চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকা আসছেন

130
xi-jinping
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট  শি জিনপিং দু’দিনের সফরে আগামী শুক্রবার সকালে ঢাকা আসছেন।দুই দিনের বাংলাদেশ সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট তাঁর দেশের ২৪ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন স্টেট কাউন্সিলর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী।বাংলাদেশ সফর শেষে তিনি ঢাকা থেকে ভারতের গোয়ায় যাবেন।গত ৩০ বছরের মধ্যে এটি চীনের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম ঢাকা সফর।এর আগে ১৯৮৬ সালে চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লি শিয়াননিয়ান ঢাকা সফর করেছিলেন। শি জিনপিং ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কা এবং ২০১৫ সালে পাকিস্তান সফর করেন।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী কাল শুক্রবার সকালে কম্বোডিয়া থেকে সরাসরি  ঢাকায় আসবেন  এবং এখান থেকে দু’দিনের সফর শেষ করে ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা) শীর্ষ  সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের পর্যটন নগরী গোয়া যাবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে চীন সফরে করেছিলেন।চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ বা ওবোর নামে পরিচিত উন্নয়ন কৌশল ও রূপরেখায় ইতিমধ্যে বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এবারের সফরের সময় এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে। ওবোরে যুক্ত হলে সিল্ক রোড ফান্ড (এই উদ্যোগে যুক্ত দেশগুলোর জন্য চীনের সরকারি বিনিয়োগ তহবিল) থেকে স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ পাবে বাংলাদেশ।গত সোমবার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কং জুয়ানইউ বলেন,চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফর হবে একটি মাইলফলক।কারন বাংলাদেশ,দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থ জড়িত।

sheikh hasin
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে আসছেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্ব বোধ করছি। আমি বিশ্বাস করি, প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের এই সফর দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও গুরুত্ব বহন করবে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ অন্যান্য খাতে ‘নিবিড় সহযোগিতার নতুন যুগের’ সূচনা হবে।প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ-চীনের সুদৃঢ় বন্ধনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীন পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সুপ্রতিবেশীসুলভ মনোভাব, পারস্পরিক বিশ্বাস, আস্থা এবং পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়।শেখ হাসিনা এক-চীন নীতি এবং চীনের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য বেইজিংয়ের নেওয়া পদক্ষেপের ব্যাপারে বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।শেখ হাসিনা বলেন, ‘চীন এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার এবং আমরা চীনকে আমাদের স্বপ্ন অনুধাবনের ও বাস্তবায়নের বিশ্বস্ত অংশীদার বলে মনে করি। বিনিয়োগ, পুঁজি এবং কারিগরিবিষয়ক আমাদের বড় বড় অনেক প্রকল্পে চীন এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার পাশাপাশি যোগাযোগ, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক অর্থনীতি ও তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের সময় বাংলাদেশ ও চীন ২৫টির মতো চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে।চীনের প্রেসিডেন্টের সফর সামনে রেখে  সে দেশের অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তারা ঢাকায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত আলোচনায় অংশ নেবেন।চীনের প্রেসিডেন্টর সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিংকিয়াং উপস্থিত ছিলেন।

khaleda zia
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া

দু’দিনের ঢাকা সফরে এসে আগামী শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।বিকেল পাঁচটায় হোটেল লা ম্যারিডিয়ানে এই বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।বাংলাদেশের সাবেক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৬ সালে  চীনের সাথে বাংলাদেশের কুটনৈতিক সম্পর্কের গোড়াপত্তন হয়।১৯৭৫-৭৬ সালে চীন স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।তাও জিয়াউর রহমানের প্রাজ্ঞ কুটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে। একমাত্র জিয়াউর রহমানের দক্ষতা ও প্রাজ্ঞ কুটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে আজ চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার।বাংলাদেশ-চীনের সুদৃঢ় বন্ধন দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ অন্যান্য খাতে ‘নিবিড় সহযোগিতার নতুন যুগের’ সূচনা হয়েছিল জিয়াউর রহমানের রাস্ট্রক্ষমতায় থাকাকালীন ১৯৭৬ সাল থেকেই।তাই চীনের সাথে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার পাশাপাশি যোগাযোগ, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক অর্থনীতি ও তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।তাছাড়াও ১৯৭৬ সাল থেকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাথে বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দলের মধ্যে আন্তরিক ও সুদৃঢ় সম্পর্ক বিদ্যমান।সে কারনে  চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফরকে বিএনপি গুরুত্বের সাথে দেখছে।জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির প্রধান হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া চীনা প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাত করে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে স্বাগত জানাবেন।বৈঠকে খালেদা জিয়া সাথে দলের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন একটি প্রতিনিধিদল থাকবে।ইতোপূর্বে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে শি জিনপিংয়ের এর একাধিকবার সাক্ষাত হয়েছিলো।সর্বশেষ বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে বেগম জিয়া চীন সফরকালে সেদেশের ভাইস প্রেসিডেন্টেসহ কমিউনিস্ট পার্টির নীতিনির্ধারকদের সাথেও বৈঠক করেন। চীনের সাথে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় বিএনপি। বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে চীনের সহযোগিতা ও খনিজ-জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমল থেকে শুরু হয়, যা বেগম খালেদা জিয়ার আমল আরো সম্প্রসারিত হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমানসহ সিনিয়র নেতারা প্রতিনিধিদল থাকবেন।

khaleda zia xi-ji
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
hasina xi
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ,চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং