মহানবী(সাঃ)এর শৈশবে বিশ্রাম নেয়া গাছটি আজো বেঁচে আছে

761
 Blessed Tree.
শৈশবে মহানবী(সাঃ) বাণিজ্য উপলক্ষে মক্কা থেকে তৎকালীন শাম বা সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে পথিমধ্যে জর্ডানের মূরুভূমির অভ্যন্তরে সাফাঈ এলাকায় অবস্থিত যে গাছটির নিচে বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেই গাছটি আজো সমহিমায় বেঁচে আছে।
ঢাকা,শনিবার,১ এপ্রিল-২০১৭ :  আজ থেকে প্রায় ১৪৩৫ বছর পূর্বে মহানবী (সাঃ) চাচা আবু তালিবের সঙ্গে বাণিজ্য উপলক্ষে মক্কা থেকে তৎকালীন শাম বা সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে পথিমধ্যে যে গাছটির নিচে বসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেই গাছটি আজো সুশোভিত হয়ে পত্র-পল্লবে বেঁচে আছে।সেই গাছটির নাম ”পবিত্র গাছ” বা সৌভাগ্যশালী গাছ বা সাহাবি গাছ।গাছটিকে অধিকাংশ ঐতিহাসিকগণ সাহাবি গাছ নামে অভিহিত করে থাকেন। ইংরেজিতে এ গাছকে বলা হয় The Blessed Tree।মহানবী (সাঃ)এর বয়স যখন প্রায় ১২ বছর তখন চাচা আবু তালিবের সঙ্গে বাণিজ্য উপলক্ষে মক্কা থেকে তৎকালীন শাম বা সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে পথিমধ্যে এই গাছটির নিচে বসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। জর্ডানের মূরুভূমির অভ্যন্তরে সাফাঈ এলাকায় গাছটির অবস্থান। সেই গাছটি আজো সগৌরবে,পত্র-পল্লবে মেলে জীবিত অবস্থায় সমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। সত্যিই বিষ্ময়কর। পৃথিবীতে এত পুরনো কোনো গাছ যদিও এখনো বেঁচে থাকেনা। তবে  সত্যি মহানবী (সাঃ)এর বিশ্রাম নেয়া সেই The Blessed Tree আজো বেঁচে আছে। মরুভূমির রুক্ষ পরিবেশের কারণে জন্ম থেকেই গাছটি ছিল পাতাহীন শুকনো কিন্তু একসময় আল্লাহর হুকুমে গাছটি সবুজ পাতায় ভরে উঠে এবং আজ পর্যন্ত গাছটি সবুজ শ্যামল পত্র-পল্লবে ভরে সুস্থ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ সর্বপ্রথম এই স্থানটিকে পবিত্র স্থান হিসেবে ঘোষণা দেন।৫৮২ খ্রিস্টাব্দে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর বয়স তখন ১২ বছর, তিনি তার চাচা আবু তালিবের সঙ্গে বাণিজ্য উপলক্ষে মক্কা থেকে তৎকালীন শাম বা সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ত্রাপথে তারা সিরিয়ার অদূরে জর্ডানে এসে উপস্থিত হন। জর্ডানের সেই এলাকাটি ছিল শত শত মাইল ব্যাপী বিস্তৃত উত্তপ্ত বালুকাময় এক মরুভূমি। মোহাম্মদ (সা.) এবং তার চাচা আবু তালিব মরুভূমি পাড়ি দেয়ার সময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তখন তারা একটু বিশ্রামের জায়গা খুঁজছিলেন। কিন্তু আশপাশে তারা কোনো বসার জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। চারদিকে যত দূর চোখ যায় কোনো বৃক্ষরাজির সন্ধান পাচ্ছিলেন না।কিন্তু জর্ডানের মরুভূমির অভ্যন্তরে দূরে সাফাঈ নামক এলাকায় তাঁরা দণ্ডায়মান একটি মৃত প্রায় গাছ দেখতে পেলেন। প্রচণ্ড রোদ্রের মধ্যে উত্তপ্ত মরুভূমির মাঝে গাছটি ছিল লতাপাতাহীন শীর্ণ ও মৃতপ্রায়। উপায় না পেয়ে তারা মরুভূমির উত্তাপে শীর্ণ পাতাহীন সেই গাছটির তলায় বিশ্রাম নিতে বসেন। উল্লেখ্য, রাসূল মোহাম্মদ (সা.) যখন পথ চলতেন তখন আল্লাহর নির্দেশে মেঘমালা তাকে ছায়া দিত এবং বৃক্ষরাজিও তাঁর দিকে হেলে পড়ে ছায়া দিত।
 Blessed Tree.
The Blessed Tree গাছটি জর্ডানের মূরুভূমির অভ্যন্তরে সাফাঈ এলাকায় অবস্থিত
মোহাম্মদ (সাঃ) তাঁর চাচাকে নিয়ে যখন গাছের তলায় বসেছিলেন তখন তাদের ছায়া দিতে আল্লাহর নির্দেশে মৃতপ্রায় গাছটি সজীব হয়ে উঠে এবং গাছটির সমস্ত ডালপালা সবুজ পাতায় ভরে যায়। সেই গাছটিই বর্তমানে সাহাবি গাছ নামে পরিচিত। এ ঘটনা দূরে দাঁড়িয়ে জারজিস ওরফে বুহাইরা নামে একজন খ্রিস্টান পাদ্রি সবকিছু দেখছিলেন। জারজিস ওরফে বুহাইরার আস্তানা ছিল অনতি দূরে। জারজিস ওরফে বুহাইরা ঐশরিক গ্রন্থ তাওরাত ও  ইনজিল শরিফের একজন পন্ডিত ছিলেন। মোহাম্মদকে (সা.) কাছে এসে পাদ্রী আবু তালিবকে বলেন, আমি শতবছর ধরে এখানে অপেক্ষা করছি কিন্তু কোনোদিন এই গাছের নিচে কাউকে বসতে দেখিনি। গাছটিও ছিল পাতাহীন কিন্তু আজ গাছটি পাতায় পাতায় সবুজে পরিপূর্ণ। পাদ্রী আবু তালিবকে জিজ্ঞাসা করেন, এই বালক ছেলেটির নাম কি? চাচা আবু তালিব উত্তর দিলেন মোহাম্মদ! খ্রিস্টান পাদ্রী আবার জিজ্ঞাসা করলেন, বাবার নাম কি? চাচা আবু তালিব উত্তর দিলেন আব্দুল্লাহ!, মাতার নাম? চাচা আবু তালিব আবারও উত্তর দিলেন আমিনা! বালক মোহাম্মাদকে (সা.) দেখে এবং তার পরিচয় জানতে পেরে  দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পন্ডিত পাদ্রী চিনতে পারলেন এবং বুঝতে পারলেন পুরাতন ধর্মগ্রন্থ্ তাওরাত ও ইনজিল শরিফে উল্লেখিত তথ্য মতে এই সেই বহু প্রতীক্ষিত শেষ জামানার শেষ নবী মোহাম্মদ(সাঃ)। চাচা আবু তালিবকে ডেকে পাদ্রী বললেন, তোমার সঙ্গে বসা বালকটি সারা জগতের সর্দার, সারা বিশ্বের নেতা এবং এই জগতের শেষ নবী। তিনি বলেন, আমি তার ভবিষ্যত আগমন সম্পর্কে  তাওরাত ও  ইনজিল শরিফে পড়েছি এবং আমি ঘোষণা করছি ও সুসংবাদ দিচ্ছি এই বালকটিই শেষ নবী, শেষ জামানার নবী। এতে কোন সন্দেহ নেই। খ্রিস্টান পন্ডিত জারজিস ওরফে বুহাইরা চাচা আবু তালিবকে বলেন, এই বালককে হত্যা করার জন্য ইহুদীরা খুঁজছে, আপনারা দয়া করে সামনে সিরিয়ার দিকে যাবেন না। বালক মোহাম্মদকে নিয়ে মক্কার দিকে ফিরে যান। আমি এখানে শেষ জামানার নবী মোহাম্মদ(সাঃ)এর জন্য অপেক্ষা করছি।  চাচা আবু তালিব ও মহানবী (সা.) ও তার কাফেলা নিয়ে দ্রুত মক্কার দিকে রওনা হলেন। ইতিহাস আজও সাক্ষ্য দিচ্ছে  চাচা আবু তালিব ও মহানবী (সা.) যেই গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেই গাছটি ১৪৩৪ বছর পূর্বে যে অবস্থায় ছিল, আজো সেই অবস্থায় জর্ডানের মরুভূমিতে সাফাঈ এলাকায় সমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। গাছটি সবুজ লতা-পাতায় ভরা এবং সতেজ ও সবুজ। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, গাছটি যেখানে অবস্থিত তেমন মরুদ্যানে কোনো গাছ বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। গাছটির আশপাশের কয়েকশ’ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আর কোনো গাছ নেই। গাছটির চারিদিকে দিগন্ত জোড়া শুধুই মরুভূমি আর মরুভূমি।সাহাবি গাছটি উত্তপ্ত বালুকাময় মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে আজো পরম করুণাময় আল্লাহ-তাআলার অসীম ক্ষমতা ও মহিমার জ্বলন্ত সাক্ষ্য দিচ্ছে।

The Blessed Tree (সাহাবী গাছ)।

আজ থেকে প্রায় ১৪৩৪ বছর পূর্বে মহানবী (সাঃ) যে গাছটির নিচে বসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেই গাছটি আজো পত্র-পল্লবে বেঁচে আছে। সেই গাছটির নাম The Blessed Tree বা সাহাবী গাছ। ভিডিওটিতে গাছটি দেখুন। ভিডিওটি চ্যানে আই কর্তৃক ধারনকৃত।

Posted by Rahee Islam on Friday, June 17, 2016