প্রখ্যাত কবি রফিক আজাদ মারা গেছেন

308

প্রতিথযশা কবি ও প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা রফিক আজাদ মারা গেছেন।আজ শনিবার বেলা দুইটা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) তিনি ইন্তেকাল (ইন্না লিল্লাহি…. রাজিউন) করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।কবি রফিক আজাদ  মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে মারা যান।তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে গত ১৫ জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হন।ওই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে অদ্যাবধি কবি চিকিৎসাধীন ছিলেন।রফিক আজাদ ৫৮ দিন যাবৎ লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে তাঁর রক্তচাপ পাওয়া যাচ্ছিল না।এতে ক্রমান্বয়ে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে।আজ দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।কবির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁর দুই ছেলে অভিন্ন আজাদ ও অব্যয় আজাদ কানাডায় থাকেন।তাঁরা বাবাকে দেখতে দেশে এসেছিলেন।১০ মার্চ বাবাকে দেখে অভিন্ন আজাদ আবার কানাডা চলে যান।গতকাল তিনি কানাডায় পৌঁছান।আজ মৃত্যুর খবর শুনে অভিন্ন আজাদ কানাডা থেকে আবার রওনা দিয়েছেন, পৌঁছাবেন সোমবার।এরপর রফিক আজাদের দাফন সম্পন্ন হবে।বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে কবির মরদেহ দাফন করা হবে বলে প্রাথমিকভাবে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।কবির ভাতিজি নীরু শামসুন্নাহার বলেন, লাশ এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।সোমবার সকালে কবির মরদেহ প্রথমে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে।সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে।তারপর বাংলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হবে।রফিক আজাদ ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা৷তাঁর চার ছেলে ও দুই মেয়ে।এক মেয়ে অনেক আগেই মারা যান।

ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো’-জনপ্রিয় এই পংক্তির স্রষ্টা ছিলেন কবি রফিক আজাদ।“ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো’ তার বিখ্যাত কবিতার লাইন, এর মধ্য দিয়ে ১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষের চিত্র ফুটে ওঠে।রফিক আজাজের জন্ম ১৯৪১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার গুণী গ্রামে।বাবা সলিম উদ্দিন খান ছিলেন একজন সমাজসেবক এবং মা রাবেয়া খান ছিলেন আদর্শ গৃহিণী।দুই ভাই-এক বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ।১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রফিক আজাদ ভাষা শহীদদের স্মরণে বাবা-মায়ের কঠিন শাসন অস্বীকার করে খালি পায়ে মিছিল করেন।ভাষার প্রতি এই ভালোবাসা পরবর্তী জীবনে তাঁকে তৈরি করেছিল একজন কবি হিসেবে,আদর্শ মানুষ হিসেবে।রফিক আজাদ বাংলা একাডেমির মাসিক সাহিত্য পত্রিকা উত্তরাধিকার এর সম্পাদক ছিলেন।রোববার পত্রিকাতেও তিনি নিজের নাম ঊহ্য রেখে সম্পাদনার কাজ করেছেন।তিনি টাঙ্গাইলের মওলানা মুহম্মদ আলী কলেজের বাংলার প্রভাষক ছিলেন।
কবির প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে অসম্ভবের পায়ে, সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে, চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া, পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি, প্রেমের কবিতাসমগ্র, বর্ষণে আনন্দে যাও মানুষের কাছে, বিরিশিরি পর্ব, রফিক আজাদ শ্রেষ্ঠ কবিতা, রফিক আজাদ কবিতাসমগ্র, হৃদয়ের কী বা দোষ, কোনো খেদ নেই, প্রিয় শাড়িগুলো প্রভৃতি।
কবি রফিক আজাদ ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ২০১৩ সালে একুশে পদক পান।এ ছাড়া হুমায়ুন কবির স্মৃতি (লেখক শিবির) পুরস্কার (১৯৭৭), আলাওল পুরস্কার (১৯৮১), কবিতালাপ পুরস্কার (১৯৭৯), ব্যাংক পুরস্কার (১৯৮২), সুহৃদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), কবি আহসান হাবীব পুরস্কার (১৯৯১), কবি হাসান হাফিজুর রহমান পুরস্কার (১৯৯৬) ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা (১৯৯৭) লাভ করেন।

প্রতিথযশা কবি ও প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা রফিক আজাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।আজ এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।কবির মৃত্যুতে আরো শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানসহ অনেকেই।