মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যা বন্ধ করুন ?

832
Rohinga genocide
মায়ানমারের নির্য়াতন ও গনহত্যা থেকে জীবন বাঁচাতে মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ভীড়।
ঢাকা সোমবার ৪ সেপ্টেম্বার ২০১৭:গত প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও বৌদ্ধ ভিক্ষুরা রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর নির্বিচারে গনহত্যা চালাচ্ছে।মায়ানমারে নির্বিচারে যে মুসলিম নিধন চলছে তা আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে নির্বিচারে হত্যা, নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ব্যাপক ঘটনা ঘটছে।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও জাতিসংঘ বিষয়টা স্বীকার করেছে এবং বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করছে। গত শুক্রবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। তবে অসমর্থিত বিভিন্ন সূত্র থেকে বলা হচ্ছে , মায়ানমারে এ পর্যন্ত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলমানদের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে,নির্মমভাবে হত্যা করা হয় অনেক মানুষকে,ধর্ষণ করা হয়েছে বহু নারী ও কিশোরীকে।গৃহহীন হয়েছে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ।চলছে ভয়াবহ ও নারকীয় অত্যাচার। সব মিলিয়ে সেখানে এক নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে । আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক কিংবা সাংবাদিকদের সেখানে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।মায়ানমার‘সেনাবাহিনী বিভিন্ন পাড়ার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। লোকজনকে গুলি করে মেরে ফেলছে। ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে লোকজন যখন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে, তখন হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে গুলিবর্ষণ করে তাদের হত্যা করা হচ্ছে।রোহিঙ্গা ঘরবাড়ী গুলোতে দেয়া হয়েছে লৌহবেষ্টনী আর তাদের পুড়ে যাওয়া দালান-কোঠাগুলোকে বানানো হয়েছে সামরিক চেকপয়েন্ট।মায়ানমারের রাজধানীর বাইরে প্রায় এক লক্ষ রোহিঙ্গা,শরণার্থী শিবিরের অস্বস্তিকর পরিবেশে বাস করছে। যেখানে তারা অপুষ্টি ও রোগব্যধিতে ভুগছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় রাখাইন লোকজন ত্রাণকর্মীদের অবাধ চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করছে। গণহত্যা ও অত্যাচার করে ইতোমধ্যেই অর্ধেক রোহিঙ্গাকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে। যারা এখনো দেশের মধ্যে জীবিত আছে তারা জীবন্ত নরকে বসবাস করছে।তারা এখন এ জীবন্ত নরক থেকে পালাবার পথ খুঁজছে। এভাবে পুরো একটা জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। মায়ানমারের সেনাবাহিনী বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিবাদ আর সমালোচনার পর মায়ানমার সেনাবাহিনী এখন শুধু ৬৯ জন ‘বাঙালী’ এবং ‘সহিংস হামলাকারী’কে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।বিভিন্ন সূত্র বলছে প্রকৃতপক্ষে সেই সংখ্যা ৪০ হাজার হবে।এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।জাতিসংঘ ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের জন্য তাদের সীমান্ত খুলে দেবার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
Stop-Muslim-Genoside
রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর মায়ানমারের সেনাবাহিনী নির্বিচারে ধর্ষন,নির্যাতন ও গনহত্যা চালাচ্ছে।

বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে কড়াকড়ি সত্ত্বেও প্রাণ বাঁচাতে আসছে রোহিঙ্গা পরিবারগুলোঃ মায়ানমার থেকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে এসে যেসব রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন তারা অভিযোগ করছেন, রাখাইন প্রদেশে মায়ানমারের সেনাবাহিনী খুন এবং ব্যাপক নির্যাতন চালাচ্ছে।যদিও বাংলাদেশের সরকার বলছে, সীমান্তে কঠোর নজরদারি চলছে।সীমান্ত কড়াকড়ি সত্ত্বেও বিপন্ন রোহিঙ্গারা রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছেন। মায়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে,নারী ও কিশোরীদের ধর্ষন করছে, পুরুষদের ধরে ধরে হয় গুলি করছে, নয়তো গলা কেটে ফেলছে।তারা বাচ্চাদের আগুনে ছুঁড়ে হত্যা করছে। প্রাণ বাঁচাতে রাতের অন্ধকারে রোহিঙ্গারা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসছে।”রোহিঙ্গাদের প্রতি সরকারের কঠোর মনোভাব সত্ত্বেও সীমান্তের ওপারে চরম সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে পড়া মানুষদের প্রতি বাংলাদেশিদের সহানুভূতি বাড়ছে।মায়ানমারের সরকার রহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের দাবি বরাবরই ‘অতিরঞ্জিত’ বলে বর্ণনা করে থাকে।মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ভয়াবহতা স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতেও ফুটে উঠেছে।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচ বলছে, স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।হাজার হাজার রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে । মায়ানমারের সেনাবাহিনী বলছে, অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এপর্যন্ত অন্তত ২০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।তারা নিহতদের সহিংস হামলাকারী ও ‘বাঙালী’ বলে বর্ণনা করছে।রাখাইন প্রদেশে সম্প্রতি শুরু হওয়া বিদ্রোহ দমনের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে সেনাবাহিনী দাবী করছে।অবশ্য সেখান থেকে আসা রোহিঙ্গা সূত্রগুলো বলছে, সেনাবাহিনী সেখানে বেসামরিক অধিবাসীদেরকে হত্যার পাশাপাশি ধর্ষণও করেছে এবং গ্রামের পর গ্রাম তারা জ্বালিয়ে দিয়েছে।গত ৯ই অক্টোবর রাখাইনে সীমান্ত চৌকিতে হামলার জের ধরে এই অভিযান শুরু।রাখাইন প্রদেশের অবস্থা এখনও বেশ উত্তপ্ত।গতকালই দুটি ভিন্ন জায়গা থেকে মোট ৯০ জন রোহিঙ্গা মুসলমানকে আটক করা হয়েছে। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।সেনাবাহিনী রাখাইন প্রদেশে, বিশেষভাবে মংডু শহর ও তার আশেপাশের এলাকায়, কোন সাংবাদিককে যেতে দিচ্ছে না।ফলে নির্যাতনসহ অন্যান্য অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিরপেক্ষভাবে তথ্য জানা সম্ভব হচ্ছে না।ওই এলাকায় সেনাবাহিনী এমনকি হেলিকপ্টার গানশিপও ব্যবহার করছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।

Rohingyas-torture
মায়ানমার সরকারের অত্যাচার ও নির্যাতনের কারনে অসহায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় আশ্রায় নিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের এক হাজারেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে: মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের একটি গ্রামের দেড় হাজারেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, স্যাটেলাইটে ধারণ করা বিভিন্ন চিত্র বিশ্লেষণ করে এ তথ্য দিচ্ছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।গত কাল সোমবার তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। যদিও মায়ানমার সরকার এ কথা অস্বীকার করেছে।বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত অক্টোবর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।এই অভিযানে রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে নির্বিচারে হত্যা, মহিলা ও কিশোরীদের ধর্ষণ, তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ব্যাপক ঘটনা ঘটছে। জাতিসংঘ বলছে, সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত সেখানকার ত্রিশ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।গত ৯ই অক্টোবর মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত চৌকিতে বার্মা কারেন বিদ্রোহীদের এক হামলার জের ধরে অভিযান শুরু করে মায়ানমার সেনাবাহিনী।তাদের অভিযানে ৭০ জন নিহত হয়েছে এবং চারশোরো বেশি নাগরিককে তারা আটক করেছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।যদিও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন নিহতের সংখ্যা আরও বেশি।গতকাল সোমবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে – নভেম্বরের ১০ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে যে রোহিঙ্গাদের পাঁচটি গ্রামের ৮২০টি কাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।আর রাখাইনে সেনা অভিযানে সব মিলিয়ে ১২৫০টি ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানাচ্ছে সংস্থাটি।বাংলাদেশ সরকার সীমান্তে কঠোর নজরদারি চালালেও বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে রাখাইন রোহিঙ্গা মুসলিমরা।মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু থেকে পালিয়ে আসা অনেক রোহিঙ্গা বলছেন, মায়ানমারে থাকা মানে নিশ্চিত মৃত্যু, তাই তাঁরা বাংলাদেশেই থেকে যেতে চান।গত রোববার রাতে রাখাইনের সহিংস পরিস্থিতি থেকে নৌকায় করে পালিয়ে টেকনাফের হীলা এলাকায় অবস্থান নিয়েছে অন্তত ২০ জন রোহিঙ্গা মুসলমান। পালিয়ে আসার সময় নাফ নদীর মাঝপথে তাদের নৌকা ডুবে যায় অন্য একটি নৌকা এসে তাদের উদ্ধার করলেও শিশুসহ ৯ জন যাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছে

রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারকে কেন চাপ দেয়া হচ্ছে নাঃ মায়ানমার-সেনাবাহিনীর অভিযানের ভয়ে প্রায় প্রতিদিনই পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে রোহিঙ্গারা। টেকনাফের স্থানীয়রা বলছে সীমান্ত রক্ষীদের কড়া প্রহরা সত্ত্বেও গোপনে তাদের প্রবেশ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্ত খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। কিন্তু মায়ানমারকে কেন চাপ দেয়া হচ্ছে না ? শরণার্থী বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রামরুর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সি আর আবরার বলেছেন, মায়ানমারকে যতটা চাপ দেয়া প্রয়োজন ততটা দেয়া হচ্ছে না । শুধুমাত্র সে কারণেই এই সমস্যা অতীতে জিইয়ে রাখা হয়েছিল এবং অবস্থা এখন তা আরো খারাপপের দিকে যাচ্ছে।”অতীতে চীনের কিছুটা চাপ ছিল এখন সেটাও নেই”। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কোফি আনানের কমিশন রোহিঙ্গা ইস্যুতে খুব একটা কাজ করতে পারবে বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকেরা। তবে মি. আবরার বলেছেন, আন্তর্জাতিক কমিউনিটি মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের অবস্থা নিয়ে কমিশন গঠন করবে । তবে মূল ঘটনার উৎস রাষ্ট্র হিসেবে রোহিঙ্গাদের অবস্থা নিয়ে কমিশন গঠন করা মায়ানমারের প্রধান দায়িত্ব। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সনদে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। সে হিসেবে মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের সাহায্য করার বিষয় রয়েছে বাংলাদেশের।সি আর আবরার বলেছেন, এটা একটা মানবিক সমস্যা” তাই “বিপদগ্রস্থ লোকগুলো যখন জীবনের ভয়ে ভীত হয়ে আরেক দেশে আশ্রয় প্রার্থনা করছে, তখন আন্তর্জাতিকভাবে শুধু বাংলাদেশ নয় অন্য সব দেশেরও দায়িত্ব পালন করার বিষয় রয়েছে। ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে মায়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মায়ানমারের সরকারকে সেখান কার দুর্দশাগ্রস্থ মানুষদের রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।এদিকে আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন,মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের অবস্থাকে নরকের সঙ্গে তুলনা করে বলছেন, সেখানে গত প্রায় দেড় মাস ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কমপক্ষে সাড়ে তিনশো জন মুসলীম রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ নিহত হয়েছে।
https://www.facebook.com/onlinesangbad/videos/1492821264142106/
মংডুর গ্রামে পোড়া লাশ ধরে স্বজনের আর্তিঃ মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমান সমর্থিত রোহিঙ্গা ভিশন নামে একটি ওয়েবসাইটে পোস্ট করা একটি ভিডিওচিত্রে, কিছু আগুনে পোড়া মৃতদেহ এবং এগুলোকে ঘিরে তাদের স্বজনদের আর্তনাদ করতে দেখা গেছে।ভিডিওটির বিস্তারিততে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যের মংডুর উত্তরাঞ্চলীয় একটি গ্রামে গত ১৩ই নভেম্বর অন্তত ৯ জন মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলে দেশটির সেনাবাহিনী।ওই দিনের পর থেকে ওই গ্রামের আরো ৯০ জন নারী-পুরুষ-শিশুর সন্ধান আজো পাওয়া যায়নি বলেও এতে উল্লেখ রয়েছে।এলাকাটি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে খুব কাছে।ভিডিওটিকে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।তবে এতে যাদেরকে দেখানো হয়েছে তাদের ভাষা অনেকটা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম এলাকার আঞ্চলিক ভাষার মতই।মায়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষকে বিভিন্ন সময়ে এরকম ভাষাতে কথা বলতে দেখা গেছে।ভিডিওতে আগুনে পোড়া ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তিনটি মৃতদেহও দেখানো হয়।মৃতদেহগুলোর আকার দেখে বোঝা যায় এগুলো মানুষের মৃতদেহ, তবে পরিচয় উদ্ধারের কোন উপায় নেই।ভিডিওতে একটি মৃতদেহের পাশে বসে দুই মহিলাকে কাঁদতে দেখা যায়।এক মহিলা মৃতদেহটির মুখে হাত বোলাচ্ছিলেন এবং বিলাপ করছিলেন।পাশেই ছিল আরো একটি মৃতদেহ। ভিডিওচিত্রটিতে একজন ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন, সম্ভবত ভিডিওটি তিনিই ধারণ করছিলেন।তবে তাকে দেখা যায়নি। তিনি বলছিলেন,গত বছরের অক্টোবর মাস থেকেই রাখাইন রাজ্যে অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী।এই অভিযানে রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে নির্বিচারে হত্যা, মহিলা ও কিশোরীদের ধর্ষণ, তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ব্যাপক ভিত্তিক অভিযোগ আছে। সেনাবাহিনী বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।টানা অভিযোগের এক পর্যায়ে মায়ানমারের সেনাবাহিনী গত বছরের ১৩ই নভেম্বর শুধুমাত্র ৬৯ জন ‘বাঙ্গালী’ এবং ‘সহিংস হামলাকারী’কে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।’রোহিঙ্গা ভিশন টিভি’ নামে এই ওয়েবসাইটটিতে প্রকাশিত ভিডিওটিকে যাচাই করা না গেলেও মায়ানমারের একটি সুপরিচিত ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ লাইট অব মায়ানমার’-এ এই রোহিঙ্গা ভিশন নামক ওয়েবসাইটটির উল্লেখ রয়েছে । পত্রিকাটির গত শনিবারের খবরে দেশটির কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা ভিশন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক একটি সংস্থা যেটি কর্তৃপক্ষের ভাষায় ‘আন্তর্জাতিক চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহে লিপ্ত’। নিউ লাইট অব মিয়ানমারের খবরে আরো বলা হয়, কর্তৃপক্ষ রাখাইন প্রদেশে তদন্ত করে এমন একজন যুবকের খবর পেয়েছে যে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া এবং সৌদি আরবে ‘চরমপন্থি’দের কাছে ‘মিথ্যা’ ও ‘অবমাননাকর’ খবর প্রচার করে। গত অক্টোবরে এক পুলিশ চেকপোস্টে সমন্বিত হামলার জের ধরে রাখাইন প্রদেশে ব্যাপক ভিত্তিক সেনা অভিযান শুরু হবার পর থেকেই ওই এলাকায় সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রবেশের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।ফলে ওই এলাকায় আদপে কী ঘটছে তার প্রকৃত তথ্য জানা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ। মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। মায়ানমারের সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের জন্য বাংলাদেশ যেন নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে সেসম্পর্কে বলেছে সংস্থাটি।এদিকে বাংলাদেশের সাথে মায়ানমার সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে আজ আরো তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।ইউএনএইচসিআর মায়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে মায়ানমার সরকারকে সেখানকার রোহিঙ্গাদের নিয়ম অনুযায়ী রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে । একই সাথে সেখানকার সহিংস পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে যারা বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছে তাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার যেন নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে সে বিষয়েও আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর । গত ৯ই অক্টোবর মায়ানমারের রাখাইন সীমান্ত চৌকিতে কারেন বিদ্রোহীদের এক হামলার জের ধরে অভিযান শুরু করে মায়ানমার সেনাবাহিনী । এর পর থেকেই রোহিঙ্গারা সেখান থেকে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশের টেকনাফে ঢোকার চেষ্টা করে আসছে । এদিকে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের ঢোকার সম্ভাব্য সব পথে নজরদারি জোরদার করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। বিজিবির দুই এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আবু জার আল জাহিদ বলেছেন সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে তিন প্লাটুন সৈন্য মোতেয়েন করা হয়েছে । তিনি বলেছেন সীমান্ত এলাকা শতভাগ নি:ছিদ্র করা না গেলেও, সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের পথ গুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবির এই সদস্য বলেছেন, গত বুধবার রাতে ১৬ জনের একটি দল নদীপথে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করলে তারা তাদেরকে ফেরত পাঠায়। তারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কিনা সেটা তিনি নিশ্চিত করেননি । তবে স্থানীয় সূত্র গুলো বলছে গতকাল সোমবার রাতেও ৭৮ জনের একটি দল বাংলাদেশে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে তাদেরকে জোর করে ফেরত পাঠানো হয়েছেে।এদিকে আন্তর্জাতিক চাপের কাছে মায়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশের গ্রামগুলোতে মুসলীমদের হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে দেশটি সেনাবাহিনী। রাখাইন প্রদেশে সম্প্রতি শুরু হওয়া বিদ্রোহ দমনের অংশ হিসেবেই এই হত্যাকান্ড চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে মায়ানমার সেনাবাহিনী।
সূত্রঃ এএফপি , বিবিসি, রয়টার, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, দৈনিক ‘নিউ লাইট অব মিয়ানমার।