জিয়ার শাসনামল অবৈধ হলে আওয়ামী লীগও অবৈধ:মির্জা ফখরুল

103
nationalist volunteer
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত।
ঢাকা,শনিবার,১৯ আগস্ট ২০১৭:আজ শনিবার জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলসহ ও বিএনপির সকল অংগ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় শহীদ জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,আ’লীগের কথা-বার্তা অনুযায়ী বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামল অবৈধ হলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগও অবৈধ হয়ে যায়। উল্লেখ্য গতকাল (শুক্রবার) নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর স্টেডিয়ামের কাছে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন,”ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে জিয়াউর রহমানকে ‘অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী’হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অথচ এ বিষয়ে মির্জা ফখরুলরা নিশ্চুপ রয়েছেন কেন? এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বহু দলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন আমলকে কেউ যদি অবৈধ বলেন তাহলে তো রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগও অবৈধ।তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের শাসন আমল অবৈধ হওয়ার প্রশ্নই উঠে না;কারন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের “বাকশাল কায়েমের মধ্য দিয়ে সব রাজনৈতিক দলসহ আওয়ামী লীগকেও ব্যান্ড (বাতিল) করা হয়েছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর তিনি দেশে গণতন্ত্র ফেরান। তার শাসন আমলে বহু দলীয় রাজনীতির সূচনা হয়। সেই শাসন আমলের বিধি-বিধানকে অনুসরণ করে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পায় এই বর্তমান আওয়ামী লীগ।যে আওয়ামী লীগ এখন ক্ষতায় আছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় তার বিধিমালা অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন করেছিল। পরবর্তীকালে সংসদ নির্বাচন, পরবর্তী রাজনীতি কিন্তু তার ওপর দিয়ে চলেছে। আমরা বলতে চাই, বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসা অবৈধ হতে পারে না, মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া অবৈধ হতে পারে না, সাংবাদিকদের মুক্ত করে দেয়া ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দেয়া অবৈধ হতে পারে না।
“আওয়ামী লীগ জোর করে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রকাশের পর অনেকটা জোর করেই প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছে আওয়ামী লীগ। এছাড়া রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল। তাদের এই কর্মকাণ্ডে গোটা জাতি আজ হতবাক,উদ্বিগ্ন ও বিস্মিত।”সংশোধনী বাতিলে রিভিউ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান নিয়ে ফখরুল বলেন, এটি তাদের অধিকার। তবে সরকার রায় নিয়ে যা করছে, তাতে গণতন্ত্র, বিচার বিভাগ ও শাসনতন্ত্রে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। রায় পরিবর্তনে প্রধান বিচারপতির ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাদের কর্মকাণ্ডে সব দেশ ও জাতি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোগুলোকে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণের মূল বিষয় থেকে জনদৃষ্টি ভিন্ন দিকে ফেরানোর কৌশল নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা হচ্ছে আওয়ামী লীগের সহজাত কৌশল। তারা এই কৌশলের মাধ্যমে মূল বিষয় থেকে জনমতকে অন্যদিকে নেয়ার চেষ্টা করে। এজন্য তারা উল্টো-পাল্টা কথা বলছে।
নির্বাচন কমিশনের চলমান সংলাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন,প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই বলেছেন, এই সংলাপ আমরা শুনব, আমরা তাদের কথা শুনব। আমরা কোনো সংলাপ করছি না। সুতরাং এটাকে সংলাপ বলাই যাবে না, উনি শুনবেন। তারপরেই উনি সিদ্ধান্ত নেবেন। এজন্য আমরা বলে এসেছি প্রধান নির্বাচন কমিশনার দল-নিরপেক্ষ নন, তার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ কী? তাদের কাজ কী শুধুমাত্র সরকার যা চাইবে, সেভাবে নির্বাচন করা, নিশ্চয় নয়। সংবিধানে যে কথা বলা আছে, সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটা সুন্দর পরিবেশে ভোটারদের ভোট প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানে নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয় সবাই বলছেন। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের অধীনে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সব দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসা।তিনি বলেন দেশের বিভিন্ন সূধীজন,বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক দলগুলো বলছে নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনকালীন সময়ে ‘নিরপেক্ষ সরকার’ না থাকলে নির্বাচন কোনোভাবে সুষ্ঠু হবে না।এ সময় জিয়ার মাজারে উপস্থিত ছিলেন,বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আমানউল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরফত আলী সপু, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, যুব দলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের গোলাম সরোয়ার, ইয়াসিন আলী, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাদরেজ জামান, মহানগর দক্ষিণের এস এম জিলানী, নজরুল ইসলাম, রফিক হাওলাদার, উত্তরের ফখরুল ইসলাম রবিন, গাজী রেজওয়ান উল হোসেন রিয়াজ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।