কুষ্টিয়ায় হোটেলে মার্কিন নারী সাংবাদিক হয়রানির শিকার

211
journalist -Ms -Joyc
মার্কিন নারী সাংবাদিক মিস জয়েস।তিনি ওয়াশিংটন পোষ্ট, নিউ ইয়র্ক টাইমসের মত সংস্থায় ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন।

ঢাকা,সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০১৭ : ওয়াশিংটন পোষ্ট, নিউ ইয়র্ক টাইমসের মত সংস্থায় ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন মিস জয়েস। সম্প্রতি বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ নিয়ে কাজ করতে এসে সেই কাজের অংশ হিসেবে গিয়েছিলেন কুষ্টিয়াতে। উঠেছিলেন শহরের থানাপাড়ার খেয়া আবাসিক হোটেলে। মার্কিন ফ্রিল্যান্স ফটোসাংবাদিক অ্যালিসন জয়েস ছবি তোলার কাজে কুষ্টিয়াতে গিয়ে নিজের হোটেল রুমে রাতে হোটেলের মালিকের হয়রানি শিকার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোববার রাত থেকে এমন একটি খবর দেখা যাচ্ছে।কুষ্টিয়া পুলিশ জানাচ্ছে, মিস জয়েসকে হয়রানি করার অভিযোগে আজ দুপুরে ঐ হোটেলের মালিক বিশ্বনাথ সাহা বিশুকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু মার্চের ছয় তারিখ রাতে ঘটা সেই ঘটনাটি এত পরে জানা গেল কেন ? আর হোটেলে সেই রাতে কী ঘটেছিল তার বর্ণনা দিতে গিয়ে মিস জয়েজ সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, মার্চের ছয় তারিখ রাত সাড়ে বারোটার দিকে তিনি রুমের বাইরে হইচই শুনে দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন।

journalist Ms Joyc
মার্কিন নারী সাংবাদিক মিস জয়েস,ওয়াশিংটন পোষ্ট, নিউ ইয়র্ক টাইমসে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন।

এ সময় হোটেলের অফিস রুম এবং হলওয়ে থেকে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ পেয়ে তিনি এগিয়ে গিয়ে তাদের শান্ত হতে বলেন।এ সময় হোটেলের মালিক মদ্যপ অবস্থায় তার রুমে এসে দরজায় দাড়িয়ে মিস জয়েসকে চিৎকার না করতে বলেন।তিনি বলেন, হোটেল মালিক বিশ্বনাথ সাহা পুরাদরজা জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকায় মিস জয়েস দরজা বন্ধ করতে পারছিলেন না।কয়েকবার বলার পর, মালিক সরে গেলে দরজা বন্ধ করে দেন মিস জয়েস।এরপর বাইরে থেকে দরজা ধাক্কানো হতে থাকে এবং বারবার মিস জয়েসের কাছে ফোন আসতে থাকে।তিনি ফোন রিসিভ না করলে এক পর্যায়ে হোটেলে থাকা বিকল্প চাবি দিয়ে বাইরে থেকে দরজা খোলারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন মিস জয়েস।এরপর তিনি কুষ্টিয়ায় থাকা তার পরিচিত একজন সাংবাদিককে ফোন করলে, ঐ সাংবাদিক হোটেলে আসার পর আতংকিত মিস জয়েস রাতেই হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে যান।রাতে শহরের অন্য একটি হোটেলে গেলে তারা মিস জয়েসকে জায়গা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর কুষ্টিয়ায় এক বেসরকারি সংস্থার অফিসে ওঠেন তিনি।
ছয় মার্চ রাতে ঐ ঘটনা ঘটলেও মিস জয়েস ঢাকায় ফিরে মার্চের নয় তারিখে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।অভিযোগ করতে দেরির কারণ জানতে চাইলে মিস জয়েস জানান, তার কাজের সময় খুব অল্প থাকায় তিনি অভিযোগ জানাতে যাননি।এছাড়াও তিনি আইনি জটিলতা সাধারণত দীর্ঘ সময় নেয়, হয়ত সে সময় তিনি বাংলাদেশে থাকবেন না, এমন ভেবেই তিনি সে সময় আনুষ্ঠানিকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাননি।

Hotel owner Vishwanath
খেয়া আবাসিক হোটেলের মালিক বিশ্বনাথ সাহা বিশু

মার্চের ছয় তারিখে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে বাংলাদেশে থাকা তার বন্ধুদের উৎসাহে মিস জয়েস প্রথমে ইমেইলে অভিযোগ করেন, যেটি তিনি পাঠান পুলিশ সুপারের কাছে।এরপর ১২ই মার্চ তার পক্ষে অভিযোগটি জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের কাছে হস্তান্তর করেন কুষ্টিয়ার একজন উদ্যোক্তা সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। এরপরই মূলত সক্রিয় হয় পুলিশ। এদিকে, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, ইমেইলে মিস জয়েসের করা অভিযোগটিকে জিডি হিসেবে গ্রহণ করেছে পুলিশ। সেই প্রেক্ষাপটে আজ সোমবার দুপুরে হোটেলের মালিক বিশ্বনাথ সাহা বিশুকে আটক করা হয় এবং আজই তাকে আদালতে তোলা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।সূত্রঃবিবিসি,ওয়াশিংটন পোষ্ট, নিউ ইয়র্ক টাইমস।