প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৫ প্রদান

169
film award 2015
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৫ প্রদান করেন।

ঢাকা,মঙ্গলবার ২৫ জুলাই, ২০১৭:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে তুলে ধরে উন্নত ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের আহবান জানিয়েছেন। তিনি এজন্য প্রয়োজনীয় সব রকম সহযোগিতা প্রদানেরও আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে অবদানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে ২৫টি ক্যাটাগরিতে ৩১ জন শিল্পী ও কলা-কুশলীর হাতে বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেন। চিত্র নায়িকা শাবানা এবং সঙ্গীত শিল্পী ফেরদৌসি রহমান আজীবন সম্মাননা পুরকার লাভ করেন।এতে

film award
শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান জয়া আহসান (জিরো ডিগ্রি)।

শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান জয়া আহসান (জিরো ডিগ্রি)।  যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন রিয়াজুল মাওলা রিজু পরিচালিত ‘বাপজানের বায়েস্কোপ’ ও মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ‘অনিল বাগচীর একদিন’।শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার পেয়েছে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের ‘একাত্তরের গণহত্যা ও বধ্যভূমি’। যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন মো. রিয়াজুল মাওলা রিজু (বাপজানের বায়েস্কোপ) এবং মোরশেদুল ইসলাম (অনিল বাগচীর একদিন)।
প্রধান চরিত্রে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন শাকিব খান (আরো ভালবাসবো তোমায়) এবং মাহফুজ আহমেদ (অনিল বাগচীর একদিন)।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রকৃত শিল্পী ও কলা-কুশলীদের মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে কেউ কাউকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবেন না।তিনি বলেন,আমি চাই প্রকৃত শিল্পী ও কলা-কুশলীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে মনোযোগী হবে।প্রধানমন্ত্রী’বলেন, ‘আমাদের ক্ষমতা থাকতে পারে, কিন্তু আমরা এর অপব্যবহার হোক তা চাই না। আমি প্রত্যেককে এ ব্যাপারে কোন চাপ সৃষ্টি না করার অনুরোধ করবো।’শেখ হাসিনা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরে মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানান এবং বলেন, তাঁর সরকার এর জন্য যা করা দরকার তা করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যোগ্য চিত্রনাট্যকারের অভাব রয়েছে। ভাল চিত্রনাট্য সম্বলিত একটি চলচ্চিত্র দর্শকদের হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারে এবং তারা সিনেমার একটি সুন্দর আবেগ নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে। তিনি শিল্পী, সাহিত্যিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের প্রতি বিষয়টি বিবেচনার জন্য আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনের জন্যও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানান।চলচ্চিত্রকে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সংগ্রাম ও সমাজের চিত্র চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত হয়। এই সৃজনশীল শিল্পের মাধ্যমকে সাধারণ মানুষের খুব কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া সম্ভব। ফলে সাধারণ মানুষ সৃজনশীল কর্মে অনুপ্রেরণা পায়। তারা সামাজিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উৎসাহিত হয়। তিনি বলেন, শিল্পী, কলা-কুশলী ও চলচ্চিত্র নির্মাতারা দেশ গঠনে সাধারণ মানুষকে প্রেরণা যোগান।
শেখ হাসিনা বলেন, সাভারের কবিরপুরে ১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ে ‘বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি’ নির্মাণ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এখানে আন্তর্জাতিক মানের ফিল্ম সিটি গড়ে উঠবে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত শ্যুটিং স্পট তৈরি করা হবে। এখানে আধুনিক ও বিশ্বমানের ‘বঙ্গবন্ধু ফিল্ম আর্কাইভ’ গড়ে তোলা হচ্ছে। আমরা চলচ্চিত্র শিল্পে মেধাবী ও সুদক্ষ কর্মী সৃষ্টির জন্য ফিল্ম ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছি। চলচ্চিত্রের মানোন্নয়নে চলচ্চিত্র নির্মাণ, চলচ্চিত্র বিষয়ে অধ্যয়ন, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছি।

Nationa -Film Award
প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৫ প্রদান

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চলচ্চিত্রেও পিছিয়ে থাকতে চাই না এবং আমি কথা দিচ্ছি যে, চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে যে সহযোগিতা প্রয়োজন তা আমরা করবো।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি বাজেট দিয়েছি। এখন আমরা প্রতিটি সেক্টরেই স্বনির্ভর। আমরা একটা বিজয়ী জাতি, কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে এমনকি চলচ্চিত্র শিল্পেও এই বিজয়ের ধারা বজায় রাখতে চাই।’প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলা-কুশলীসহ সংশ্লিষ্ট সকলে তাদের মেধা, পরিশ্রম ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।সবশেষে প্রধানমন্ত্রী পরে চলচ্চিত্র কলা-কুশলীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমাতুল্লাহ। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য সচিব মরতুজা আহমেদ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রীবর্গ, উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সম্মানিত নাগরিকগণ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং চলচ্চিত্র শিল্পে সম্পৃক্ত সব ধরনের কলা-কুশলীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

film award
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৫ প্রদান করেন।