ডাঃ জাকির নায়েক,যিনি প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম প্রচার করেন।

267
জাকির আব্দুল করিম নায়েক
জাকির আব্দুল করিম নায়েক
ঢাকা শনিবার,২৯ জুলাই ২০১৭: জাকির আব্দুল করিম নায়েক (ইংরেজি: Zakir Naik, উর্দু: ذاکر نائیک; জন্মঃ ১৮ অক্টোবর ১৯৬৫) হলেন একজন ভারতীয় ইসলামী চিন্তাবিদ, বক্তা ও লেখক যিনি ইসলাম ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে কাজ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন ডাক্তার; মহারাষ্ট্র থেকে শল্যচিকিৎসায় ডিগ্রি অর্জন করলেও ১৯৯১ সাল থেকে তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারে মনোনিবেশ করেন। জাকির নায়েক ‘ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ নামক একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা যেটি পিস টিভি নেটওয়ার্ক  নামে পরিচালনা করে থাকেন। তিনি বক্তৃতার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম সম্পর্ক কোরআন ও হাদীসের আলোকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেন। প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গীতে বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইসলামের অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করেই তার অন্যতম কৌশল ও লক্ষ্য। মুসলিম বিশ্বে জনপ্রিয় হলেও জাকির নায়েক তার বক্তব্য ও মতের জন্য বিভিন্ন স্থানে সমালোচিতও হয়েছেন। কারন ইসলাম প্রচারে বাঁধাবিঘ্ন আসবেই। কেননা প্রায় ১৪০০ বছর পূর্বে আমাদের প্রানপ্রিয় নবী শেষ জামানার নবী রাসূলেপাক হযরত মুহম্মাদ (সাঃ) যখন ইসলাম ধর্ম প্রচার করেছিলেন তখন প্রাথমিক পর্যায়ে তিনিও নানা বাঁধা-বিঘ্ন,ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখীন হয়েছিলেন। তাই আজ ইসলাম ধর্ম প্রচারে বাঁধা-বিঘ্ন আসবে না,তা কি হয় !
সংক্ষিপ্ত জীবন ইতিহাস: জাকির আবদুল করিম নায়েক ১৮ অক্টোবর ১৯৬৫ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মুম্বাইয়ের সেন্ট পিটার্স হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। তারপর তিনি কিশিনচাঁদ চেল্লারাম কলেজে ভর্তি হন। তিনি মেডিসিনের ওপর টোপিওয়ালা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড নাইর হসপিটালে ভর্তি হন। অতঃপর, তিনি ইউনিভার্সিটি অফ মুম্বাই থেকে ব্যাচেলর অফ মেডিসিন সার্জারি বা এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি ইসলাম-ধর্ম প্রচারের কার্যক্রম শুরু করেন এবং আইআরএফ(ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন) প্রতিষ্ঠা করেন।ডাঃ জাকির বলেন তিনি আহমেদ দিদাতের দ্বারা অনুপ্রাণিত হন, যার সাথে তিনি ১৯৮৭ সালে সাক্ষাত করেন। ডাঃ জাকিরকে অনেক সময় ‘‘দিদাত প্লাস’’ বলা হয়, এই উপাধি দিদাত নিজে তাকে দেন। বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে তিনি তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে পণ্ডিত এবং অপরিমেয় স্মৃতিশক্তিধর বক্তা হিসাবে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি মুম্বাইয়ের ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং ইউনাইটেড ইসলামিক এইডের প্রতিষ্ঠাতা। ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে তাকে পিস টিভি নেটওয়ার্কের পৃষ্ঠপোষক ও আদর্শিক চালিকাশক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তার স্ত্রী ফরহাত নায়েক আইআরএফ এর নারীদের শাখায় কাজ করেন।
জাকির আব্দুল করিম নায়েকের পিস ফাউন্ডেশান
জাকির আব্দুল করিম নায়েকের পিস ফাউন্ডেশান
ডাঃ জাকির নায়েকের দৃষ্টিভঙ্গিঃ ডাঃ জাকির বলেন তার লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষিত মুসলমানরা যারা তাদের নিজ ধর্মকে ত্রুটিপূর্ণ, সেকেলে বলে মনে করেন তাদেরকে, প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে সাবলিলভাবে বুঝিয়ে দেয়া ও জ্ঞান দান করা। তিনি মনে করেন, প্রত্যেক মুসলিমের উচিত ইসলাম সম্বন্ধে ভুল ধারণা গুলো ভেঙে দেওয়া এবং পশ্চিমা মিডিয়ায় ইসলামের ওপর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুক্তির মাধ্যমে প্রমান সাপেক্ষে রুখে দাঁড়ানো। ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলতে যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বর ১১, ২০০১ এর আক্রমণ বা নাইন ইলেভেন এর সাজানো নাটককে তিনি বোঝান। নায়েক আরও বলেন যে, তীব্র ইসলাম বিরোধী প্রচারণা সত্ত্বেও ২০০১ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে ৩৪,০০০ মার্কিন নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করে। নায়েকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলাম একটি কার্যকারণ ও যুক্তির ধর্ম, এবং কুরআনে বিজ্ঞান সম্পর্কিত ১০০০ বানী রয়েছে, যা তিনি পশ্চিমা ধর্মান্তরিত মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার কিছু নিবন্ধ ‘‘‘ইসলামিক ভয়েস’’’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
বক্তৃতা ও বিতর্কঃ ডাঃ জাকির নায়ক ইসলাম র্ধম সর্ম্পকিত অনেক বিষয়ে লেকচার দিয়েছেন ও বর্ক্তৃতা করছেনে। থমাস ব্লম হানসনে লখিছেনে ডাঃ জাকিরের বিভিন্ন ভাষায় কুরআন ও হাদিস সাহিত্য মনে রাখার ভঙ্গী ও তার র্ধমপ্রচার র্কমকাণ্ড মুসলিমদের মাঝে তাকে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার অন্যতম বিখ্যাত বিতর্ক হয় ২০০০ সালরে এপ্রলিে ‘বিজ্ঞানের আলোকে কুরআন ও বাইবেল’ বিষয়ে শিকাগোতে উইলিয়াম ক্যাম্পেবেলের সাথে। তিনি বলেন, ‘ইসলাম একটি র্কাযকারণ ও যুক্তির র্ধম এবং কুরআনে বিজ্ঞান সম্পর্কিত ১০০০ আয়াত আছে যা তিনি পশ্চিমা ধর্মান্তরিত মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার অন্যতম জনপ্রিয় থিম হল বিজ্ঞানের সূত্র দিয়ে কোরআনকে যাচাই করা। ২১ জানুয়ারি ২০০৬ ডাঃ জাকির ভারতীয় হিন্দুদের গুরুজী তথা ধর্মীয় প্রধান শ্রী শ্রী রবিসঙ্করের সাথে ‘ইসলাম ও হিন্দু ধর্মে  ঈশ্বর’ বিষয়ে ব্যাঙ্গালোরে বিতর্কে অংশ নেন।
সালমান রহমানের সাথে ডাঃ জাকির আব্দুল করিম নায়েক
সালমান রহমানের সাথে ডাঃ জাকির আব্দুল করিম নায়েক
জীববিজ্ঞানের বিবর্তনঃ ডাঃ জাকির বলেন, যে বিবর্তনবাদ হল ‘শুধুমাত্র একটা প্রস্তাব মাত্র। এটা একটা অপ্রমাণিত অনুমান মাত্র।’ তার মতে, বেশিরভাগ বিজ্ঞানী এটা সমর্থন করেননি কারণ, এটা বাইবেলের বিরুদ্ধে যায়। তারা এটা সত্য বলে সমর্থন করেন না। যদিও বিজ্ঞানের দর্শন অনুসারে বিবর্তন একটি প্রমানিত ফ্যাক্ট যা বিবর্তন তত্ত্ব দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
স্বধর্ম ত্যাগঃ  কোন মুসলিম যদি চায় তবে সে তার স্বীয় ধর্ম  ইসলাম ত্যাগ করতে পারে। ডাঃ জাকির বলেছেন, কোন মুসলিম চাইলে ইসলাম থেকে আলাদা হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কোন মুসলিম যদি তার নতুন ধর্ম প্রচার করে এবং ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে, তবে সে বিশ্বাসঘাতক বলে বিবেচিত হবে। ডাঃ জাকির বলেন, ইসলামিক আইন অনুসারে তার মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত, যেমনটি দেশদ্রোহীর শাস্তি হয়ে থাকে।
সন্ত্রসবাদঃ ডাঃ জাকিরের মতে ইসলামী সন্ত্রাসবাদ ইসরাইল ও বিশ্ব মিডিয়ার সৃষ্টি। একটি ইউটিউব ভিডিও, ওসামা বিন লাদেন বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি বিন লাদেনকে ব্যক্তিগত ভাবে চেনেনও না, তাদের কখনও সাক্ষাৎ হয়নি। যদিও বিবিসি, সিএনএন দেখে যদি লাদেন সম্পর্কে বলতে হয়, তাহলে তাকে বলতেই হবে যে লাদেন একজন সন্ত্রাসী। কিন্তু কুরআন বলছে যে কোনো সংবাদ পেলে তা প্রচারের আগে ভালভাবে যাচাই করে নিতে হবে। তাই, তিনি তাকে দোষারোপ করতে পারেন না। তিনি আরো বলেন, যদি বিন লাদেন ইসলামের শত্রুদের সাথে লড়াই করেন, তবে আমিও তার সাথে আছি। তিনি বলেন, মুসলমানদের এমন হওয়া উচিত যেন তাদেরকে দেখলে সমাজবিরোধী লোকদের মাঝে ত্রাসের সৃষ্টি হয় এবং এরূপ হলে প্রত্যেক মুসলমানকে একজন লাদেন হওয়া দরকার। যখন টাইম পত্রিকা একে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে ইঙ্গিত দেয় তখন, ডাঃ জাকির বলেন, ‘আমি সবসময় সন্ত্রাসবাদীকে দোষারোপ করি ।  কারণ মহিমান্বিত কোরআনে অনুসারে কেউ যদি একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করো তবে সে যেনো পুরো মানবজাতিকে হত্যা করলো। ৩১ জুলাই ২০০৮ সালে পিস টিভিতে দেওয়া লেকচারে ডাঃ জাকির নাইন ইলেভেন সম্বন্ধে মন্তব্য করেন, ‘এটা একটা সাজানো নাটক, একটা ওপেন সিক্রেট যে টুইন টাওয়ারে হামলা সম্পূর্ণই প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের কাজ।’ এই কথার প্রমাণ হিসেবে তিনি কিছু রিসার্চের উদ্ধৃতি দেন।
ডাঃ জাকির আব্দুল করিম নায়েক ও শাহরুখ খান
ডাঃ জাকির আব্দুল করিম নায়েক ও শাহরুখ খান
অন্যদেশ সফরঃ ‘‘শুধু ইসলামই নারীকে সমতা দেয়’’-এ বিষয়ে ডাঃ জাকির ২০০৪ সালে ‘ইসলামিক ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক অফ অস্ট্রেলিয়া’-এর আমন্ত্রণে মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটিতে বিতর্ক করেন। তিনি বলেন যে, ‘পশ্চিমা পোষাক মেয়েদের ধর্ষণের অন্যতম কারণ। কারণ, এটা মেয়েদেরকে পর-পুরুষের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে।’ নিউ এজের সুশি দাস মন্তব্য করেন, নায়েক ইসলামের উপদেশের ও আত্মিক শ্রেষ্ঠত্বের উচ্চ প্রশংসা করেন এবং পশ্চিমা বিশ্বে সাধারণ ভাবে যে বিশ্বাস দেখা যায় তাকে ব্যাঙ্গ করেন।
কানাডায় ও  নিষেধাজ্ঞাঃ ডঃ নায়েককে ২০১০-এর জুন মাসে যুক্তরাজ্যে ও কানাডায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। মুসলিম কানাডিয়ান কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা তারেক ফাতাহ সেদেশের সাংসদেরকে জাঁকির নায়েকের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সতর্ক করার পর কানাডায় তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। লন্ডন এবং শেফফিল্ডে তার বক্তৃতা আয়োজনের পর স্বরাষ্ট্র সচিব তেরেসা মে তার যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। মে নিষেধাজ্ঞার রায়ে বলেন, “জাকির নায়েকের অসংখ্য মন্তব্য তার অগ্রহণযোগ্য আচরণের প্রমাণ হিসেবে আমার কাছে আছে। ডাঃ জাকির নায়েক দাবি করেন যে, স্বরাষ্ট্র সচিব একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, কোন নৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এবং তার আইনজীবী বলেন যে এই সিদ্ধান্তটি ছিল বর্বর এবং অমানবিক। তিনি আরও দাবি করেন যে তার মন্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাতা মহেশ ভাট নায়েককে সমর্থন জানিয়ে বলেন যে, এই নিষেধাজ্ঞাটি বাক-স্বাধীনতার উপর একটি আক্রমণস্বরূপ। বলা হয়েছিল যে, নায়েক উচ্চ আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করার ব্যবস্থা নেবেন। তার আইনি পুনর্বিবেচনার আবেদনটি ২০১০-এর ৫ই নভেম্বর খারিজ করে দেওয়া হয়।
সালে মালয়েশিয়া সফরঃ ২০১২ সালে নায়েক মালয়েশিয়ায় মারা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জহর বারু, কুয়ান্তান ও পুত্রা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বক্তৃতা দেন। হিন্দ অধিকার সংগ্রাম শক্তির (HINDRAF) সদস্যদের প্রতিবাদের পরও মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ, অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং প্রায় কয়েক হাজার লোক বিভিন্ন স্থানে তার বক্তৃতায় উপস্থিত ছিলেন। নায়েকের বক্তৃতার আয়োজকরা বলেন যে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য প্রচার করাই তাদের আদর্শ ও উদ্দেশ্য ছিল। ২০১৬ সালে মালয়েশিয়ায় আন্তঃধর্মীয় উত্তেজনা বৃদ্ধিতে উস্কানিমূলক হওয়ার আশংকায় তার বক্তৃতাকে নিষিদ্ধ করা হয়, যদিও একই বছরের এপ্রিল মাসে সে দেশে আবারও তিনি একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন।
সিএনএন নিউজে, জাকির আব্দুল করিম নায়েক
সিএনএন নিউজে, জাকির আব্দুল করিম নায়েক
তসলিমা নাসরিন সম্পর্কে বক্তব্যঃ ডঃ জাকির নায়েক বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের “লজ্জা” নামক বইকে কেন্দ্র করে ১৯৯৪ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের দ্বারা আয়োজিত একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বইটি থেকে ইসলাম কেন্দ্রিক বিভিন্ন উদ্ধৃতিকে ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে তুলে ধরেন। এছাড়াও, উক্ত অনুষ্ঠানে তিনি তসলিমা নাসরিনের উদ্দেশ্যে তার সাথে সরাসরি বিতর্কে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ ব্যক্ত করেন।
অভ্যর্থনা, পুরষ্কার, উপাধি এবং সম্মাননাঃ দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ‘‘সবচাইতে শক্তিশালী ১০০ ভারতীয় ২০১০’’ তালিকায় ডাঃ জাকিরের অবস্থান ৮৯তম। ২০০৯ সালে তার অবস্থান ছিলো ৮২তম। প্রাভেন স্বামীতে জাকিরকে বলা হয়, ভারতে সবচাইতে বেশি প্রভাবশালী সালাফি ব্যাখ্যাকারী। সঞ্জিভ ভুট্টোর মতে, তিনি ইসলামের একজন কর্তৃত্বপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃত, কিন্তু তিনি অন্য ধর্মের ওপর নেতিবাচক মন্তব্যকারী হিসেবে খ্যাত। সদানন্দ ধুমি লিখেছেন যে,”জাকির নায়েক মধ্যপন্থী ইমেজ সৃষ্টি করতে পেরেছেন কারণ তার মৃদু আচরণ, স্যুট এবং টাই পরা এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থ থেকে উদৃতি দেওয়া।(“carefully crafted image of moderation”, because of his gentle demeanor, his wearing of a suit and tie, and his quoting of scriptures of other religions”)
নায়েককে ২০০৯,২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালের ৫০০ সবচাইতে প্রভাবশালী মুসলিমদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।এছাড়াও ১৭ দুবাই আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন পুরস্কার জাকির নায়েককে বছরেরইসলামী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নামকরণ করে।
সৌদি বাদশাহর সাথে ডাঃ জাকির আব্দুল করিম নায়েক
সৌদি বাদশাহর সাথে ডাঃ জাকির আব্দুল করিম নায়েক
পুরষ্কার বা সম্মাননার সালঃ পুরষ্কার বা সম্মাননার নামঃ পুরষ্কার প্রদানকারী সংস্থা বা সরকারঃ ২০১৩ সালে  ইসলামিক পারসোনালিটি অব এ্যাওয়ার্ড, শাইখ মোহাম্মাদ রশিদ আল মাখতুম এ্যাওয়ার্ড  ফর ওয়ার্ল্ড  পিস। ২০১৩ সালে ডাস্টিংগুইশড ইন্টারন্যাশনাল পারসোনালিটি এ্যাওয়ার্ড, আজম, টিন্কু  আব্দুল হালিম মুয়াদজাম শাহ, মালেশিয়া। ২০১৩  সালে শারজাহ এ্যাওয়ার্ড  ফর ভলান্টারি, ওয়কাফ সুলতান বিন মোহাম্মদ আল কাশিমি শারজাহ। ২০১৪ সালে ইন্সাইনিয়া এ্যাওয়ার্ড অব দ্য কমান্ডার অব দ্য ন্যাশনাল অর্ডার অব দ্য রিপাবলিক অব দ্য গাম্বিয়া। ২০১৪  সালে অনারারি ডক্টরেট (ডক্টর অব হিউম্যান লিটারস) গাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৫ সালে বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার সৌদি আরব।
বক্তৃতা ও বইসমুহঃ ডঃ জাকির নায়েক বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন। তার বক্তৃতায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আমন্ত্রিত ও অনামন্ত্রিত শ্রোতাগণও অংশগ্রহণ করে। তার উল্লেখযোগ্য বক্তৃতা পরবর্তীতে মূল ইংরেজিসহ একাধিক ভাষায় বই হিসাবে প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৭ সালে দার- উস- সালাম প্রকাশনী (সৌদিআরব) জাকির নায়েকের দুইটি বই প্রকাশ করে। যথাঃ ‘দি কনসেপ্ট অফ গড ইন মেজর রেলিজিওনস’ (জনপ্রিয় ধর্ম গুলোতে ঈশ্বরের ধারণা)এবং ‘দি কুরআন অ্যান্ড মর্ডান সায়েন্সঃ কম্পিটেবল অর ইনকম্পিটেবল’ (কুরআন এবং আধুনিক বিজ্ঞানঃ সাদৃশ্যপূর্ণ নাকি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ) । বাংলাদেশে একাধিক প্রকাশনী তাঁর বইসমূহ বাংলায় অনূবাদ করে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেছে। ১। ইসলাম বিষয়ে অমুসলিমদের কিছু সাধারণ প্রশ্নের জবাব। ২। কোর’আন ও আধুনিক বিজ্ঞান। ৩। কোর’আন কি ঈশ্বরের বাণী? ৪। আমিষ খাদ্য কি মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর? ৫। বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ। ৬। প্রধান প্রধান ধর্মে ঈশ্বরের অস্তিত্ব। ৭। বিজ্ঞানের আলোকে কোর’আন ও বাইবেল। ৮। হিন্দু ও ইসলাম ধর্মের অন্তরনিহিত সাদৃশ্য। ৯। সন্ত্রাসবাদ ও জিহাদ। ১০। ইদলামের কেন্দ্রবিন্দু। ১১। সন্ত্রাসবাদ কি কেবল মুসলিমদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? ১২। প্রশ্নোত্তোরে ইসলামে নারীর অধিকার। ১৩। কেন ইসলাম গ্রহণ করছে পশ্চিমারা? ১৪। ইসলামে নারীর অধিকার আধুনিক নাকি সেকেলে? ১৫।সুদমুক্ত অর্থনীতি। ১৬।ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের সাদৃশ্য। ১৭। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ সমুহের আলোকে হিন্দুধর্ম ও ইসলাম। ১৮।আলকোর’আন বুঝে পড়া উচিত। ১৯। রসুলুল্লাহর নামায(সালাত)। ২০। চাঁদ ও কুর’আন। ২১। মিডিয়া ও ইসলাম। ২২। সুন্নত ও বিজ্ঞান। ২৩। পোশাকের নিয়মাবলী।(উইকিপিডিয়া)
সমালোচনাঃ ২০০৮ সালে লখনউ-এর ইসলামি পণ্ডিত সাহার কাজী মুফতি আব্দুল ইরফান মিয়া ফিরিঙ্গি মাহালি ডাঃ জাকিরের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেন যে তিনি ওসামা বিন লাদেনকে সমর্থন করেন এবং তার পদ্ধতি অ-ইসলামিক। ফেব্রুয়ারী ২০১১তে, তিনি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ‘অক্সফোর্ড ইউনিয়ন’কে পত্র লেখেন। ভারতীয় সাংবাদিক খুশবন্ত সিং বলেন, ডাঃ জাকির ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা করেন। সিং বলেন, নায়েকের বিবৃতি ‘‘শিশুতোষ’’ । তিনি আরও বলেন, তা আন্ডারগ্রাজুয়েট কলেজের বিতর্কের কদাচিৎ উপড়ে ওঠে; যেখানে প্রতিযোগীরা ক্ষুদ্র স্কোরের জন্য লড়ে। তিনি আরও বলেন, তার কথা মগ্ন হয়ে শুনুন, তিনি প্রায়ই বিপুল উৎসাহে বিস্ফোরিত হন, যখন তিনি অন্যান্য ধর্মের বাণীকে খাটো করেন। ওসামা বিন লাদেনকে ‘‘ইসলামের সৈন্য’’ বলায় আলী সিনা এবং খালিদ আহমেদ নায়েকের সমালোচনা করেন। তারা বলেন যে, ডাঃ জাকির আল-কায়দাকে পরোক্ষ ভাবে সমর্থন করছেন। ২০১৬ সালে ঢাকায় সন্ত্রাসী আক্রমণের ৫ হামলাকারীর মাঝে একজন জাকির নায়েকের ফেসবুক অনুসারী ছিলেন। ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, “জাকির নায়েকের বক্তব্য আমাদের জন্য একটি নজরদারির বিষয়। আমাদের এজেন্সিগুলো এর উপর কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘বিন লাদেন যদি যুক্তরাষ্ট্রের মত সন্ত্রাসী রাষ্ট্রকে সন্ত্রাসের মাধ্যমে হুমকির সম্মুখীন করে তাহলে তিনি বিন লাদেনের পক্ষে। আফগান বংশোদ্ভূত নাজিবুল্লাহ জাজি, জাকির নায়েকের বক্তৃতা শুনে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন। থমাস ব্লম হানসেন লিখেছেন যে, ডাঃ জাকিরের কুরআন ও হাদিয়াহ মনে রাখার ভঙ্গী একটি সাহিত্য । এ ভঙ্গী বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত । তিনি আরও বলেন, তিনি ধর্ম প্রচারের কাজে নিয়োজিত । তাঁর এ ভঙ্গী বহু মুসলিম ও অমুসলিমদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় । তাঁর অনেক লেকচার রেকর্ড করা হয় এবং ডিভিডি মিডিয়া ও অনলাইনে প্রচারিত হয় । তাঁর লেকচার সাধারণত ইংরেজিতে রেকর্ড করা হয় । তা মুম্বাইতে সপ্তাহান্তে প্রচার করা হয় । তাঁর লেকচার পিস টিভিতেও প্রচার করা হয় । তিনি এই চ্যানেলের সহ- প্রযোজক । বিতর্ক ও সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় বক্তব্যের প্রমাণে তিনি বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে অধ্যায় ও পৃষ্ঠা নম্বর দ্বারা রেফারেন্স দিয়ে থাকেন। তিনি ‘ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান’, ‘ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্ম’ এবং ‘ইসলাম ও জড়বাদ’ বিষয়ে লেকচার দেন । পিস টিভি বাংলা সংস্করণ বের করে । এর নাম দেওয়া হয় ‘পিস টিভি বাংলা’ । এখানে ডাঃ জাকিরের লেকচার বাংলায় প্রচার করা হয় । তাছাড়া, বাংলাদেশী চ্যানেল ‘ইসলামিক টিভিতেও তাঁর লেকচার প্রচার করা হতো।(উইকিপিডিয়া)
ভারতে পিসটিভি বন্দের উদ্দশ্যেঃ  গুলশান হামলার ৫ সন্ত্রাসীর মধ্যে ২ জন (নিবরাস ইসলাম ও রোহান ইমতিয়াজ) ডাঃ জাকির নায়েকের অনুসারী ছিলো বলে যা প্রচার করা হচ্ছে তা মিথ্যা ও ভূয়া। এটাও একটা ডাঃ জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে তথা ইসলাম প্রচারের বিরুদ্ধে প্রচারিত ষড়যন্ত্রেরই আংশ বিশেষ। বর্তমান নগ্নসভ্যতার অনুসারীরা সভ্য ইসলাম প্রচারের বিরোধিতাতো করবেই এতে অবাক হওয়ার কিছুনেই। বিশ্বব্যাপী ইসলামের প্রচার ও প্রসারে আত্মনিয়োগ করার কারনে ইহুদী-খ্রীস্টান-হিন্দু ও কিছু তথাকথিত নামধারি মুসলমান ২০১২ সাল থেকে তার বিরুদ্ধচারন করছে। কুরআনে বিজ্ঞান সম্পর্কিত ১০০০ আয়াত আছে যা তিনি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেন, যার ফলে ভারতে হিন্দুরা ও পশ্চিমারা দলে দলে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহন করছে। মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারনে ইহুদী-খ্রীস্টানলবী ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে মদদদেয়ার অভিযোগ করছে। কারন ইহুদী-খ্রীস্টান-হিন্দুরা চাচ্ছেনা বিশ্বব্যাপী ইসলামের দ্রুত প্রসার ঘটুক। আল্লাহর একত্ববাদ প্রচারে বাঁধাবিঘ্ন থাকবেই। হযরত মুসা(আঃ)এর বিরুদ্ধে স্বজাতি ইহুদীরা, হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)এর বিরুদ্ধে স্বগোত্রীয় কুরাইশরা বিরুদ্ধচারন করেছিল। সুতরাং এখনও তাদের কোটি কোটি প্রেতাত্বারা আছে যারা আল্লাহর একত্ববাদ প্রচারে বাঁধা দিবে এতে অবাক হওয়ার কি আছে? সম্প্রতি প্রকাশিত ও প্রমানিত হয়েছে মুখঢাকা যোদ্ধা আইএস সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য ইসলাম ধর্মের প্রসার রোধ করা ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম ও মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা,ঐক্য বিনষ্ট করা। আর এই আইএস সৃষ্টির মূল হোতা ইসলাইল। আইএস  অর্থ  ”ইসরাইলী স্টেট”। যা ইসলামী স্টেট হিসেবে তারা প্রচার করে থাকে। আইএসে যারা কাজ করে তারা ইসরাইলি কমান্ডো অফিসার।  বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী ‘ইসলামী শাসনব্যবস্থা’ কায়েমের আদর্শে মত্ত আইএস ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সৃষ্টি। এক বছর আগে ইরানী সেনাবাহিনী কয়েক জন আইএস  যোদ্ধাকে আটক করেছিল সিরিয়া থেকে। ঐ আইএস  যোদ্ধারা ছিল ইসরাইলি কমান্ডো বাহিনীর সদস্য। ইসরাইল সৃষ্ট মুখঢাকা যোদ্ধা আইএস এর প্রধান খলিফা আবুবকর আল বাগদাদি একজন ইহুদী। তার প্রকৃত নাম আকা ইলিয়ট শিমন। তাই আজ উম্মোচিত হল ইসরাইলী নীলনকশা দুনিয়াব্যাপী ‘ইসলামী খেলাফত’ প্রতিষ্ঠার যুদ্ধের স্বঘোষিত খলিফা ও সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নেতা খলিফা আবুবকর আল বাগদাদি মুসলমান নন। আকা ইলিয়ট শিমন থেকে হয়েছে আইএস খলিফা আবুবকর বাগদাদি।সম্প্রতিআবুবকর বাগদাদি  আমেকিারন সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন।                           ইসরাইলের মূল পরিকল্পনা মুখঢাকা আইএস যোদ্ধাদের মাধ্যমে ইসরাইলের সীমানা বৃদ্ধি করা।
ইসরাইলি জঙ্গীগ্রুপ আইএস
ইসরাইলি জঙ্গীগ্রুপ আইএস
জাকির,নায়েক,ইসলাম,প্রচারক,জঙ্গিগোষ্ঠীর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রত্যেকেই মোসাদের কাছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। মোসাদের প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতেই মুখঢাকা আইএস জঙ্গিদের ‘যুদ্ধকৌশল’ শেখানো হয়। সুসংগঠিত এ মুখঢাকা জঙ্গিগোষ্ঠীটি ‘ইসলামিক স্টেট’ নামে আত্মপ্রকাশের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের সিনিয়র সিনেটর ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জন ম্যাককেইনের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছে। গোড়ার দিকের ওই গোপন বৈঠকগুলোতে মোসাদের বেশ কয়েকজন সদস্য ও আইএসপ্রধান বাগদাদি উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও গবেষণা প্রতিবেদন ঘেঁটে বিশ্বব্যাপী আতংক সৃষ্টি করা ইসলামিক স্টেট ও এর প্রধান খলিফা আবুবকর আল বাগদাদির পরিচয় নিয়ে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) গোপন নথিতেও এ ব্যাপারে উল্লেখ আছে বলে জানিয়েছে ‘আমেরিকান ফ্রি প্রেস’ নামের ওয়েবসাইট। সন্ত্রাসবাদের ইতিহাসে সবচেয়ে ধনী সংগঠন বলে পরিচিত আইএসের উত্থান হয় গত বছরের জুনে। ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ দখলে নিয়ে ইসলামিক স্টেট নাম দিয়ে খেলাফত ঘোষণা করেন বাগদাদি। প্যারিসে ভয়াবহ হামলার পর একই কথা বলেছেন কিউবার সাবেক নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো ও মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। সংবাদ সম্মেলন করে দু’জনই বলেছেন, আইএস ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অস্ত্র। বিশ্বব্যাপী নিজেদের আধিপত্য বিস্তার ও স্বার্থসিদ্ধির জন্য আইএস নামের এ ভয়ানক কালসাপ মাঠে নামিয়েছে তারা। ইসলামিক স্টেট সৃষ্টির এক বছর আগে ২০১৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন সিরিয়ায় আবুবকর আল বাগদাদিসহ অর্ধডজন শীর্ষ জঙ্গি নেতার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন। সম্প্রতি সেই বৈঠকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ইউটিউবে। মার্কিন প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ ও সিএনএনের একটি ভিডিও স্নাপশটে এ ছবির ব্যাপারে প্রমাণ পাওয়া গেছে।আমেরিকান ফ্রি প্রেসের প্রতিবেদন জানায়, ইহুদি পিতা-মাতার কোলে জন্ম নেন বাগদাদি। এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা তথ্যানুযায়ী, বাগদাদিকে টানা এক বছর সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে মোসাদ। একই সময়ে আরবি ভাষা ও ইসলামী শরিয়ার ওপর কোর্স করেছেন বাগদাদি। এ সময় তিনি ইব্রাহিম ইবনে আওয়াদ ইবনে ইব্রাহিম আল বদরি নাম ধারণ করেন। তবে বাগদাদির পরিচয় সম্পর্কে ছড়ানো হয়েছে- তিনি ১৯৭১ সালের ২৮ জুলাই ইরাকের সামারায় জন্মগ্রহণ করেন। বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আক্রমণের সময় সামারায় একটি মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পালন করেন বাগদাদি। পরে তিনি ‘আমিরে দায়েশ’ উপাধি গ্রহণ করেন। এডওয়ার্ড স্নোডেন প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের গোপন দলিলের বাগদাদির তথ্য প্রথম প্রকাশ করে মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় ইন্টারনেট রেডিও আজিয়াল ডটকম। পরবর্তী সময়ে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা এ তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে। ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার পর্যালোচনা নিয়ে এ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় আরবি পত্রিকা ইজিপ্রেসে। যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি নিউজ প্রচারিত একটি ভিডিওর বরাত দিয়ে সোশিও-ইকোনমিক হিস্ট্রি নামের একটি ওয়েবসাইট দাবি করেছে, মার্কিন প্রভাবশালী সিনেটর জন ম্যাককেইন আবুবকর আল বাগদাদিসহ কয়েকজন আইএস কর্মকর্তা ও সিরিয়ার বিদ্রোহী কয়েকজন নেতার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। ২০১৩ সালের জুনে যখন এ বৈঠকটি হয়, তখন বাগদাদির মুখে লম্বা দাড়ি ছিল না। ওই বৈঠকে বাগদাদির সহযোগী আইএসের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ নূরও উপস্থিত ছিলেন। উইকিপিডিয়ায় প্রদর্শিত আবুবকর বাগদাদির ছবির সঙ্গে ওই ছবির মিল পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আল আরাবিয়াও ওই ছবিটি প্রকাশ করেছে। সিএনএনের একটি ভিডিওতেও বাগদাদির সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলতে দেখা যায় জন ম্যাককেইনকে। গ্লোবাল রিসার্চ নামের একটি গবেষণা ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, ২০০৪ সাল থেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে আবুবকর আল বাগদাদি। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বুস্কা কারাগারে ছিলেন তিনি। পলিটিসাইট ডটকমের তথ্যানুযায়ী, সিআইএ’র তত্ত্বাবধানেও বাগদাদি সামরিক প্রশিক্ষণ লাভ করেন। ইরাকের উম কাসর এলাকায় মার্কিন কারাগারে সিআইএ তাকে নিয়ে আসে। সেখান থেকে ২০১২ সালে জর্ডানের একটি গোপন ক্যাম্পে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স কমান্ড বাগদাদিসহ তার সহযোগী অনেককে প্রশিক্ষণ দেয়। আইএসের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সহিংসতার মাধ্যমে ইসরাইলের ভূখণ্ড বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে মোসাদের। আল কায়দার সাবেক শীর্ষ কমান্ডার ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক জিহাদ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা নাবিল নাইম বৈরুতের টিভি চ্যানেল আল মাইদিনকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আল কায়দার বর্তমান নেতারা ও আইএস সিআইএ’র হয়ে কাজ করছে একইসাথে শিয়া-সুন্নি বিরোধ তারাই উসকে দিচ্ছে।পুন: প্রচার।