জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়-বন-জঙ্গল-জলাভূমি-নদী পেরিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী ও শিশু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

482
Rohingya victims
হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী ও শিশু বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
কক্সবাজার,১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ :গত ২৫ আগস্ট ২০১৭, মায়ানমারে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর গত তিন সপ্তাহে তিন লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র জোসেফ ত্রিপুরা গতকাল মঙ্গলবার জানান,  গত ২৫ আগস্ট ২০১৭, থেকে নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর  প্রতিদিন হাজার হাজার মুসলিম রোহিঙ্গা নাফ নদী পার হয়ে বা দুর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চল পেরিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করছে। এ পর্যন্ত আনুমানিক ৩ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। প্রকৃত সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি হতে পারে কারণ নতুন শরণার্থীদের স্রোত অব্যাহত আছে এবং তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় প্রকৃত সংখ্যাটা নির্ধারণ করাটা কঠিন।গত সোমবার জানা গিয়েছিল প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে।
এদিকে, জাতিসংঘ শিশু তহবিল- ইউনিসেফ জানিয়েছে, মায়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজরে আশ্রয় নেয়া পৌনে চার লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে দুই লাখের বেশি শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।  ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষা বিভাগের প্রধান জ্যঁ লিবিকে উদ্ধৃত করে গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ  জানায় “এই মানবিক সঙ্কট ক্রমশ বড় আকার ধারণ করছে। আর এই সঙ্কটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে শিশুরা। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের মোট সংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশই শিশু।”
Rohingya victims
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে তিন লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
জ্যঁ লিবি বলেন, বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে ক্যাম্পগুলোতে সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার। সেজন্য প্রাথমিকভাবে ৭৩ লাখ ডলার প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে ইউনিসেফের সহায়তার জরুরি সামগ্রী কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে লিবি জানান।
তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন যে সংখ্যায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে তা ‘নজিরবিহীন’। ৪ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কেবল ছয় দিনেই দুই লাখ ২০ হাজার শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে। তাদের বাংলাদেশে আসার এই প্রবণতা শিগগিরই থামার কোনো লক্ষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি না।”
ইউনিসেফ বলছে, কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় পাওয়া বিপুল সংখ্যক শিশু বহুদিন ঠিকমত ঘুমাতে পারেনি। তারা ক্ষুধার্ত এবং দুর্বল হয়ে পড়ছে। রাখাইন থেকে দীর্ঘ দুর্গম পথ পেরিয়ে আসতে গিয়ে তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখনই তাদের চিকিৎসা প্রয়োজন।মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা খাদ্য ও পানি সংকট, আবাসন এবং পয়ঃসুবিধার অভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
Rohingya victims
পাহাড়-বন-জঙ্গল-জলাভূমি ও নদী পেরিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী ও শিশু বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
পাহাড়-বন-জঙ্গল-জলাভূমি ও নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা মানুষদের শরীরের ধকল কাটছে না কোনোভাবেই।  প্রতিটি পরিবারে গড়ে অন্তত ৪-৫টি শিশু রয়েছে। এদের অনেকেই ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। তাছাড়া, শিশুদের উপযোগী খাবার জুটছে না।রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এবং স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, কয়েকদিন ধরে দীর্ঘ ভয়ঙ্কর পথ পাড়ি দিয়ে আসা সকলেই কম-বেশী অসুস্থ। এর মাঝে পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব, সঠিক যত্ন না পাওয়া এবং খোলা আকাশের নিচে মাটিতে শুয়ে-বসে থেকে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। সূত্রঃ বার্তা সংস্থা এএফপি।
Rohingya victims
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়-বন-জঙ্গল-জলাভূমি ও নদী পেরিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী ও শিশু বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।