে এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, আইনি লড়াইয়ে বিজয়ী হয়ে ফের মেয়রের দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। যেহেতু সিটি নির্বাচনের এক বছরেরও কম সময় রয়েছে সেহেতু রাস্তাঘাট, পানি নিষ্কাশনসহ অতি জরুরি কাজগুলো দ্রুত সম্পাদন করা হবে।
গাজীপুর সিটি মেয়র এম এ মান্নান ২০১৩ সালে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ১৮ মাস ১৯ দিন। গত চার বছরে তিনবার বরখাস্ত এবং ২২ মাস করাভোগ করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা আছে। উল্লেখ্য গত দুই বছরে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৩৫০ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই বিরোধী রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত।