ফরিদপুর জেলা আ’লীগ নেতা বাবু ধর্ষণ মামলায় আটক

304
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোকাররম মিয়া বাবু
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোকাররম মিয়া বাবু

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোকাররম মিয়া বাবুকে ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির মামলায় আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। মোকাররম মিয়া বাবুকে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। সোমবার দুপুরে ১ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক মো. হামিদুর রহমান এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাবুর বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ ও পাঁচটি চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এস এম সরোয়ার হোসেন সন্টু ১৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলাটি করেন। এর আগে মোকাররম মিয়া বাবুকে বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে সরাসরি আদালতে আনা হয়। বাবুর রিমান্ডের শুনানি দীর্ঘ সময়ই চলে। বাবুর রিমান্ডের বিরোধিতা করে তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন ফরিদপুর জজ কোটের্র অ্যাডভোকেট বদিউজ্জামান বাবুল।তাকে সহযোগিতা করেন- বাবুর ঘনিষ্ট আত্মীয় অ্যাডভোকেট ছরোয়ার, খন্দকার লুৎফর রহমান পিলু, হাবিবুর রহমান হাবিব, তৌহিদুল ইসলাম স্ট্যালিন, শফিক মুন্সি, সায়েম প্রমুখ। অপরদিকে, মোকাররম মিয়া বাবুর বিরুদ্ধে এবং রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট খসরুজ্জামান দুলু। তাকে সহযোগিতা করেন- সিনিয়র অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী বাবু মৃধা, স্বপন পাল, বাবু মোল্লা, জাহিদ ব্যাপারী, কামাল উদ্দীন, শাজাহান মোল্লা, অনিমেষ রায়, শফিকুর রহমান, আব্দুস সালাম, শফিকুল ইসলাম উজ্জল, প্রবীর দাস লক্ষ্মণ, সুচিত্রা সিকদার, অলোকেশ রায় প্রমুখ।  উল্লেখিত আইনজীবীরা আদালতে বাবুকে একজন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী উল্লেখ করে তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে দেওয়ার জন্য যুক্তি উপস্থাপন করে জোরাল দাবি জানান। অপরদিকে, বাবুর পক্ষে থাকা আইনজীবীরা তাকে একজন ভালো মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পুলিশের করা রিমান্ডের তীব্র বিরোধিতা করে তার জামিনের জন্য আবেদন জানান। দুই পক্ষের যুক্তি তর্ক উপস্থাপন শেষে আদালতের বিচারক মো. হামিদুর রহমান ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে, মোকাররম মিয়া বাবুকে আদালতে হাজির উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা  হয়। একমাত্র মামলার বাদী এবং অ্যাডভোকেট ও সাংবাদিক ছাড়া কাউকেই আদালতের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। তবে আদালতের বাইরে বিশেষ করে কাঠাল তলায় উৎসুক জনতার ভীড় ছিল। সোমবার যে মামলার শুনানি হয়েছে, সেই মামলার বাদী সন্টু জানান, গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাবু এবং তার সহযোগী জেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ মুখার্জি তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। নিজের জীবন রক্ষার্থে সন্টু পরের দিন রাত আটটার দিকে ধুলদী রেল গেটের কাছে মল্লিক ট্রেডার্সে বসে বাবুকে নগদ ১৫ লাখ টাকা চাঁদা প্রদান করেন। চাঁদার টাকা নেওয়ার পর বাবু সন্টুকে এই বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়ে যান। পরে সন্টু বাদী হয়ে বাবু এবং সত্যজিতের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় চাঁদাবাজির এই মামলাটি দায়ের করেন।