বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে : ওবায়দুল কাদের

402
Bridge-minister
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের৯ফাইল ফটো)
ঢাকা,সোম বার ৬ মার্চ ২০১৭ : আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের ৪র্থ মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক স্মরণসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,বিএনপির ভাঙ্গা রেকর্ড হলো মানি না মানবো না। বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে। তাই তাদের এই ভাঙ্গা রেকর্ড বাজিয়ে কোন লাভ হবে না। তিনি বলেন,বিএনপিকে এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করতে হচ্ছে। ‘অস্তিত্ব রক্ষার জন্যেই এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। আগামী নির্বাচনে না আসলে তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন,বর্তমান নির্বাচন কমিশন অধিক শক্তিশালী, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ। ইতোমধ্যে কমিশনের সদস্যরা তা প্রমাণ করেছেন।তাই এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সকল নির্বাচনই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হবে। স্মরণসভার শুরুর আগে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মরহুম আব্দুল জলিলের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন ও দোয়া পাঠ করেন। নওগাঁ জেলা শহরের নওযোয়ান মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে, অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধূরী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য খাইরুজ্জামান লিটন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি, প্রমূখ। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান, পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হকসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে বিএনপির অবস্থা মুসলিম লীগ কিংবা জাসদের মতো হবে। আমরা এমন বিএনপি দেখতে চাই না। শক্তিশালী বিএনপির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চাই।
khaleda zia
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া (ফাইল ফটো)
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণ বিএনপিকেই ক্ষমতায় বসাবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে কখনই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না।আগামী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার গোপন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ তাদের আজ্ঞাবহ অযোগ্য, বিতর্কিত ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করেছে। সুতরাং আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাওয়া সম্ভব নয়।পরবর্তী নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিলের যে আশঙ্কা রয়েছে, সেটি আমলে নিচ্ছে না বিএনপি ।  নির্বাচনকালে কেবল নিরপেক্ষ সরকার হলেই বিএনপি অংশ নেবে বলে দাবি করছেন দলের সকল পর্যায়ের নেতারা।
Fakhrul Islam
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর৯ফাইল ফটো)
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপিকে নির্বাচনে নিতে সরকার গভীর ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নিতে সরকারের এজেন্টরা বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি, হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। প্রতিনিধিত্ব আদেশ আইনের (আরপিও) রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত ধারার প্রতি ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, যে আইন মানুষের উপকারে আসে না, সেটি আইন নয়। আবারও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি তুলে ধরেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেন, যে নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোট দিতে পারবে না, সেটিকে কি আমরা নির্বাচন বলতে পারি ? নিশ্চই পারি না। আওয়ামী লীগ চায় আবারো ৫ জানুয়ারির মত একতরফা ভূয়া ভোটের নির্বাচন করে ক্ষমতায় যেতে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এবার সেটি হতে দেবে না। বাংলাদেশের জনগন কখনোই ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন মেনে নেয়নি,মেনে নেবে না। ষড়যন্ত্র করে পুলিশ দিয়ে সাময়িকভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় কিন্তু জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায় না। জনগনের ভালবাসা পাওয়া যায় না।
Mosharraf-Hossain
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন
সম্প্রতি জাতীয়তাবাদী নাগরিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন সরকারের উদ্দেশে বলেন, বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচন হবে না। সে চিন্তা করলে জনপ্রতিরোধ তৈরি করে গণবিস্ফোরণ ঘটান হবে। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এদেশের জনগণ হলো দেশের মালিক-মোক্তার, আপনারা (সরকার)নন। সেখানে নিবন্ধন বাতিলের বিষয় নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না।’ নির্বাচনের সময়ে নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করেই আমরা ইনশাআল্লাহ নির্বাচন করব।
gayeshwar
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রশ্ন রেখে বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে আগামী নির্বাচনে অংশ নিলে ৫ বছর আগে অংশ নিলাম না কেন ? কারন শেখ হাসিনার অধীনে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া মানেই আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার ৫ জানুয়ারির ভূয়া নির্বাচনকে মেনে নেয়া। বিএনপি কখনই শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না। কোনো আপস নয়, প্রয়োজনে হলে কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, সংগ্রাম করবে। তিনি বলেন,পরবর্তী নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিলের যে আশঙ্কা রয়েছে, সেটি বিএনপি আমলে নিচ্ছে না।বিএনপির নিবন্ধন বাতিলের কথা বলে জুযুর ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই।নির্বাচনকালীন কেবল নিরপেক্ষ সরকার হলেই কেবল বিএনপি অংশ নেবে। স্বৈরাচারের মোকাবিলার জবাব রাজপথেই দিতে হবে। তাই আসুন আমরা সবাই গণতন্ত্রের জন্য আরো একবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে লড়াই করি।ভূয়া মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যে খালেদা জিয়ার সাজা দেয়া এতই সহজ। আজকে যাদের ফাঁসি হওয়ার কথা তারা রাষ্ট্র চালাচ্ছে।
Ruhul Kabir
আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
বিএনপি যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছাটাই বড় (নিবন্ধন)। আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে ‘বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে’ বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন,আপনি বলেছেন, বিএনপি যদি না আসে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যাবে। রেজিস্ট্রেশন কী? আপনারা যখন ’৭৯ সালে, ’৮৬ সালে নির্বাচনে গিয়েছিলেন,কোন রেজিস্ট্রেশনের ওপরে নির্বাচনে গিয়েছিলেন ? তিনি বলেন, এই দেশটি ছোট হলেও সাড়ে ১৬ কোটি মানুষকে আপনি রেজিস্ট্রেশনের ফিতায় বাঁধবেন, সেই সুখ-স্বপ্ন কোনোদিন পূরণ হবে না।