বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগে আগুন!!!

150
Bangladesh-Bank
রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা, শুক্রবার ২৪ মার্চ  ২০১৭ : রাজধানীর মতিঝিল ব্যাংক-এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ তলা ভবনের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্টে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯.৩০ মিনিটের দিকে আগুন ধরে যায়। আগুনের সূত্রপাত ঘটে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩ তলায় বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের (জিএম) কক্ষের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে। দমকল বাহিনীর ১২টি ইউনিট দ্রুততার সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ১ঘন্টা সময় লাগে। ইলেকট্রিক শর্টসার্কিট  থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩০ তলা ভবনের ১৩ তলায় রাত নয়টার পরে আগুন লাগার ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সহকারী পরিচালক আজাহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, যে ফ্লোরটিতে আগুন লেগেছে সেখানে মূলত বৈদেশিক মূদ্রা বিষয়ক দফতরের কাজ কর্ম হয়।আগুনে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনো পরিষ্কার কোন ধারণা পাওয়া যায় নি।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম. এ. মান্নান বলেন, ‘কাকতালীয় হোক আর যা-ই হোক,আগুন লাগার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। আমাদের আইসিটি বিভাগ, বুয়েট ও কম্পিউটার সায়েন্সের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া হবে। ঘটনা যা-ই ঘটুক, প্রকৃত ঘটনা সবাইকে জানানো হবে।
গর্ভনরের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামালের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে আগামী ২৮ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে উপ-পরিচালকের (ঢাকা) নেতৃত্বে ৫ সদস্যের পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) লিপিবদ্ধ করেছে । জিডি নং- ১৫৭৩। আজ শুক্রবার ব্যাংকের যুগ্ম-পরিচালক নুরুল ইসলাম মতিঝিল থানায় এ জিডিটি করেন।
এদিকে,বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ তলা ভবনের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগে আগুন লাগার বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ  মন্তব্য করেন।মি খসরু বলেন,গত বছর ৪ ফেব্রুয়ারি হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয়। রিজার্ভ চুরির দুই মাস পর দেশের মানুষ তা জানতে পারে। তাও আবার ফিলিপাইনের পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হ্ওয়ার পর।রিজার্ভ চুরির ঘটনার তদন্ত করা হলেও তার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। কেন রিজার্ভ চুরির ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদ প্রকাশ করা হচ্ছে না, তা বাংলাদেশের গণমাধ্যম লিখতেও পারছে না। তবে ফিলিপাইন বলেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরের লোকজনই রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত। ব্যাংকের ভেতর থেকেই এ কাজ হয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকও একই কথা বলেছে। এ কারণেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও মি খসরু দাবি করেন। বিএনপি নেতা মি খসরু বলেন,এই সময় আগুন লাগার কারণ কি ‘অনেকেই সন্দেহ পোষণ করছে। এটাই জনগণের প্রশ্ন ? তিনি বলেন, গত বছর ৪ ফেব্রুয়ারি হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয়র সাথে তুলনা করে কেউ কেউ এই অগ্নিকাণ্ডকেও ‘রহস্যজনক’ বলে মনে করছে।