মুহাম্মদ আলী ‘দ্য গ্রেটেস্ট’

313
পরিপূর্ন ইসলাম ধর্মের সুশীতল ছায়াতলে গ্রেটেস্ট’ মুহাম্মদ আলী
পরিপূর্ন ইসলাম ধর্মের সুশীতল ছায়াতলে গ্রেটেস্ট’ মুহাম্মদ আলী

শতাব্দীর সেরা ক্রীড়াবিদ বক্সার ‘দ্য গ্রেটেস্ট’ মুহাম্মদ আলীর(৭৪) মৃত্যুতে শোকাহত গোটা বিশ্ব। মুহাম্মদ আলীর আত্মার শান্তি কামনা করছেন বিশ্বের নেতা ও তারকা ব্যক্তিত্বরা। তারা একইসঙ্গে সমবেদনা জানাচ্ছেন প্রয়াত মুহাম্মদ আলীর পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদেরও। ব্রাজিলের ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি পেলে বলেছেন, ক্রীড়া বিশ্ব এমন একজন তারকাকে হারালো যা পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। আলী শুধু আমার বন্ধুই ছিল না, সে ছিল আমার আদর্শ, আমার স্বপ্নের নায়ক।  ব্রাজিলের ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি পেলে মুহাম্মদ আলীর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। ৭৪ বয়সে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া এই বক্সারকে নিজের থেকেও সেরা অ্যাথলেট হিসেবে দেখতেন ফুটবলের ‘কালো মানিক’। পেলে এবং আলী দু’জনই ভালো বন্ধু ছিলেন। পেলের খেলা দেখতে যেতেন আলি, পেলেও আলির খেলা দেখতে গিয়েছিলেন অনেক বার। আলী প্রসঙ্গে পেলে জানান, সে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রের ব্যক্তি। সব সময় আমার এই বন্ধু মজা করতে ভালোবাসতো। তাকে সব সময় দেখেছি অন্যকে সম্মান দিয়ে কথা বলতে। আমরা বহুবার একসঙ্গে ডিনার করেছি। সে আমাকে প্রায়ই জ্বালাতন করতো। আমার প্রতি সম্মান রেখেই বলতো ‘আমি তোমার থেকেও বড় অ্যাথলেট’। সত্যিই সে আমার থেকেও বড় তারকা। শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বক্সিং কিংবদন্তির মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে যেন শোকের ভারে নুয়ে পড়েন পেলে। নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে খেলার সময় পেলের খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত হতেন আলী। পেলে জানান, আমাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। তার মৃত্যু আমাকে শোকাহত করেছে। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি সে যেন শান্তিতে থাকে। তার পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। বিশ্বনেতা ও তারকা ব্যক্তিত্বরা আলীর মৃত্যুতে সববেদনা জানাচ্ছেন। ফেসবুক-টুইটার-ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তারা আলীর আত্মার শান্তি কামনা করছেন। ফ্রান্সের কিংবদন্তি রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জিনেদিন জিদান, জুভেন্টাসের কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো আল্লেগ্রি, রিয়ালের সাবেক কোচ কার্লো আনচেলত্তি, দিদিয়ের দ্রগবা, বোয়েতাং, হাভিয়ের মাশ্চেরানো, ক্লদিও মারচিশিয়ো, পল পগবা, লুকাস পোডলস্কি, আরদা তুরান, এডিন জেকো, আরবেলোয়া, ইভান রেকিটিক, ক্রিস স্মলিং, সামি খেদিরা, সেস ফ্যাব্রেগাসদের মতো তারকারা আলীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। ১৯৯৯ সালে মুহাম্মদ আলীর নাম বিবিসি এবং স্পোর্টস ইলাট্রেটেড ‘স্পোর্টসম্যান অব দ্য সেঞ্চুরি’ অথবা শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ঘোষণা করে।

বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে মোহাম্মদ আলী
বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে মোহাম্মদ আলী

তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের প্রিয় আলী। বিশ্বখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা মুহাম্মদ আলী  বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। মুহম্মদ আলী ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সফর করেন। তৎকালীন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে তিনি পাঁচ দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন। ঢাকার বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষ তাকে স্বাগত জানান।এই সফরের সময় তাকে বিপুল সংবর্ধনা দেয়া হয় ও সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়ায় ও এদেশের মানুষের আতিথেয়তায় এবং অফুরন্ত ভালবাসায় তিনি মুগ্ধ ও অভিভূত হন। বাংলাদেশের মানুষের অফুরন্ত ভালবাসায় অভিভূত হয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আমার ২য় জন্মভূমি। যদি কখনও সময় ও সূযোগ পাই তবে আমার এই ২য় জন্মভূমিতে আবার আসবো। বাংলাদেশের রূপ দর্শনে মুগ্ধ হয়ে দেশে ফিরে গিয়ে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘স্বর্গে যেতে চাইলে বাংলাদেশ ঘুরে আসুন’।  তিনি তৎকালীন ঢাকা স্টেডিয়ামে তিনি এক সৌজন্য ও প্রদর্শনী লড়াইয়ে অংশ নেন। তার প্রতিপক্ষ ছিল ১২-বছর বয়সী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সফর কররার পরের বছর ১৯৭৯ সালে বিবিসি বাংলার লন্ডন স্টুডিওতে গিয়েছিলেন ছিলেন বিশ্বখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা মুহাম্মদ আলী।  বিবিসি বাংলার লন্ডন স্টুডিওতে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন সেসময় বিবিসি বাংলার প্রযোজক শ্যামল লোধ। ওই সাক্ষাৎকারের এক অংশে বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের বাংলায় অভিনন্দন জানিয়েছিলেন কিংবদন্তী মুষ্টিযোদ্ধা মুহাম্মদ আলী। ১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের লুইসভিলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন মুহাম্মদ আলী। তার বাবা ক্যাসিয়াস মারকেলাস ক্লে সিনিয়র-এর নাম অনুসারেই তার নাম রাখা হয়েছিল ক্যাসিয়াস মারকেলাস ক্লে জুনিয়র। নামকরণ করা হয়েছিল একজন দাসপ্রথাবিরোধী রাজনীতিবিদ ক্যাসিয়াস ক্লে-এর নামানুসারে।

লড়াইয়ের রিংএ মোহাম্মদ আলী
লড়াইয়ের রিংএ মোহাম্মদ আলী

১৯৫৪ সালের একদিন আলীর সাইকেল চুরি হয়ে যায়, তখন সে পুলিশ অফিসারকে (মার্টিন) জানায় যে, সে চোরকে পেটাতে চায়। অফিসার (সে শহরের বক্সিং কোচ) তাকে বলে যে, এর জন্য তাকে লড়াই করতে জানতে হবে। পরদিন তিনি মার্টিনের কাছ থেকে বক্সিং শেখা শুরু করেন। তিনি তাকে শিখিয়েছিলেন, কীভাবে প্রজাপতির মতো নেচে নেচে মৌমাছির মতো হুল ফোটাতে হয়। ১৯৬০ সালে তিনি অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জেতেন। আলীর বিশেষত্ব ছিল, তিনি খেলার সময়ে সবার মতো হাত মুখের সামনে রাখতেন না, শরীরের পাশে রাখতেন। প্রতিপক্ষের মার ঠেকানোর জন্য নির্ভর করতেন সহজাত প্রবৃত্তির উপর। ২৯ অক্টোবর ১৯৬০-এ তিনি প্রথম পেশাদার লড়াই জিতেন। ১৯৬০-১৯৬৩ সালে তিনি টানা ১৯টি লড়াই জিতেন, যার মধ্যে ১৫টি নকআউট। ১৯৬৩ সালে তিনি ডগ জোন্স-এর সাথে ১০ বাউটের এক বিতর্কিত লড়াইয়ে জিতেন। ১৯৬৪ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে তখনকার বিখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা সনি লিস্টনকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলে খ্যাতির তালিকায় উঠে আসেন মুহাম্মদ আলী। খেলাধুলার ইতিহাসে সেরা মুষ্টিযোদ্ধদের মধ্যে একজন হিসেবে গণ্য করা হয় তাকে। ১৯৭৫ সালে আলী লড়াই করেন ফ্রেজিয়ার-এর সাথে। দুজন বীরের এ লড়াইয়ের জন্য সকলে খুবই উত্তেজিত ছিল। ১৪ রাউণ্ডের শেষে ফ্রেজিয়ার-এর কোচ তাকে আর লড়াই করতে দেননি, কারণ, তার এক চোখ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফ্রেজিয়ার এর কিছুদিন পরই অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালের এক লড়াইয়ে তিনি ১৯৭৬-এর অলিম্পিক মেডেলিস্ট লিয়ন স্পিংক্স-এর কাছে খেতাব হারান। তিনিই প্রথম যিনি একজন অপেশাদারের কাছে হেরেছিলেন। ১৯৭৯ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তবে তিনি ১৯৮০ সালে ফিরে আসেন ল্যারি হোমস-এর কাছ থেকে শিরোপা ছিনিয়ে নিতে। ল্যারি ছিলেন তার শিষ্য তাই সকলেই লড়াইটি নিয়ে আগ্রহী ছিল। ১১ রাউন্ড পর আলী পরাজিত হন। পরে জানা যায়, তার মস্তিষ্কে মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়েছিল। তার মস্তিস্ক ফুটো হয়ে গিয়েছিল। পরে তিনি ১৯৮১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তাকে সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। মুষ্টিযোদ্ধার ২১ বছরের ক্যারিয়ারে মোহাম্মদ আলী মোট ৬১টি লড়াইয়ে অংশ নিয়ে ৫৬টিতে জয় পান। তিনি তিনবার হেভি ওয়েট আর একবার লাই ওয়েট চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।

শতাব্দীর সেরা ক্রীড়াবিদ বক্সার ‘দ্য গ্রেটেস্ট’ মুহাম্মদ আলী পরিবারের সাথে
শতাব্দীর সেরা ক্রীড়াবিদ বক্সার ‘দ্য গ্রেটেস্ট’ মুহাম্মদ আলী পরিবারের সাথে

কৃষ্ণাঙ্গ হওয়া ছোটবেলা থেকেই আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ মানুষের অবজ্ঞার শিকার হন ক্লে। শ্বেতাঙ্গ মানুষের চেয়ারে তাদের বসতে দেয়া হতো না। এমনকি একজন বিশ্বসেরা বক্সার হওয়ার পরও তাকে শ্বেতাঙ্গদের হোটেলে খাবার দেয়া হয়নি। সবকিছু মিলিয়ে মার্কিন সমাজ ব্যবস্থা ও শ্বেতাঙ্গ মানুষের প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। এ থেকে মুক্তির একটা পথ খুঁজছিলেন। ১৯৬৪ সালে ‘নেশন অব ইসলাম’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে পরিচিত হন। তারা আফ্রিকা ও আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করতো। তাদের সংস্পর্শে গিয়ে ইসলামকে বুঝতে শেখেন তিনি। ইসলাম শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে কোনো পার্থক্য ও ব্যবধান রাখে না বলে জানতে পারেন তিনি। এতে এক সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মোহাম্মদ আলী নাম ধারন করেন। এক সময় তিনি বলেন, ‘আমাকে যদি বক্সিং ও ইসলাম- এই দুটোর মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বলা হয় তাহলে অবশ্যই আমি ইসলামকে বেছে নেব’। ইসলাম গ্রহণের পর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পৃথিবীর মানুষের মধ্যে সাম্য ও ভেদাভেদ দূর করতে কাজ করে গেছেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৫ সাল থেকে ইসলামের সুফিবাদের সংস্পর্শে আসেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সুফিবাদ চর্চা করেন মোহাম্মদ আলী।

 

মুহাম্মদ আলী গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে পারকিনসন্স রোগে ভুগছিলেন। কয়েক বছর ধরে তার অবস্থার আরও অবনতি হয়। দীর্ঘ দিন ধরেই স্বাস্থ্য বিষয়ক নানা সমস্যায় ভোগা আলী ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে মূত্রঘটিত সংক্রমণের চিকিৎসা করাতে হয় তাকে। মুহাম্মদ আলীর পারিবারিক মুখপাত্র বব গানেল জানান, বৃহস্পতিবার শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার কারণে মুহাম্মদ আলীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এরপর তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। মোহাম্মদ আলীর পরিবার জানায়, অসুস্থতার কারণে সম্প্রতি মোহাম্মদ আলীকে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফনিক্স শহরের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানেই লাইফসাপোর্টে থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

কন্যা লায়লা আলীর সাথে
কন্যা লায়লা আলীর সাথে

মৃত্যুর অন্তিম মুহূর্তে আলীর পাশেই ছিলেন হানা আলী। তিনি জানিয়েছেন, সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অচল হয়ে যাওয়ার পরও থামছিল না আলীর হৃৎস্পন্দন। ইন্সটাগ্রামের পোস্টে হেনা লিখেছেন, ‘প্রায় তিরিশ মিনিট… আমরা হৃৎস্পন্দন শুনতে পাচ্ছিলাম। আমরা আগে কখনও এমন দেখিনি এমন, অন্য কারও ক্ষেত্রে।’ হানা মনে করেন, এ ঘটনায় তার বাবার সংকল্প ও চৈতন্যের শক্তির দিকটা ধরা পড়ে। হানা জানিয়েছেন, মৃত্যুর সময় আলীকে জড়িয়ে রেখেছিলেন তার চারপাশে থাকা স্বজনেরা। কেউ কেউ তার হাত ধরে ছিলেন। কেউ কেউ তাকে চুম্বন করছিলেন। সে সময় ইসলামি প্রার্থনায় রত ছিলেন আলীর স্বজনরা। একদিকে তিনবারের বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন, অন্যদিকে ন্যায়-সমতা-যুদ্ধবিরোধিতা-বর্ণবাদবিরোধিতার একজন জোরালো কণ্ঠস্বর ৭৪ বছর আলী দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শনিবার তিনি অ্যারিজোনা রাজ্যের ফিনিক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার মৃত্যুতে শোকাহত সারা বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা জানিয়েছে,  জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ লুই ভিলের ইয়াম সেন্টারে রাখা হবে, যেখানে তাঁর অ্যামেচার বক্সিং জীবনের সুচনা হয়েছিল। আর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, কেনটাকির লুইসভিলে শুক্রবার নিজের শহরে মোহাম্মদ আলীর শেষকৃত্য হবে। বিবিসি তার পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আলীর ইচ্ছানুযায়ী ইসলামিক রীতি মেনে শেষকৃত্য হলেও, তাতে অন্য ধর্মমতের ছাপ থাকবে। কেননা নিজেকে একজন বিশ্ব-নাগরিক মনে করতেন আলী। চাইতেন, তার শেষকৃত্যে সব ধর্মমতের মানুষ অংশ নেবে। শেষকৃত্যের্ পর  কেভ হিল কবরস্থানে আলীকে সমাহিত করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে ভয়েস অব আমেরিকা।

 ১৯৭৮ সালে লন্ডনের একটি হোটেলে মেয়ে লায়লা (বামে) ও হানা (ডানে)
১৯৭৮ সালে লন্ডনের একটি হোটেলে মেয়ে লায়লা (বামে) ও হানা (ডানে)
পারকিনসন্স সেন্টারে আলী
পারকিনসন্স সেন্টারে আলী
গ্রেটেস্ট’ মুহাম্মদ আলী কন্যা লায়লা আলীর সাথে
গ্রেটেস্ট’ মুহাম্মদ আলী কন্যা লায়লা আলীর সাথে

Muhammad-Ali,-the-great