নাসিরনগরে মন্দিরে হামলাকারীরা শাস্তি পাবে:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

201
nasirnagar minister
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন,ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলায় জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করা গেছে।আজ মঙ্গলবার নাসিরনগর উপজেলা সদরের আশুতোষ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ আয়োজিত এক সর্বদলীয় সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন,হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।যারা ধর্মের নামে এ কাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের শাস্তি পেতে হবে। এর বিকল্প নেই। কোনো ধর্ম মানুষ হত্যা, হামলা, লুটপাটের কথা বলে না। তাহলে কেন রামুর মতো ঘটনা ঘটছে ? ’তিনি বলেন, রামুর বিষয়ে সবাই দেখেছে। কাবা শরিফের ছবি বিকৃত করা হয়েছে। ব্লগারদের কুরুচিপূর্ণ লেখা ফেসবুকে পোস্ট করা দেখেছে লোকজন। ৯১ দিনের অগ্নিকাণ্ড, বিদেশিদের হত্যা, বিভিন্ন ধর্মের গুরুদের হত্যা করে একটি গোষ্ঠী অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। তখন তারা ব্যর্থ হয়েছি। এরপর তারা গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালায়।তিনি বলেন, ‘আমরা বসে বসে জজ মিয়ার নাটক তৈরি করছি না।৯১ দিনের অগ্নিকাণ্ড, বিদেশিদের হত্যা, বিভিন্ন ধর্মের গুরুদের হত্যা করে একটি গোষ্ঠী অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। তখন তারা ব্যর্থ হয়েছি। এরপর তারা গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের আপামর জনতাকে ঘুরে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছিলেন। ওই গোষ্ঠী সেসব ঘটনা থেকে ব্যর্থ হয়ে নতুন হামলা শুরু করেছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা এটা করেছে, ‘তারা মনে করে, তারাই বিজ্ঞ, আমরা কিছু জানি না। আমাদের প্রশাসন আছে। কারা ঘটিয়েছে, আমরা চিনতে পেরেছি। হয়তো সময় লাগবে। কিন্তু সবকিছুই বেরিয়ে আসবে। আমাদের বক্তব্য সুস্পষ্ট। কারও ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর কেউ যেন আঘাত না আনে। যদি কেউ আঘাত হানে, তাদের আইসিটি আইনের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হবে।উল্লেখ্য গত ২৮ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে জনৈক হিন্দু যুবক পবিত্র কাবাঘরের ছবি সম্পাদনা করে সেখানে কোন এক হিন্দু দেবতার মূর্তি একে ফেসবুকে পোস্ট করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর স্থানীয় লোকজন ঐ হিন্দু যুবককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরের দিন নাসিরনগর সদর উত্তাল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ৩০ অক্টোবর উপজেলা সদরের কলেজ মোড়ে এলাকার জনগন বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশ চলাকালে বেশ কয়েকটি মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।এ ঘটনার রেশ না কাটতেই গত ৫ নভেম্বর একই উপজেলায় হিন্দুদের পাঁচটি ঘরে আগুন দরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরাে।এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছায়েদুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, এ দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি থাকায় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়েছে। এ দেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। ইসলাম ধর্মেও অন্য ধর্মের প্রতি অবজ্ঞা করা নিষেধ। এ দেশে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। সংখ্যালঘু তারাই যারা মানুষ হত্যা করে, সন্ত্রাস করে যারা তারাই সংখ্যালঘু।সভায় বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, অতিরিক্ত আইজিপি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) জাবেদ পাটোয়ারী, জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘটিত ঘটনার নয় দিন পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এলাকা পরিদর্শনে গেলেন। এর আগে মন্ত্রী নাসিরনগরের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।