মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে নতুন ভাইরাস চিকনগুনিয়ায়

551
Chikungunya Virus
চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের বাহক এই এডিস মশা।
ঢাকা,সোমবার ১২ জুন, ২০১৭ : সম্প্রতি কয়েক দফা বৃষ্টিপাতের পর এডিস মশার মাধ্যমে ছড়াচ্ছে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস। সারাদেশে বেড়েছে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ। সাধারণত জুন-জুলাইয়ে বর্ষা মৌসুমে চিকুনগুনিয়ার প্রার্দুভাব দেখা গেলেও চলতি বছরের শুরুতে প্রথমে এ রোগের প্রাদূর্ভাব দেখা দেয়। তবে এই রোগে মৃত্যুর হার একেবারেই নেই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘চিকুনগুনিয়া দীর্ঘ ভোগান্তির নাম।’ এছাড়া হাসপাতালগুলোতেও চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। একই পরিবারের একাধিক সদস্য এই জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া এই দুই ধরনের ভাইরাস প্রায় একই সময়ে দেখা দেয়। রোগের লক্ষণ ও উপসর্গেও নানা মিল দেখা যায়। জ্বর, গায়ে ব্যথা, কাশ ও ফুসকুড়ি এই লক্ষন চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের আলামত? বিগত কয়েক বছর ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। এই চিকুনগুনিয়া ভাইরাস মূলত: আফ্রিকাতে দেখা যায়। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ভাইরাস দুটোই ভাইরাস জ্বর। সাধারণ চিকুনগুনিয়ায় জ্বর, ত্বকে ফুসকুড়ি বা , সন্ধি বা হাড়ের জোড়ায় ব্যথা ও গায়ে ব্যথা করে। এর চেয়ে তীব্র হলে সন্ধি ফুলে যায়, গায়ে তীব্র ব্যথা, চোখে ব্যথা, রক্তচাপ ও প্রস্রাব হ্রাস প্রভৃতি সমস্যা হতে পারে। রোগটি সবচেয়ে জটিল রূপ নিলে উচ্চমাত্রার জ্বর, সন্ধি ব্যথা ও ফোলা,বমি ও ডায়রিয়ায় রোগী অচেতনও হয়ে যেতে পারে।
Chikungunya Virus
ভাইরাস চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীর দেহে ছোট ছোট ফুসকুড়ি
তবে চিকুনগুনিয়ায় ডেঙ্গুর চেয়ে মৃত্যুঝুঁকি কিছুটা কম।পাশাপাশি থাকে তীব্র শরীর ব্যথা। তবে পার্থক্য হলো, ডেঙ্গুজ্বরে চোখ ও মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা হয়, মাংসপেশি ও হাড়ে ব্যথাও হয়। তবে গিরা তেমন ফুলে না বা ব্যথাও কম থাকে। কিন্তু চিকুনগুনিয়ার বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে গিরায় ব্যথা। আফ্রিকার আঞ্চলিক ভাষায় এই চিকুনগুনিয়ার মানে বাঁকা হয়ে যাওয়া।কারণ এতে আক্রান্ত রোগীর ঘাড়, পিঠ, মাজায় এত তীব্র ব্যথা হয় যে সোজা হয়ে দাঁড়াতেও কষ্ট হয়। তখন কেউ কেউ খুঁড়িয়ে হাঁটতে বাধ্য হন। চলতি বছর বাংলাদেশে রোগটির আকস্মিক বিস্তার দেখা দিয়েছে। চিকুনগুনিয়া মশা বাহিত একটি ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস যে এডিস মশা বহন করে, সেই মশাই চিকুনগুনিয়া ভাইরাসেরও বাহক।
Virus Chikungunya
চিকনগুনিয়া ভাইরাস বহনকারি মশা।
কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণায় বলা হয়, ১৯৫২ সালে প্রথম তানজানিয়ায় রোগটি সনাক্ত হয়। আর বাংলাদেশে ২০১২ সাল থেকে এই রোগটির প্রকোপ প্রথম দেখা যায়। তবে এখন বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে রোগটি দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই রোগের কোন নির্দিষ্ট প্রতিকার নেই। লক্ষণ দেখে চিকিৎসা ঠিক করা হয়। এ বছর ডেঙ্গির তুলনায় চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামণ রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা সম্প্রতি চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। চিকনগুনিয়ার হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করতে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে (সিডিসি)। আজ সোমবার রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরস্থ ৯ নং এবং ১০ ওয়ার্ড থেকে এই সচেতনতা মূলক প্রচার ও প্রচারণা শুরু হয়েছে। আগামী ৫ দিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯ টি ওয়ার্ডে এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫ টি জোনে এই প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। এই প্রচার কার্যে ৫ জন ডাক্তার, ৫ জন নার্স, ২ জন স্থানীয় মসজিদের ইমাম, ২ জন স্থানীয় কাউন্সিলর, শিক্ষক প্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ গ্রহন করবেন। এছাড়াও চিকনগুনিয়ার প্রতিরোধে কন্টোল রুম খোলা হবে এবং এই কন্টোল রুম তদারকির জন্য আগামীকাল কমিটি গঠন করা হবে। এই কন্টোল রুম থেকে সারাদেশের হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়োত খোজ খবর রাখা হবে। সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি)-র লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বাসসকে জানান, চিকনগুনিয়ার বিস্তার প্রতিরোধে জনগণের সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত মূলক কার্যক্রমের অংশ হিসাবে আমরা এই সচেতনতা মূলক প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছি। চিকনগুনিয়া জ্বর নিয়ে আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, চিকনগুনিয়া জ্বর নিয়ে আপনারা আতঙ্কিত হবেন না। মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে এবং খেয়াল রাখেতে হবে বাড়ির আশে পাশে কোথাও যাতে কোন পানি তিন দিনের বেশি সময় জমা হয়ে না থাকে। চিকনগুনিয়া মরণঘাতী কোনো রোগ নয়। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সচেতন থাকলেই এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব।