গোশত খাওয়া বন্ধ করতে পারেন না : এলাহাবাদ হাইকোর্ট

524
yogi adityanath
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ
ভারত শনিবার ১৩ মে ২০১৭ : উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ নির্বাচিত হওয়ার পর উত্তর প্রদেশের অবৈধ কসাইখানা বন্ধের নির্দেশ দেয়। এর ফলে কসাইখানার উপরে নির্ভরশীল বহু মানুষ রুটি-রুজি হারিয়ে গভীর সংকটে পড়ে। বিশেষ করে দলিতরা সম্প্রদায় যারা গবাদি পশুর চামড়া বিক্রি করে উপার্জন করে তারও সংকটে পড়েছে। এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, উত্তর প্রদেশে গোশত ব্যবসায়ে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ৩ কোটি ৫৬ হাজার লোক যুক্ত রয়েছেন। এদের মধ্যে বড় অংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। কসাইখানা বন্ধে সংশ্লিষ্টরা বেকার হয়ে পড়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি অবৈধ কসাইখানা বন্ধ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যোগী আদিত্যনাথ সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে কসাইখানা বন্ধ হওয়া শুরু হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে যেকোনো কসাইখানা বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এমনকি মহিষের গোশতের দোকানেও হামলা চালায় বিজেপি-আরএসএস বাহিনী
allahabad high court
এলাহাবাদ হাইকোর্ট,উত্তর প্রদেশ,ভারত।
উত্তর প্রদেশে অবৈধ কসাইখানা বন্ধের নির্দেশ দেয়ার বিরুদ্ধে গোশত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে উত্তর প্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে এলাহাবাদ হাইকোর্টে রিট করা হয়। উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্টে উল্লেখিত মামলার শুনানিতে হাইকোর্টে উত্তর প্রদেশ সরকারকে তিরস্কৃত করে বলে আপনারা নিজেরা গোশত খাওয়া বন্ধ করুন,কিন্তু অন্য কারোর গোশত খাওয়া বন্ধ করতে পারেন না। বিভিন্ন ধর্ম,বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন প্রাণীর গোশত খেয়ে থাকে। আবার বিভিন্ন প্রাণীর চামড়া বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায়ের লোকেরা গরুর মাংস খায় ও গবাদি পশুর চামড়া বিক্রি করে উপার্জন করে থাকে। যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে উদ্দেশ্য করে গতকাল শুক্রবার হাইকোর্ট বলেছে, রাজ্যে যদি বৈধ কসাইখানা না থাকে তাহলে বৈধ কসাইখানা তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব। কসাইখানা তৈরি করার দায়িত্ব সরকারের নয় বলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যে সাফাই দেয়া হয়েছিল আদালত তা খারিজ করে দেয়।
Dalit-community
উত্তর প্রদেশের দলিত সম্প্রদায়,গবাদি পশুর চামড়া বিক্রি করে উপার্জন করাই যাদের পেশা।
হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করে আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে কসাইখানার লাইসেন্স দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১৭ জুলাই ওই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। হাইকোর্ট নয়া লাইসেন্স ইস্যু এবং পুরোনো লাইসেন্স নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কসাইখানা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া আদালত সমস্ত গোশত ব্যবসায়ীকে নিজ নিজ জেলা কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা পঞ্চায়েত কার্যালয়ে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে বলেছে। হাইকোর্ট কত জনকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে এবং কত জনের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে তা রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে আগামী ১৭ জুলাই জানানোর নির্দেশ দিয়েছে।
গোশত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো আবেদনে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলা হয়, তাদের লাইসেন্সের মেয়াদ গত ৩১ মার্চ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু নবায়নের আবেদন জানানো সত্ত্বেও সরকার তা নবায়ন করেনি। তারা লাইসেন্স নবায়ন করার দাবি জানান। হাইকোর্টের ওই রায়ের ফলে গোশত ব্যবসায়ী ও দলিতরা সম্প্রদায় যারা গবাদি পশুর চামড়া বিক্রি করে উপার্জন করে তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।