জেরুসালেম থেকে নিরাপত্তা বেষ্টনী সরিয়ে নিয়েছে ইসরায়েল

105
Haram al Sharif
জেরুজালেমের হারাম-আল-শরিফ মসজিদ
ঢাকা,বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই ২০১৭:  জেরুজালেমের হারাম-আল-শরিফ মসজিদ থেকে অবশেষে নিরাপত্তা বেষ্টনী সরিয়ে নিয়েছে ইসরায়েল। গত দুই সপ্তাহ ধরে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। একইসাথে স্থানীয় মুসলমানরা তাদের নিজেদের অবরোধও প্রত্যাহার করেছে। ফিলিস্তিনিদেরকে মসজিদ প্রাঙ্গণে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে,যাতে তারা আবার মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে পারে।
সম্প্রতি জেরুজালেমের পুরোনো এলাকায় সংঘটিতহামলায় এক ইসরায়েলি মহিলা পুলিশ নিহত হবার পর পাল্টা ইসরায়েলি সৈন্যদের গুলিতে তিন জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়।গত শুক্রবার নামাজের সময় ওই ঘটনা ঘটে। এতে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ হারাম-আল-শরিফ এলাকায় মেটাল ডিটেক্টর বসিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করে। পঞ্চাশ বছরের কম বয়স্ক লোকদের আলআকসায় নামাজ পড়তে আসতে দেয়া হয় নি। নিহত ফিলিস্তিনি তরুণদের বয়স ১৮/১৯ বলে পুলিশ বলছে, তারা সবাই পশ্চিম তীরের বাসিন্দা।ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ বলছে, এর মধ্যে দু’জন ফিলিস্তিনি, যাদের গায়ে গুলি লেগেছে।এ আক্রমণের ঘটনায় আরো তিন জন আহত হয়। দুই পক্ষের সহিংসতায় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত আর তিনজন ইসরায়েলি নিহত হয়।ইসরায়েল বলছে, ভবিষ্যতে তারা এখানে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে, যা সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না।
সেখানে নামাজ পড়তে আসা ফিলিস্তিনি মুসলিমরা নিরাপত্তা বেষ্টনী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাস্তার ওপরই নামাজ পড়েন, আর নামাজের পর শুরু হয় বিক্ষোভ।এই জায়গাটি ইসলাম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি – এই তিন ধর্মের কাছেই পবিত্র স্থান, এবং একে নিয়ে শত শত বছর ধরেই টানাপোড়েন চলছে।
ইহুদিদের কাছে হারাম আল-শরিফ এলাকাটির নাম ‘টেম্পল মাউন্ট’ এবং এটিই তাদের ধর্মে সবচাইতে পবিত্র স্থান। ইহুদিরা বিশ্বাস করে, এখানেই নবী আব্রাহাম তার পুত্র ইসমাইলকে উৎসর্গ করার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। এখানেই ছিল ইহুদিদের প্রথম ও দ্বিতীয় পবিত্র মন্দির – যা ৭০ খ্রীষ্টাব্দে রোমান বাহিনী ধ্বংস করে দেয়। এখানে একটি ব্যাসিলিকাও ছিল যা একই সাথে ধ্বংস হয়।সেই মন্দিরের শুধুমাত্র পশ্চিম দিকের দেয়ালটিই এখনো টিকে আছে, এবং এটিই এখন ইহুদিদের ধর্মীয় প্রার্থনার স্থান।
এদিকে ইহুদিবাদী ইসরাইল মুসলমানদের প্রথম কিবলা পবিত্র আল-আকসা মসজিদের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হওয়ায় মসজিদে এসে নামাজ আদায় করতে ফিলিস্তিনি মুসল্লীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছ একটি ধর্মীয় ট্রাস্ট। আজ বৃহস্পতিবার জর্দানের অনুদানে পরিচালিত আল আকসা মসজিদ  ওয়াক্ফ কমিটির প্রধান আব্দেল আজিম সালহাব বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলকে আল আকসা মসজিদকে ঘিরে যেসব প্রতিবন্ধকতা আরোপ করেছিল তার সবই সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে আমরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ আন্দোলন চালিয়ে এসেছি তা প্রশংসীয়। আমাদের এ আন্দোলন আল আকসার বাইরে এবং এখন থেকে এর ভেতর থেকেও অব্যাহত থাকবে।এদিকে, ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট  মাহমুদ আব্বাস সহ অন্যান্য  রাজনৈতিক দলগুলোও ওয়াক্ফ কমিটির ঘোষণার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আল আকসা মসজিদের ভেতরে নামাজ আদায় অব্যাহত থাকবে বলে আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ আব্বাস জানিয়েছেন। এছাড়া, এখন থেকে ফিলিস্তিনি মুসল্লীরা মাগরিব এবং এশার নামাজ আল-আকসা মসজিদে আদায় করবে এবং তিনি জানান পরবর্তী সিদ্ধান্ত বৈঠকের মাধ্যমে জানানো হবে।সূত্র:এএফপি,বিবিসি,রয়টার্স
Haram al Sharif.
ইসলাম খ্রীষ্টান ও ইহুদি – তিন ধর্মের কাছেই পবিত্র জেরুসালেমের হারাম-আল-শরিফ মসজিদ