চন্দ্রমুখী খ্যাত মাধুরী দীক্ষিত হাসপাতালে

390
Madhuri Dixit Chan
নাচের মুদ্রায় চন্দ্রমুখী খ্যাত মাধুরী দীক্ষিত

হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫০ বছর বযসী মাধুরী দীক্ষিত৷ জানা গেছে মাধুরী দীক্ষিত কাঁধের সমস্যায় ভুগছিলেন৷ সম্প্রতি ব্যাথা আরও বেড়ে গিয়েছিল তাঁর৷ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন চিকিৎসা করাতে৷ ভারতের শীর্ষস্থানীয় একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, দিন কয়েক আগেই চিকিৎসার জন্য  যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী চন্দ্রমুখী খ্যাত মাধুরী দীক্ষিত। তার স্বামী শ্রীরাম নেনেরও কাঁধের ব্যাথার চিকিৎসা চলছিল। শ্রীরাম নেনে দীর্ঘদিন ধরে কাঁধের ব্যাথায় ভুগছিলেন। বেশ কবছর আগেই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন বলিউডের চির সবুজ তারকা মাধুরী দীক্ষিত। এই মুহূর্তে সিলভার স্ক্রিনে ফেরার তেমন কোন সম্ভাবনা নেই তার। তবে ইদানীং বড়পর্দায় সেভাবে দেখা না গেলেও ছোটপর্দার সৌজন্যে ব্যস্ততা তুঙ্গে মাধুরীর৷ শোনা যাচ্ছে, রিয়্যালিটি শো ‘ঝলক দিখলা যা’র সময়ও বারবার কাঁধে ব্যাথার জন্য ব্রেক নিতে হত তাঁকে৷ হিন্দি সিনেমার অন্যতম সেরা নায়িকা ৫০ বছর বযসী মাধুরী দীক্ষিত। তার ভুবন ভোলানো হাসি আজও তার হাজার হাজার ভক্তদের মনে দোলা দেয় হৃদয়ে কাঁপন ধরায়। আজও তার রূপের দৌড়ে পাল্লা দিতে পারেনি কেহ। মাধুরীর জন্ম ১৯৬৭ সালের ১৫ মে, মুম্বাইয়ে চিতপাওন ব্রাহ্মণ পরিবারে। বাবার নাম শংকর দীক্ষিত, মায়ের নাম স্নেহলতা। এক ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে মাধুরী ছিলেন সবার ছোট। ব্রাক্ষ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করার খাতিরে বেশ ধার্মিক মহারাষ্ট্রের চিতপাওন ব্রাহ্মণদের দৃষ্টিতে তারা উচ্চ বর্ণের মানুষ ছিলেন। মাধুরী অবশ্য প্রতিভার মাধ্যমে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন কৌলিন্যে নয়। কারণ বলিউডে ফিল্মি কৌলিন্য তার ছিল না।  প্রতিষ্ঠিত কারও হাত ধরে এই মারাঠি নারী সিনেমায় আসেননি। মাধুরীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় মুম্বাইয়ে। ডিভাইন চাইল্ড হাইস্কুলের ছাত্রী ছিলেন তিনি। মুম্বাই ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি কত্থক নাচের তালিম নেওয়া নৃত্যশিল্পী। তার মা উচ্চাঙ্গসংগীতের শিল্পী। মায়ের কাছ থেকে গানও শেখেন মাধুরী। চলচ্চিত্রে মাধুরী তার ক্যারিয়ার শুরু করেন বাঙালি নারীর চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমেই। তাপস পালের বিপরীতে মাধুরী অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘অবোধ’ মুক্তি পায় ১৯৮৪ সালে। সেখানে মাধুরীর ভূমিকা ছিল এক নিষ্পাপ বালিকাবধূর, যে বিবাহিত জীবনের যেন কোনো মানেই বোঝে না। সিনেমাটি বক্স-অফিসে সাফল্য না পেলেও তার অভিনয় প্রশংসা পেয়েছিল।

Madhuri Dixit
ছোট্ট বেলায়,অভিনয়ে আসার আগের মাধুরী দীক্ষিত

মাধুরীর সঙ্গে আরেক কিংবদন্তি অভিনেত্রী মধুবালার দারুণ মিল রয়েছে। বিশেষ করে দুজনের হাসিই হৃদয়-ছোঁয়া। ১৯৮৯ সালে সুভাষ ঘাই পরিচালিত ‘রাম-লাক্শমান’ও সুপারডুপার হিট। এখানেও মাধুরীর বিপরীতে ছিলেন অনিল। এ বছরেই মিঠুন চক্রবর্তীর বিপরীতে ‘প্রেম প্রতিজ্ঞা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য আবার ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি মাধুরীকে। একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা। সে সময়ের হিট ছবি  ‘ত্রিদেব, ‘পারিন্দা’ তে মাধুরী নায়িকা হিসেবে ছিলেন। ‘কিষাণ-কানহাইয়া’, ‘জিন্দেগি এক জুয়া’, ‘জামাই রাজা’সহ অসংখ্য হিট ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। ১৯৯০ সালে মুক্তি পায় মাধুরী ও আমির খান অভিনীত প্রেমের সিনেমা ‘দিল’। এ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রথমবারের মতো সেরা অভিনেত্রীর ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতে নেন মাধুরী। ৯১ সালে মাধুরী, সঞ্জয় দত্ত এবং সালমান খান অভিনীত ত্রিভুজ প্রেমের সিনেমা ‘সাজন’ মাধুরীকে বলিউডের এক নম্বর নায়িকার আসন দিয়ে দেয়। ১৯৯৩ সালে সঞ্জয় দত্ত ও জ্যাকি শ্রফের বিপরীতে ‘খলনায়ক’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আবার সেরা অভিনেত্রীর ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার। মাধুরীর বৈশিষ্ট্য হল, নাচ, অভিনয়, গুরুগম্ভীর, কমেডি সব কিছুতেই তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি যেমন সুন্দরী তেমনি আবেদনময়ী। বিশেষ করে তার হাসিতে মোহিত হন দর্শক। ‘ধক ধক করনে লাগা’, ‘চোলি কে পিছে কেয়া হ্যায়’, ‘তু শায়ের হ্যায়’, ‘এক লাড়কি হ্যায়’, ‘মার ডালা’-সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের সঙ্গে তার নাচ দর্শক হৃদয়ে ঝড় তুলেছে।  ‘লজ্জা’ সিনেমায় মাধুরী অভিনয় করেন এক যাত্রা-অভিনেত্রীর ভূমিকায়। সেখানে তার অভিনীত চরিত্রের নাম ছিল জানকী। নারী অধিকারের পক্ষে ওই সিনেমায় প্রতিটি প্রধান নারী চরিত্রের নাম ছিল সীতার বিভিন্ন নামানুসারে। ‘গজগামিনী’ ছিল আর্ট ফিল্ম। মাধুরীর ভক্ত বিখ্যাত শিল্পী মকবুল ফিদা হোসেনের নির্মাণ ছিল এটি। এই সিনেমায় প্রাচীনযুগ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত শ্বাশত ভারতীয় নারীর রূপকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে। মকবুল ফিদা হোসেন এই শিল্পচিত্রটিকে মূলত মাধুরীর সৌন্দর্যের বেদীতে তার অর্ঘ্য হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। সঞ্জয় লিলা বানসালির ‘দেবদাস’ সিনেমায় চন্দ্রমুখীর ভূমিকায় মাধুরী অসামান্য অভিনয় করেন। ‘ঢাই শাম রোখলে’ এই নাচের বোল তিনি যে মুদ্রায় ফুটিয়ে তোলেন তা তুলনাবিহীন। ‘দেবদাস’ উপন্যাসের চন্দ্রমুখী যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে মাধুরীর মধ্যে।

Madhuri Dixit
অসাধারণ অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেন মাধুরী দীক্ষিত

১৯৯৯ সালে মাধুরী বিয়ে করেন মার্কিন প্রবাসী ভারতীয় হার্ট সার্জন শ্রীরাম নেনেকে। এরপর সংসার সন্তান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মাধুরী। প্রবাসে তিনি সাধারণ এক গৃহবধূর সরল জীবন উপভোগ করেন। স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তার সুখের সংসার। সেই আশির দশকে তার নাচের ভঙ্গিমায়, লাস্যে ঝড় তুলেছিলেন বহু হৃদয়ে। হাজারো পুরুষের হৃদয় কাঁপানো নায়িকা মাধুরী দীক্ষিত। চির যৌবনা এই নায়িকা বলিউডে নিজের আবেদন ধরে রেখেছেন এখনো। তিনি নিজের গুণ, অভিনয়, নাচ ও সৌন্দর্য দিয়ে হাজারো দর্শককে মাতিয়ে রাখেন। অসাধারণ হাসি ও চোখের অভিব্যক্তি দিয়ে যে কারো মন জয় করে ফেলতে পারেন মূহূর্তেই। তারপর কেটে গিয়েছে ২৫ বছরেরও বেশি সময়। ২০০৬ সালে তিনি আবার মুম্বাইয়ে সপরিবারে বাস করতে ফিরে আসেন। সিনেমায় আবার অভিনয় শুরু করেন তিনি। ২০০৭ সালে মুক্তি পায় ‘আজা নাচলে’। ছবিটিতে তার নাচ ও অভিনয় প্রশংসা পায়। এর মধ্যে টিভি রিয়েলিটি শো ‘ঝলক দিখলা জা’র মাধ্যমে ছোট পর্দায় জনপ্রিয় হয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালে মুক্তি পেয়েছে মাধুরী অভিনীত ডার্ক কমেডি ‘দেড় ইশকিয়া’। বক্স-অফিসে তেমন সাফল্য না পেলেও, সমালোচকদের কাছে প্রশংসা পেয়েছে সিনেমাটি। প্রশংসিত হয়েছে বেগম পারার ভূমিকায় মাধুরীর অভিনয়। এর আগে ‘ইয়ে জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ সিনেমায় আইটেম সং ‘ঘাগরা’ দিয়ে মাধুরী প্রমাণ করেছেন এই বয়সেও সৌন্দর্যে ও আবেদনে তিনি অনবদ্য। গত বছর মাধুরী অভিনীত ‘গুলাব গ্যাং’ মুক্তি পায়। বর্তমানে তিনি নাচের একটি অনলাইন স্কুল পরিচালনা করছেি এবং  সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি ইউনিসেফের গুডউইল অ্যাম্বাসেডরও।