প্রথম দিনটা স্বস্তিতে পার করলো বাংলাদেশ

127
Mushfiq-Sabbir
মুশফিক-সাব্বিরের জুটি
প্রথম টেস্টের মত দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ১০০ রান না তুলতেই টপঅর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বেশ বিপাকে পড়ে টাইগাররা। খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি প্রথম টেস্টের নায়ক সাকিব আল হাসান। ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন অজি স্পিনার নাথান লায়নরা। সেখান থেকে দুর্দান্ত এক জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন সাব্বির রহমান ও মুশফিকুর রহীম। দুজনে মিলে ৬ষ্ঠ উইকেটে উপহার দিলেন ১০৫ রানের জুটি। ম্যাচে ফিরল বাংলাদেশ। শেষ বেলায় সাব্বির ৬৬ রানে আউট হয়ে গেলেও দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিক (৬২*) এবং নাসির (১৯*) নিরাপদে দিন পার করেন। দিন শেষে ৬ উইকেটে ২৫৩ রান করা বাংলাদেশ তাই স্বস্তি পেতেই পারে।মঙ্গলবার টেস্টের দিনে একটি বা দুটি সেশন খেলতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে বড় রাখতে সক্ষম হবে টাইগাররা। আজ দিনের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়ে ফিরে যান তামিম ইকবাল। দলের রান তখন ১৩। নাথান লায়নের বলে লেগবিফোর হন এই টাইগার ওপেনার। প্রথম টেস্টের উভয় ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করা তামিম আউট হন ৯ রান করে। তিন নম্বরে ব্যাট করতে এসেছিলেন ইমরুল কায়েস। তবে তাঁকেও ফিরিয়ে দেন লায়ন।১৪তম ওভারের চতুর্থ বলটা এসে আঘাত হানে ইমরুলের প্যাডে। অসি ফিল্ডারদের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। তবে রিভিউ চেয়ে বসেন লায়ন। রিপ্লেতে দেখে ইমরুলকে আউট ঘোষণা করেন টিভি আম্পায়ার। বাংলাদেশের স্কোর তখন ২১।এরপর ৪৯ রানের জুটি বেঁধে ম্যাচে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে চলছিলেন সৌম্য-মুমিনুল। দলীয় ৭০ রানে নাথান লায়নের তৃতীয় শিকার হয়ে ফিরে যান ৩৩ রান করা সৌম্য সরকার।লাঞ্চের পর নাথান লায়নের চতুর্থ শিকার হন মুমিনুল হক। তামিম, সৌম্য, ইমরুলদের মতো মুমিনুলকেও লেগবিফোরের ফাঁদে ফেলেন লায়ন। ৬৭ বলে ৩১ রান করেন প্রথম টেস্টের দলে না থাকা ‘বাংলাদেশের ব্র্যাডম্যান’খ্যাত মুমিনুল।এরপর সাকিব-মুশফিক মিলে যোগ করেন ৩২ রান। তবে অ্যাশটন অ্যাগারের বলে উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। ৫২ বলে ২৪ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।সাকিব ফেরার পর মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। এই জুটি থেকে আসে ১০৫ রান। মুশফিক কিছুটা দেখেশুনে খেললেও সাব্বির খেলেন ওয়ানডের মেজাজে। তবে এক বিতর্কিত আউটে সাজঘরে ফিরে যান সাব্বির। তখন তাঁর ঝুলিতে ছিল ৬৬ রান। বল খরচ করেছেন ১১৩টি। তবে মুশফিকের সঙ্গে জুটি বেঁধে তারা দলকে একটা সম্মানজনক স্কোরের পথ দেখান।দিনের শেষ সময়ে অবশ্য আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি মুশফিক ও নাসির। আজ এক পেসার নিয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। যার অর্থ হচ্ছে, আরেকটি স্পিন বধ্যভূমিরই আভাস দিচ্ছে চট্টগ্রামের এই উইকেট। যেখানে স্পিনাররা ব্যাটসম্যানদের জীবন ওষ্ঠাগত করে তুলবেন। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে নাথান লায়ন নেন ৫ উইকেট।একই কারণে তিন স্পিনার নিয়ে মাঠে নেমেছে অস্ট্রেলিয়াও। নাথান লায়ন ও অ্যাশটন অ্যাগারের সঙ্গে হাত ঘোরাবেন স্টিভ ও’কিফ। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া দলে আরো একটি পরিবর্তন এসেছে। উসমান খাজাকে বসিয়ে দলে নেওয়া হয়েছে অলরাউন্ডার হিলটন কার্টরাইটকে।