বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা,২জনের ফাঁসি,৪ জনের যাবজ্জীবন ও ২ জন খালাস

399
biswajit das murder
পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করার দৃশ্য।
ঢাকা,৬ আগস্ট ২০১৭: পুরান ঢাকার দর্জি বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ছাত্রলীগের আট আসামির মধ্যে দু’জনের ফাঁসির রায় বহাল রেখেছে,বাকি ছয় জনের মধ্যে চার জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দিয়েছে ও দুই জনকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের এই বেঞ্চ এ রায় দেন। একই সঙ্গে সঠিক রিপোর্ট প্রদানে ব্যর্থতায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
নিম্ন আদালতের রায়ে ফাঁসির আদেশ পাওয়া ৮ জনের মধ্যে রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। ফাঁসির আদেশ প্রাপ্তদের মধ্যে রাজন পলাতক রয়েছে। অন্য ছয়জনের মধ্যে মাহফুজুর রহমান নাহিদ, ইমদাদুল হক এমদাদ, জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মীর মোহাম্মদ নূরে আলম লিমনের সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসির দন্ডাদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। লিমন পলাতক থাকলেও অন্য তিনজন কারাগারে আছেন।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম সাইফুল ও কাইয়ূম মিয়া টিপুকে খালাস দেয়া হয়েছে।
Biswajit murder
পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে হত্যা করার দৃশ্য।
উল্লেখ্য ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপির-নেতৃত্বাধীন ১৮-দলের অবরোধ কর্মসূচি চলার সময় পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় বিশ্বজিৎ দাসকে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারে বিশ্বজিতের দর্জি দোকান ছিল। তিনি থাকতেন লক্ষ্মীবাজার। গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর।
অনেকগুলো গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনেই ওই ঘটনা ঘটে এবং তাকে নির্মমভাবে হত্যার দৃশ্য সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। বিব্রতকর এক পরিস্থিতির মুখে পড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ঘটনার পরদিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এরপর সাত আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ২১ জন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। আসামিদের মধ্যে আটজন রফিকুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান, রাশেদুজ্জামান, কাইয়ুম মিয়া, এস এম কিবরিয়া, এমদাদুল হক, সাইফুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফা কারাগারে আটক আছেন।
Biswajit murder
পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে হত্যা করার দৃশ্য।
হত্যাকাণ্ডের তিন মাসের মধ্যে ২১ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম। অভিযোগপত্র গ্রহণের পর মামলা চলমান অবস্থায় বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সরকারের সিদ্ধান্তে তা দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলায় ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক। রায়ের এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা।
চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি। গত ১৬ মে-২০১৭, বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিতকরণ) ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল শুনানি শুরু হয়। গত ১৭ জুলাই বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজকের ৬ আগস্ট দিন ধার্য করে হাইকোর্ট।
পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে হত্যা করার দৃশ্য।
বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে হত্যা করার দৃশ্য বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে দেখানো হলো।