অস্ট্রেলিয়ায় চার্চে শিশুরা যৌন হয়রানির শিকার

291
Church Australia
অস্ট্রেলিয়ার একটি ক্যাথলিক চার্চ যেখানে হাজার হাজার শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার

ঢাকা,মঙ্গলবার ৭  ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ : অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথলিক চার্চগুলোতে যাজকদের দ্বারা হাজার হাজার শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সিডনিতে ‘রয়্যাল কমিশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ তথ্য প্রকাশ করে । এই ‘রয়্যাল কমিশন’ অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তের জন্য গঠিত একটি কমিশন। রয়্যাল কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয় যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুদের মধ্যে মেয়েদের গড় বয়স সাড়ে ১০ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে সাড়ে ১১ বছর। এক সমীক্ষায় দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ার চার্চগুলোর যাজকদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার শিশুকে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অপর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় দশকে শিশুকামী যাজকদের হাতে দেশটিতে প্রায় চার হাজার ৪৪০ জন শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

Australia Catholic
অস্ট্রেলিয়ার রয়্যাল কমিশনের শুনানিতে দাঁড়িয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত কর্মকর্তারা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৫০ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ক্যাথলিক যাজকরা হাজার হাজার শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছে। আর ১৯৮০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ৪ হাজার ৪৪০ জনেরও বেশি ব্যক্তি যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার দাবি করেছে। এ সব ঘটনায় এক হাজার ৮৮০ জন যাজক জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে কমিশন। আর যাজকদের মধ্যে ৯০ ভাগই পুরুষ এবং ১০ ভাগ নারী। প্রতিবেদনে বলা হয় অস্ট্রেলিয়ার মোট ক্যাথলিক যাজকদের সাত শতাংশই শিশু যৌন নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত।অস্ট্রেলিয়ার যাজকদের বিরুদ্ধে ব্যাপকহারে শিশুকামীতার অভিযোগ তদন্তে ব্যাপক চাপ তৈরি হওয়ায় ২০১২ সালে ঘটনার তদন্ত করতে গঠিত হয়ি এই রয়াল কমিশন।
কমিশনের পক্ষ থেকে প্রথমে যাজকদের কাছে যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদেরর জবানবন্দি নেওয়া হয়। যৌন নিপীড়নের শিকার একজন কমিশনকে জানিয়েছে,তার ক্যাথলিক খ্রিস্টান ব্রাদার শিক্ষক,ক্লাসরুমেই তাকে নির্যাতন করে। ওই সময় ক্লাসরুমে থাকা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অন্যদিকে তাকিয়ে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে অন্য একটি ঘটনায় জানা যায়, একজন যাজক একটি মেয়েকে ছুরি হাতে হুমকি দেন এবং শিশুদের তার দুই পায়ের মাঝখানে ‘নিলডাউন’ করাতেন। পুরা”অস্ট্রেলিয়া জুড়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক হাজারেরও বেশি ক্যাথলিক প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা হয়েছে।”যৌন নিপীড়নের ঘটনাগুলো প্রায় একই রকম। শিশুদের অবজ্ঞা করা হয়েছে বা শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এমনকি সেইসব অভিযোগ নিয়ে কোনও তদন্তও হয়নি এবং যাজক ও ধর্মীয় ব্যক্তিরা নিজেদের পথে এগিয়ে গেছে। গির্জার প্রশাসন বা সমাজ তাদের অতীত সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি।”রয়্যাল কমিশন যৌন নিপীড়নের শিকার কয়েক হাজার ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে ও পুরো অস্ট্রেলিয়াজুড়ে শিশু যৌন নিপীড়নের বিষয়ে চার্চ, এতিমখানা, স্পোর্টিং ক্লাব, তরুণ গ্রুপ এবং স্কুলগুলোতেও শুনানি করে।

Foster kris
ক্রিসি ফস্টার,ও তাঁর দুই মেয়ে ক্যাথলিক চার্চে যাজকদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়

অ্যানথনি এবং ক্রিসি ফস্টার এর দুই মেয়ে ক্যাথলিক চার্চে যাজকদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলে কমিশনকে জানায়। মিসেস ফস্টারের মতে চার্চগুলোতে এরকম অনেক অপরাধী লুকিয়ে আছে।”দীর্ঘ সময় ধরে এরা শিশুদের ওপর যৌন অত্যাচার চালিয়েছে, চার্চ ককনও কোন ব্যবস্থা নেয়নি বা প্রয়োজন বোধ করেনি। বছরের পর বছর ধরে শিশুদের এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে”মিসেস ফস্টার,এবিসি নিউজকে বলেন ।চার্চ কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী ফ্রান্সিস সুলিভান রয়াল কমিশনকে বলেছেন, “শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের যে সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে তা ভয়াবহ, পীড়াদায়ক এবং কোনভাবেই এটি সমর্থন করা যায় না”। মি: সুলিভানের মন্তব্য “এসব ঘটনায় ক্যাথলিক হিসেবে লজ্জায় আমাদের মাথা হেট হয়েছে,আমরা লজ্জিত । অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ ক্যাথলিক যাজক কার্ডিনাল জার্জ পেলকেও এ সকল প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়েছে। তিনি বর্তমানে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সদর দফতর ভ্যাটিকানের অর্থ বিভাগের প্রধান। অস্ট্রেলিয়ায় আর্চ বিশপের দায়িত্ব পালনকালে যে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল তাতে কী পদক্ষেপ নিয়েছে চার্চ কর্তৃপক্ষ-এমন প্রশ্নের মুখেও পড়েছেন তিনি। ভিক্টোরিয়া রাজ্যে ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে যাজকদের বিরুদ্ধে যে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছিল সেটি সামলানোর বিষয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হন এই কার্ডিনাল জার্জ পেল। সূত্রঃ এবিসি নিউজ,বিবিসি