অনলাইন গণমাধ্যম নীতি ২০১৭ খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত

151
Online Media Policy
নগরীর জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতি-২০১৭’ এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়।

ঢাকা,মঙ্গলবার ২০ জুন, ২০১৭: সুসমন্বিত অনলাইন গণমাধ্যম পরিচালনার লক্ষ্যে দেশে একটি জাতীয় সম্প্রচার কমিশন গঠনের প্রস্তাব সম্বলিত ‘জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতি-২০১৭’এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।গতকাল সোমবার নগরীর জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে রেডিও, টিভি ও সংবাদপত্রসহ মূল ধারার গণমাধ্যমের অনলাইন সংস্করণ পরিচালনার বিস্তারিত দিক-নির্দেশনা সম্বলিত খসড়ার এই অনুমোদন দেয়া হয়।বৈঠক শেষে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘জাতীয় ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশের অনলাইন গণমাধ্যম যাতে সংগঠিতভাবে কাজ করতে পারে তার জন্য এই খসড়া নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম আরো বলেন, এই খসড়া নীতিতে দেশের প্রতিটি অনলাইন গণমাধ্যমকে প্রস্তাবিত জাতীয় সম্প্রচার কমিশনের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অবশ্য তিনি জানান, যে সব অনলাইন মিডিয়া প্রেস এন্ড পাবিলকেশন্স এ্যাক্টের ১৯৭৩-এর আওতায় ইতোমধ্যে নিবন্ধন পেয়েছে সেগুলোকে জাতীয় সম্প্রচার কমিশনে পুনঃনিবন্ধন করতে হবে না। তিনি বলেন, তবে সংশ্লিষ্ট অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে তাদের ইতোপূর্বেকার নিবন্ধনের বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করতে হবে। শফিউল আলম বলেন, রেডিও, টিভি, সংবাদপত্র ও অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের অনলাইন গণমাধ্যমের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য এই খসড়া নীতিতে একটা বিস্তারিত দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার পরবর্তীতে কার্যপ্রণালীবিধি প্রণয়ন করবে। অতপর কমিশন সম্প্রচারকদের লাইসেন্স প্রদানের জন্য দিক-নির্দেশনা তৈরির ক্ষমতা প্রাপ্ত হবে। এছাড়া এই কমিশন সরকারকে টেলিভিশন, রেডিও, ইন্টারনেট টিভি অথবা অন্যান্য ডিজিটাল সম্প্রচার স্টেশনকে লাইসেন্স প্রদানের জন্য সুপারিশ করবে এবং সরকারের অনুমোদনের জন্য লাইসেন্স ইস্যু করবে। প্রস্তাবিত খসড়া নীতি অনুযায়ী কমিশন অনলাইন গণমাধ্যমের যে কোন প্রতিবেদনের কারণে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির তরফে অভিযোগ গ্রহণ করবে।
শফিউল আলম বলেন, সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় সম্প্রচার নীতি-২০১৪ লংঘন করে কোন কিছু প্রচার করলে কমিশন তাকে কারণ দর্শনোর নোটিশ প্রদান। তদন্ত শুরু করা ও তার বিরুদ্ধে আরো ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের কাছে সুপারিশ করতে পারে। তিনি বলেন, কমিশনের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে কোন অনলাইন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান আচরণবিধি লংঘন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে তবে কমিশন নিজেই ওই অনলাইন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
নিরাপত্তা আঞ্চলিক সংহতি, শান্তি, জন শৃঙ্খলা ও দেশের ঐক্যের জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী কোন কিছু অনলাইনে সম্প্রচার হলে কমিশন উক্ত অনলাইন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণেও সক্ষম হবেন।
এছাড়া কমিশন কুরুচিপূর্ণ, মিথ্যা ও বিদ্বেষপূর্ণ খবর এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী ও জাতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিকৃতিমূলক কোন কিছু সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।বৈঠকে সম্প্রতি পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার ও মৌলবীবাজার জেলায় প্রায় ১৬০ ব্যক্তি নিহত ও আহতদের এবং লন্ডনের একটি টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহত ও আহতদের স্মরণে একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালকসহ মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ‘ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) অ্যাওয়ার্ড ২০১৭’ তুলে দেন।এর আগে ২০১৭ সালের ১৩ জুন জেনেভায় আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশকে এই পুরস্কার প্রদানের কথা ঘোষণা করা হয়।সূত্রঃবাসস।