আজ বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাত

215
World Muslim
আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্ব

ঢাকা, রবিবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৭ : আজ ২২ জানুয়ারী রবিবার আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে  বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্ব। একইসাথে শেষ হবে ২০১৭ সালের ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা ।বেলা ১১টা থেকে পৌনে ১২টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত শুরু হবে বলে জানা গেছে। এবারের বিশ্ব ইজতেমায় দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ-মুসল্লি অংশ গ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমার, প্রথম দিন শুক্রবার হওয়ায় ইজতেমা ময়দানে পবিত্র জুমা’র নামাজ অনুষ্টিত হয়। পবিত্র জুমা’র নামাজে দেশী-বিদেশী কয়েকলাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিসহ অংশ গ্রহণ করেন। লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণ ইতোমধ্যে ইজতেমাস্থলে এসেছেন এবং আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে আরো হাজার হাজার মুসুল্লি রেলপথ, সড়ক পথ, নৌপথ এবং অনেকে পায়ে হেঁটে ইজতেমাস্থলে এসেছেন ।

World-Ijtema
বিশ্ব ইজতেমায় দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ-মুসল্লি অংশ গ্রহণ করেছেন।

গত বছর ১৮ হাজার বিদেশী ধর্মপ্রাণ-মুসল্লি অংশ নিয়েছিলেন।বিদেশী তাবলীগ জামাতের জন্য আলাদভাবে যে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে তা ইতোমধ্যে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। মুসল্লিদের সমাগম বেশি হওয়ায় এবছর দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩২ জেলা এবং আগামী বছর অপর ৩২ জেলার মুসল্লিরা বিশ্ব-ইজতেমায় অংশগ্রহন করেন। দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেয়া ১৬টি জেলার মুসল্লিরা টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। অনেক মুসল্লি ময়দানের ভেতরে নিজ-নিজ খিত্তায় গিয়ে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। টঙ্গী ইজতেমা মাঠে সুবিশাল চটের তৈরী প্যান্ডেলের নিচে দেশী-বিদেশী ধর্মপ্রাণ মুসলিল্লদের আগমন বেড়েই চলেছে। প্রথম পর্বের তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমায় ১৭টি জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।আর দ্বিতীয় পর্বে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৬টি জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় পর্বে রাজধানী ঢাকা সহ যে সব জেলার মুসল্লিরা অংশ নেন, তারা হলেন- চাঁদপুর, নোয়াখলী, পাবনা, নওগাঁ, কিশোরগঞ্জ, কক্রবাজার, বাগেরহাঁট, কুষ্টিয়া, বরগুনা, বরিশাল, হবিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ি, মেহেরপুর, লালমনিরহাট ও দিনাজপুর।

RAB surveillance Ijtema
বিশ্ব ইজতেমায় র‌্যাবের নজরদারী

ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের চৌরাস্তা পর্যন্ত দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। রাস্তায় পার্কিং করা গাড়িসমূহঅপসারণ, ধূলাবালী নিয়ন্ত্রণের জন্য সার্বক্ষণিক পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে দেয়ালের অশ্লীল পোস্টার অপসারণ ও সিনেমা হলসমূহ সম্পূর্ণ বন্ধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ৬টি টেলিফোন লাইন ও কয়েকটি হট লাইন স্থাপন, বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য কন্ট্রোল রুমের সামনে ৫৪টি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। র‌্যাব,পুলিশ,ডিবিসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্য ইজতেমা মাঠে ও আশেপাশে দায়িত্ব পালন করছেন।। ইজতেমা আয়োজকরা জানান, বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি পৃথক কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে। ইজতেমায় আগত দেশী-বিদেশী মুসল্লীদের স্বাগত জানিয়ে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে, নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরাসহ র‌্যাবের ৯টি ও পুলিশের ৫টিসহ মোট ১৪টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। ইজতেমা কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক ৭০ ড্রাম ব্লিচিং পাউডার সরবরাহসহ ইজতেমা চলাকালে ২০টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে দিন-রাত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমসহ অন্যান্য স্থানে অস্থায়ীভাবে খুঁটি স্থাপনের মাধ্যমে ৪শ’টি বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করা, তুরাগ নদীতে নিরাপত্তার জন্য টঙ্গী ব্রিজ ও কামারপাড়া ব্রিজের নীচে দুই পার্শ্বে বাঁশ দিয়ে ২টি বেষ্টনী নির্মাণ করা হয়েছে।