আসলাম চৌধুরীর সাথে দেখা হয়েছিল কথা হয়নিঃসাফাদি

324
 গ্রেপ্তারকৃত এম আসলাম চৌধুরী
গ্রেপ্তারকৃত এম আসলাম চৌধুরী

ইসরাইলি রাজনীতিক মেনদি এন সাফাদি স্বীকার করেছেন যে ভারতে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর দেখা হয়েছিল কথা হয়নি। কিন্তু সেই সঙ্গেই দাবি করেছেন তাদের মধ্যে কোনো গোপন বিষয়ে কথা হয়নি। ইসরাইল থেকে টেলিফোনে বিবিসিকে বলেন, ‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি, সেখানে সংখ্যালঘুদের অবস্থা এগুলো সবাই জানেন। আমরা দুজনে সে সব নিয়েই কথা বলেছি। তাও সেটা একটা প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে। আমরা বাংলাদেশে সামরিক অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করছিলাম বা সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছিলাম-এর চেয়ে হাস্যকর কিছু হতেই পারে না।’তিনি আরো দাবি করেছেন যে ‘সরকার ফেলার চক্রান্ত একটা প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে করা হচ্ছে – তারপর আবার চক্রান্তকারীরা হাসিমুখে তাদের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন, এ জিনিস কোথাও আবার হয় না কি?’ বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে আসলাম চৌধুরীকে রবিবার ঢাকায় গ্রেপ্তা করা হয়। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। সাফাদি, যিনি ইদানিং বেশ ঘন ঘনই ভারতে আসেন, বিবিসি বাংলাকে বলেন, আগ্রার যে অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর সম্প্রতি দেখা হয়েছিল তাতে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির যুব শাখা। প্রতিবেশী দেশের একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে আসলাম চৌধুরীও সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন। দুজনের আগে থেকে কোনো পরিচয়ও ছিল না – একই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত দুই অতিথি হিসেবে তাদের মধ্যে স্বাভাবিক আলাপ হয়েছিল মাত্র। ‘আসলাম চৌধুরীকে আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে এটা আমি বিশ্বাস করি না। উনি কি কাউকে হত্যা করেছেন? উনি শুধু ভারতে এসে একজন ইসরাইলির সঙ্গে কথা বলেছেন।’ আগ্রায় বিজেপির যুব শাখার অনুষ্ঠানে আসলাম চৌধুরী (বামে) এবং মেনদি (ডানে) সাফাদি বলেন, আসলাম চৌধুরী তার দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে সরব হয়েছেন বলেই তাকে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে তার ধারণা। বাংলাদেশে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে তাকে যে মোসাদের গুপ্তচর বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে সে সম্পর্কেও সাফাদি পুরোপুরি অবহিত। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমাকে এমন একজন গুপ্তচর দেখান যিনি ঘণ্টায় ঘণ্টায় তার গতিবিধি ফেসবুকে পোস্ট করেন, সেমিনারে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ান – সংবাদপত্রে সাক্ষাৎকার দিয়ে বেড়ান। এরপরও কেউ আমাকে যদি গুপ্তচর মনে করেন তাহলে আমার আর কিছু বলার নেই।’সাফাদি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের বিষয়টি তাকে বিচলিত করে।  ‘আমি সারা পৃথিবীতেই সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কথা বলি, তাদের জন্য লড়ি – বাংলাদেশও তার কোনও ব্যতিক্রম নয়।’ তার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পাতায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কতগুলো পোস্টিং রয়েছে। আসলাম চৌধুরীর আটক নিয়ে ইসরাইলের একটি নিউজ সাইটে প্রকাশিত একটি খবরও ঐ ফেসবুক পাতায় পোস্ট করা হয়েছে।

এম আসলাম চৌধুরী (বামে) ও মেনদি সাফাদি (ডানে)।
এম আসলাম চৌধুরী (বামে) ও মেনদি সাফাদি (ডানে)।

আওয়ামী লীগ প্রচার চালাচ্ছে যে, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী মিলে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সহায়তায় শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে। শুধু প্রচারণা নয়, বাস্তবে অ্যাকশনও শুরু হয়ে গেছে বিএনপির বিরুদ্ধে। কথিত মোসাদ এজেন্টর সাথে কলকাতায় বৈঠক করার অভিযোগে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডও মঞ্জুর করা হয়েছে। একই সাথে আওয়ামী ও ভারতের অনুগত বাংলাদেশি মিডিয়াও একই সুরে নেচে যাচ্ছে। প্রতিদিন বড় বড় সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে পত্রিকাগুলোতে। আওয়ামী লীগের নেতা এবং মন্ত্রীরা ‘ইসরাইলের সাথে মিলে বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে!’ বলে কৃত্রিমভাবে নিজেদে চোখ কপালে উঠিয়ে বিস্মিত হওয়ার ভান করে যাচ্ছেন! কিন্তু মজার বিষয় হল, কেউই একটা প্রশ্ন তুলছে না যে, ভারতে বসে মোসাদকে ষড়যন্ত্র করতে দিচ্ছে যে ভারত তার বিরুদ্ধে হাসিনা সরকার নীরব কেন? বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ‘ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে’ এমন অভিযোগ তুলে উলফার অনুপ চেটিয়াসহ বহু নেতাকে বাংলাদেশ থেকে আটক করে নিয়ে গেছে ভারত। বাংলাদেশ সরকার কেন চাচ্ছে না মোসাদের ষড়যন্ত্রকারী গোয়েন্দাদেরকে আটক করে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে? এমনকি গত কয়েক দিনে একটি নিন্দাসূচক বিবৃতিও তো দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। এর রহস্য কী? সরকারের রহস্য কি আছে তা আমরা জানিনা! তবে একটা কথা আমাদের সকলেই জানি যে, পৃথিবীর মধ্যে এমাত্র ইসরাইলের সাথে বাংলাদেশের কোন কুটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তা ছাড়াও ইসরাইল ইহুদী রাস্ট্র হওয়ায় ও ফিলিস্তিনীদের উপর হিংস্র হায়েনার মত অত্যাচার চালানোর কারনে কোন মুসলমানই ঐ হিংস্র পশু রাস্ট্র ইসরাইল তথা ইসরাইলের কোন ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক তো দূরে থাক কোন কথাও বলতে পারে না। তাই বিএনপি বা আসলাম চৌধুরি কেন কিভাবে ইসরাইলি রাজনীতিক মেনদি এন সাফাদির সাথে দেখা করলো? ‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সাফাদির সাথে আসলাম চৌধুরি কথা বলার কে? বিবিসির কাছে সাফাদিতো স্বীকার করেছে যে, ‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে আমরা দুজনে কথা বলেছি। আবার এটাও ঠিক যে, কথিত মোসাদ এজেন্টর সাথে কলকাতায় বসে বিএনপির লোক বৈঠক করবে এটা কিভাবে সম্ভব? ভারত কি কখনও আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বিএনপিকে সমার্থন করবে? সুতরাং সবকিছু যেন গুলিয়ে যাচ্ছে। কোথাও একটা গোলমাল আছে? মূল রহস্যটা কি? আমরা নাখান্দ বান্দারা কিছুই জানিনা।

সাফাদি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনসের প্রধান মেনদি সাফাদি
সাফাদি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনসের প্রধান মেনদি সাফাদি