নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুন মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট।

144
Seven murders
ঢাকার নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর যে সাত জনকে খুন করা হয় তারা হলেন নজরুল ইসলাম,সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম,আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও ইব্রাহিমকে খুন করা হয়
ঢাকা,মঙ্গলবার,২২ আগস্ট ২০১৭: ঢাকার নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট।এর মধ্যে বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিল (১) নূর হোসেন,(২) র‍্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ,(৩) সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন (৪) লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম মাসুদ,(৫)হাবিলদার মো. এমদাদুল হক,(৬) এ বি মো. আরিফ হোসেন,(৭) ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া,(৮) ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন,(৯) সিপাহি আবু তৈয়ব আলী,(১০) কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন,(১১) এসআই পূর্ণেন্দু বালা,(১২) সৈনিক আবদুল আলিম,(১৩) সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি,(১৪) সৈনিক আল আমিন ও(১৫) সৈনিক তাজুল ইসলাম। আর বাকি ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কমে যাবজ্জীবন দেয়া হলো (১) আসাদুজ্জামান নূর,(২) সার্জেন্ট এনামুল কবির,(৩) নূর হোসেনের সহযোগী আলী মোহাম্মদ,(৪) মিজানুর রহমান দীপু,(৫) রহম আলী,(৬) আবুল বাশার,(৭) মোর্তজা জামান চার্চিল,(৮) সেলিম,(৯) সানাউল্লাহ সানা, (১০)শাজাহান ও(১১) জামাল সরদার।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে সাত খুন মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের রায় দেয়া হয়। রায় পড়ে শুনান বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। এ ছাড়া নিম্ন আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত নয়জনের সাজা বহাল রেখেছে উচ্চ আদালত।রায় দেয়ার আগে আদালতে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরে ১০ সাংবাদিককে অনুমতি দেয়া হয়।
গত ২২ মে সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে নূর হোসেন, তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন, মাসুদ রানা, এমদাদুল হক (হাবিলদার), বেলাল হোসেন, আবু তৈয়ব, শিহাব উদ্দিন, এসআই সুনেন্দু বালা, পুর্ণেন্দু বালা, আসাদুজ্জামান নূর, মূর্তজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান বিপু, আবুল বাশার, রহম আলীসহ ২০ আসামি হাইকোর্টে নিয়মিত আপিল ও জেল আপিল দায়ের করে।চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‍্যাবের বরখাস্তকৃত তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন রায় দেন। এ মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।গত ২৬ জুলাই শুনানি শেষে এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করে দিয়েছিল আদালত।কিন্তু গত ১৩ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আদালত তারিখ পরিবর্তন করে ২২ আগস্ট আজকের এই দিন ধার্য করেন। আপিলে আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আহসান উল্লাহ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।
উল্লেখ্য ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ। পরের দিন মেলে আরেকটি লাশ। নিহত অন্যরা হলেন- নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম।ঘটনার একদিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। এছাড়া, আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল আরেকটি মামলা করেন। দুই মামলার তদন্ত শেষে নারায়ণগঞ্জের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডল। অভিযোগপত্রে বলা হয়, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে হত্যার এই পরিকল্পনা করেন আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেন। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে র‌্যাব সদস্যদের দিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। আসামিদের মধ‌্যে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ১৭ জন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনের পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ঘটনার ১৭ মাস পর মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ১৬৩ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওই দিনই পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি, জুডিশিয়াল রেকর্ড, সিডিসহ বিভিন্ন নথি (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে পৌঁছে দেয় বিচারিক আদালত। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এ মামলার পেপারবুক প্রস্তুতে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হয়।
Seven murders
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত র‌্যাব-১১ এর সাবেক সিও লে. কর্নেল (বরখাস্তকৃত) তারেক সাঈদ