আইসিসি ট্রফির সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

115
ICC Trophy Bangladesh
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অস্টম আসরের সেমিফাইনালের খেলা নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।
বার্মিংহাম,রবিবার ১১ জুন, ২০১৭:আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অস্টম আসরের সেমিফাইনালের খেলা নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। গতকাল টুর্নামেন্টের দশম ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে বৃষ্টি আইনে ৪০ রানে হেরে যায় অস্ট্রেলিয়া। তাই ৩ খেলায় এক জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথমবারের মত সেমিফাইনাল খেলা নিশ্চিত করল মাশরাফির দল। ৩ খেলায় ২টি পরিত্যক্ত ও ১টি হারের ২ পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয়স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলো অস্ট্রেলিয়া। আর গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।
সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবার পরও, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বেশ পরিকল্পনা নিয়ে খেলতে নামে ইংল্যান্ড। টস জয়ের পর ইংলিশ অধিনায়ক ইয়োইন মরগানের প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত তেমনই ইঙ্গিত দেয়। আগামী নভেম্বরে অ্যাশেজ শুরুর বেশ আগেভাগেই অস্ট্রেলিয়াকে বড়সড় লজ্জা ফেলার ফন্দি মরগানের। তবে ইংল্যান্ড যাই করুক না কেন, স্বাগতিকদের জয়ই বড় কাম্য ছিল বাংলাদেশের।
তবে এসব কিছু না ভেবে গতকালের ম্যাচ নিয়েই বেশি চিন্তিত ছিল অস্ট্রেলিয়া। তাই দেখেশুনেই শুরুটা করেছিলেন অসি দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ। ৪৪ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন তারা। ২১ রান করে ওয়ার্নারের বিদায়ে প্রথম জুটি ভাঙ্গে অস্ট্রেলিয়া।
এরপর ইংল্যান্ডের উপর আধিপত্য বিস্তার হয়ে খেলেন ফিঞ্চ ও অসি দলপতি স্টিভেন স্মিথ। দ্বিতীয় উইকেটে দু’জনের ৯৩ বলে ৯৬ রানে বড় সংগ্রহে ভিত পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ফিঞ্চকে ব্যক্তিগত ৬৮ রানে থামিয়ে দেন ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। তার ৬৪ বলের ইনিংসে ৮টি চার ছিলো।
ফিঞ্চের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার স্কোর এগিয়েছে স্মিথের ব্যাট চড়ে। তাকে সঙ্গ দেন মইসেস হেনরিকস। তবে ১৭ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। কিছুক্ষণ পর ফিরেন স্মিথও। ৫টি চারে ৭৭ বলে ৫৬ রান করেন অসি দলপতি। এতে খুব বেশি ক্ষতি হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। কারন দলের রানের চাকা ঘুড়িয়েছেন ট্রাভিস হেড ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। পঞ্চম উইকেটে দু’জনের কাছ থেকে দল পায় ৬২ বলে ৫৮ রান।
দলীয় ২৩৯ রানে ম্যাক্সওয়েলকে বিদায় দিয়ে এই জুটি ভাঙ্গেন পেসার মার্ক উড। ২০ রান করেন ম্যাক্সওয়েল। এরপর ২৫ রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। উড ও আদিল রশিদের স্পিন ঘুর্ণিতে ৫ উইকেটে ২৩৯ থেকে ৯ উইকেটে ২৫৪ রানে পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়া। তারপরও ৯ উইকেটে ২৭৭ রানের লড়াকু স্কোর দাঁড় করায় অসিরা। কারন দশম উইকেটে ২০ বলে অবিচ্ছিন্ন ২৩ রানের জুটি গড়েন হেড ও দলের শেষ ব্যাটসম্যান জশ হ্যাজেলউড। ২৩ রানের মধ্যে ২১ রানই ছিলো হেডের। শেষ পর্যন্ত ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৬৪ বলে ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন হেড। ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় নিজের নান্দনিক ইনিংসটি সাজান হেড। ১ রানে অপরাজিত ছিলেন হ্যাজেলউড। ইংল্যান্ডের হয়ে পেসার উড ও লেগ-স্পিনার রশিদ ৪টি করে উইকেট নেন।
টার্গেট পেয়ে জবাব দিতে নেমে মহাবিপদেই পড়ে ইংল্যান্ড। ৮ বলের ব্যবধানে ৬ রানের দুই ওপেনারকে হারায় স্বাগতিকরা। জেসন রয় ৪ রান করে অস্ট্রেলিয়ার বাঁ-হাতি পেসার মিচেল স্টার্কের এবং অ্যালেক্স হেলস শুন্য রানে আরেক পেসার হ্যাজেলউডের শিকার হন।
শুরুর ধাক্কাটা ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন জো রুট ও অধিনায়ক মরাগান। তাই অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের উপর পাল্টা আক্রমন করেন তারা। ফলে বড় জুটির স্বপ্ন দেখছিলো ইংল্যান্ড। কিন্তু ইংলিশদের স্বপ্নে বাঁধ সাধেন হ্যাজেলউড। রুটকে ১৫ রানে থামিয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে খেলায় রাখেন হ্যাজেলউড।
রুটের বিদায়ের পর উইকেটে যান স্টোকস। মরগানের সাথে হাত মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের উপর চড়ে বসেন স্টোকস। ফলে দলের রান ১শ, দেড়শ ছাড়িয়ে এমনকি ২শ’র কাছাকাছি পৌছে যায়। কিন্তু দলীয় ১৯৪ রানে রান আউটের ফাঁেদ পড়েন ৮৭ রানেই থেমে যান মরগান। ৮টি চার ও ৫টি বিশাল ছক্কায় ৮১ বল মোকাবেলায় নিজের সুন্দরতম ইনিংসটি সাজান মরগান। তার বিদায়ে স্টোকসের সাথে গড়ে উঠা ১৫৭ বলে ১৫৯ রানের জুটিও শেষ হয়ে যায়। তাদের এই জুটিতে আগের দিন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের কথা মনে পড়ে ধারাভাষ্যকারদের। বার-বারই তারা বলছিলেন, ‘বাংলাদেশের মত ইংল্যান্ডও মহাবিপদে পড়ার পর ঘুড়ে দাঁড়ালো মরগান-স্টোকসের দুর্দান্ত জুটিতে। যেমনটা গতকাল কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন সাকিব-মাহমুদুল্লাহ।’
মরগান যখন আউট হন তখন ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ১০৯ বলে ৮৪ রান। এরপর সেই কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন করার পথেই হাটচ্ছিলেন স্টোকস ও উইকেটরক্ষক জশ বাটলার। দলকে লক্ষ্যে পৌছিয়ে দিতে গিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির স্বাদ নেন স্টোকস। ৪১তম ওভারের প্রথম বলে ডিপ কভার দিয়ে বাউন্ডারি মেরে তিন অংকে পা দেন স্টোকস। এর ১ বল পরই বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এসময় ইংল্যান্ডের রান ছিলো ৪০ দশমিক ২ ওভারে ৪ উইকেটে ২৪০। তাই বৃষ্টি আইনে ৪০ রানে এগিয়ে ছিলো ইংল্যান্ড।
এরপর বেশ কিছুক্ষন অপেক্ষার পর বৃষ্টি আইনের উপর নির্ভর হয়ে খেলাটি শেষ করেন ম্যাচ পরিচালনাকারীরা। স্টোকস ১৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০৯ বলে ১০২ ও বাটলার ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।বাসস
স্কোর কার্ড::
অস্ট্রেলিয়া ইনিংস:
ডি ওয়ার্নার ক বাটলার ব উড ২১
এ ফিঞ্চ ক মরগান ব স্টোকস ৬৮
এস স্মিথ ক প্লানকেট ব উড ৫৬ এম হেনরিকস ক পালœকেট ব রশিদ ১৭
টি হেড অপরাজিত ৭১
জি ম্যাক্সওয়েল ক রয় ব উড ২০
এম ওয়েড ক এন্ড ব রশিদ ২
এম স্টার্ক ক রুট ব রশিদ ০
পি কামিন্স কএন্ড ব রশিদ ৪
এ জাম্পা ব উড ০
জে হ্যাজেলউড অপরাজিত ১
অতিরিক্ত(লেবা ৮, ও-৮, নোব ১)১৭
মোট (৯ উইকেট, ৫০ ওভার) ২৭৭
উইকেট পতন: ১-৪০, ২-১৩৬, ৩-১৬১, ৪-১৮১, ৫-২৩৯, ৬- ২৪৫, ৭-২৪৫, ৮-২৫৩, ৯-২৫৪
ইংল্যান্ড বোলিং :
বল ৯-১-৬১-০(ও-১),
উড ১০-১-৩৩-৪,
প্লানকেট ৮-০-৪৯-০(নোব-১),
স্টোকস ৮-০-৬১-১(ও-৪),
রশিদ ১০-১-৪১-৪,
আলী ৫-০-২৪-০(ও-২)।
ইংল্যান্ড ব্যাটিং :
রয় এলবিডব্লু ব স্টার্ক ৪
হেলস ক ফিঞ্চ ব হ্যাজেলউড ০
রুট ক ওয়েড ব হ্যাজেলউড ১৫
মরগান রান আউট (জাম্পা) ৮৭
স্টোকস অপরাজিত ১০২
বাটলার অপরাজিত ২৯
অতিরিক্ত (লে বা-২, ও-১) ৩
মোট (৪ উইকেট, ৪০.২ ওভার) ২৪০
উইকেট পতন : ১/৪, ২/৬, ৩/৩৫, ৪/১৯৪।
অস্ট্রেলিয়া বোলিং :
মিচেল স্টার্ক : ১০-০-৫২-১
হ্যাজেলউড : ৯-০-৫০-২
কামিন্স : ৮-১-৫৫-০
হেড : ২-০-৯-০
হেনরিকস : ১-০-৬-০
জাম্পা : ৮.২-০-৫২-০
ম্যাক্সওয়েল ২-০-১৪-০
ফল : ইংল্যান্ড বৃষ্টি আইনে ৪০ রানে জয়ী।