বেগম জিয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

65
Khaleda Zia
বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী,বেগম খালেদা জিয়া।
ঢাকা,শুক্রবার,১১ আগস্ট ২০১৭:বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী,বেগম খালেদা জিয়ার বিগত সাত বছরের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কর অঞ্চল ৮’র উপকর কমিশনার মো. সফিউল আজম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গতকাল(বৃহস্পতিবার) ব্যাংকগুলোয় পৌঁছেছে। ১৭ আগস্টের মধ্যে ব্যাংকগুলো থেকে বেগম খালেদা জিয়ার হিসাবের তথ্য পাঠাতে হবে।
এনবিআরের চিঠির ভাষা থেকে জানা যায়,আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ১১৩ (এফ) অনুসারে এ হিসাব তলব করা হয়েছে। চিঠিতে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে ‘বেগম খালেদা, পিতা : মরহুম ইস্কান্দার মজুমদার, স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, টিআইএন নম্বর ১৭৩৯৩৯৫৬৭২৯৭/সার্কেল ১৬৩। বাড়ি নং এনইডি-১, রোড নং ৭৯, গুলশান-২ ঢাকা। ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে এই চিঠি পাওয়া পর্যন্ত সমস্ত হিসাব, লেনদেনের তথ্য সাত দিনের মধ্যে জানাতে হবে।’ এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার আয়কর আইনজীবী আহমেদ আজম খান বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম এক ধরনের রাজনৈতিক হয়রানি। কারণ বর্তমানে খালেদা জিয়ার হিসাব জব্দ করে রাখা হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি মাসে মাত্র ৫০ হাজার টাকা তোলার অনুমতি রয়েছে।ইতোপূর্বে ওয়ান ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছিল এনবিআর। ওই সময়ে খালেদা জিয়ার নিজ নামে বিভিন্ন ব্যাংকের ৮টি হিসাব জব্দ করা হয়। তখন হিসাব জব্দ করা হলেও প্রতিমাসে খরচের জন্য সব হিসাব মিলে ৫০ হাজার টাকা তোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ওই একই সীমা বলবৎ রয়েছে। আহমেদ আজম খান বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে,বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেহেতু এনবিআরের মামলা নেই, তাই হিসাব খুলে দেয়া হোক। এতে সরকার রাজি না হওয়ায় বাসা ভাড়া ও অন্যান্য খরচ বাবদ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা তুলতে দেয়ার অনুমতি চেয়েছিলাম, তা-ও আমলে নেয়নি মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সরকার এবং বর্তমান সরকার। তিনি বলেন, মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের আমলে দুই নেত্রীর হিসাব জব্দ করা হয়েছিল। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর হিসাব খুলে দেয়া হয়। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হিসাব খুলে দেয়া হয়নি। অর্থাৎ ওই সময় থেকেই ম্যাডামের ওপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একপেশে নীতি গ্রহণ করে আসছে।