আগামীকাল শুক্রবার বিশ্ব-ইজতেমার ২য় পর্ব শুরু

261
World Ijtema
ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণ ইতোমধ্যে ইজতেমাস্থলে আসতে শুরু করেছেন।

ঢাকা,বৃহস্পতিবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৭  : আগামীকাল ২০ জানুয়ারী শুক্রবার ফজর নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে টঙ্গির তুরাগ নদীর তীরে শুরু হবে তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্ব। আগামী ২২ জানুয়ারী রবিবার আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্ব। এবারের বিশ্ব ইজতেমায় দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ-মুসল্লি অংশ গ্রহণ করবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দিন শুক্রবার হওয়ায় ইজতেমা ময়দানে পবিত্র জুমা’র নামাজ অনুষ্টিত হবে। পবিত্র জুমা’র নামাজে দেশী-বিদেশী মুসল্লিসহ ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ২২ জানুয়ারী রবিবার বেলা ১১টা থেকে পৌনে ১২টার মধ্যে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালের ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা শেষ হবে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণ ইতোমধ্যে ইজতেমাস্থলে আসতে শুরু করেছেন। তারা রেলপথ, সড়ক পথ, নৌপথ এবং অনেকে পায়ে হেঁটে ইজতেমাস্থলে আসছেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল জানান, বিশ্বের দেড় শতাধিক মুসলিম দেশের প্রায় ১৫ হাজার তাবলীগ জামাতের প্রতিনিধি ইতোমধ্যে ইজতেমা ময়দানে অংশ নিয়েছেন।

World-Ijtema
ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণ ইতোমধ্যে ইজতেমাস্থলে আসতে শুরু করেছেন,প্যান্ডেল ইতোমধ্যে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে

গত বছর ১৮ হাজার বিদেশী ধর্মপ্রাণ-মুসল্লি অংশ নিয়েছিলেন। বিদেশী তাবলীগ জামাতের জন্য আলাদভাবে যে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে তা ইতোমধ্যে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে বলেও তিনি জানান। মুসল্লিদের সমাগম বেশি হওয়ায় এবছর দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩২ জেলা এবং আগামী বছর অপর ৩২ জেলার মুসল্লিরা বিশ্ব-ইজতেমায় অংশগ্রহন করবেন। গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার থেকে দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেয়া ১৬টি জেলার মুসল্লিরা টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠে এসে অবস্থান নিচ্ছেন। তার মধ্যে অনেক মুসল্লি ময়দানের ভেতরে নিজ-নিজ খিত্তায় গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। টঙ্গী ইজতেমা মাঠে সুবিশাল চটের তৈরী প্যান্ডেলের নিচে দেশী-বিদেশী ধর্মপ্রাণ মুসলিল্লদের আগমন বেড়েই চলেছে। প্রথম পর্বের তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমায় ১৭টি জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।আর দ্বিতীয় পর্বে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৬টি জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। দ্বিতীয় পর্বে রাজধানী ঢাকা সহ যে সব জেলার মুসল্লিরা অংশ নিবেন, তারা হলেন- চাঁদপুর, নোয়াখলী, পাবনা, নওগাঁ, কিশোরগঞ্জ, কক্রবাজার, বাগেরহাঁট, কুষ্টিয়া, বরগুনা, বরিশাল, হবিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ি, মেহেরপুর, লালমনিরহাট ও দিনাজপুর।
ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের চৌরাস্তা পর্যন্ত দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও রাস্তায় পার্কিং করা গাড়িসমূহ অপসারণ, ধূলাবালী নিয়ন্ত্রণের জন্য সার্বক্ষণিক পানি ছিটানোর ব্যবস্থা, রাস্তার দুই পাশে দেয়ালের অশ্লীল পোস্টার অপসারণ ও সিনেমা হলসমূহ সম্পূর্ণ বন্ধের ব্যবস্থা, বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ৬টি টেলিফোন লাইন ও কয়েকটি হট লাইন স্থাপন, বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য কন্ট্রোল রুমের সামনে ৫৪টি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। র‌্যাব,পুলিশ,ডিবিসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্য ইজতেমা মাঠে ও আশেপাশে দায়িত্ব পালন করবেন।। ইজতেমা আয়োজকরা জানান, বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি পৃথক কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে। ইজতেমায় আগত দেশী-বিদেশী মুসল্লীদের স্বাগত জানিয়ে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে, নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরাসহ র‌্যাবের ৯টি ও পুলিশের ৫টিসহ মোট ১৪টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। ইজতেমা কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক ৭০ ড্রাম ব্লিচিং পাউডার সরবরাহসহ ইজতেমা চলাকালে ২০টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে দিন-রাত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমসহ অন্যান্য স্থানে অস্থায়ীভাবে খুঁটি স্থাপনের মাধ্যমে ৪শ’টি বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করা, তুরাগ নদীতে নিরাপত্তার জন্য টঙ্গী ব্রিজ ও কামারপাড়া ব্রিজের নীচে দুই পার্শ্বে বাঁশ দিয়ে ২টি বেষ্টনী নির্মাণ করা হয়েছে।